০৫:৩১ এম
রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা ঐতিহ্যবাহী কেডি খাল এখন ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালের সংস্কারের অভাবে খালজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে শুধু মশার উপদ্রব বাড়ছে না, বরং এটি তৈরি করছে চরম জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কোথাও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পানিপ্রবাহ, অন্যদিকে কোথাও আবার জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। খালের দুই পাড় দখল ও ভরাটের কারণে অনেক স্থানে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পণ্য নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে সংস্কারের নামে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার
জানা যায়, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রংপুর নগরীকে রক্ষা করতে প্রায় দেড়শ বছর আগে তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) এই খাল খনন করেছিলেন। এই খালটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চিকলি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। প্রয়োজনে এটি খোকসা ঘাঘট নদীতে গিয়ে মেশে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল এটি, কিন্তু বর্তমানে খালটি যেন দুঃখের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা আক্তার জানান, ‘এই খালের পাড়ে আমার বাড়ি। একবার খনন করার পর খনন করা মাটি খালেই মিশে গেছে। আশপাশের বাড়িগুলোর পায়খানার লাইনের ময়লা এই খালে পড়ছে। মশা-মাছির যন্ত্রণায় দিনের বেলাও বাচ্চাদের মশারির মধ্যে রাখতে হয়। মাঝে মাঝে এত পরিমাণে দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’
অন্য একজন বাসিন্দা আনিস মোল্লা বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ খালটি। তাই পানি কোথাও যাওয়ার উপায় পাচ্ছে না। দুর্গন্ধের কারণে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। শহরের বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি খাল কাজ করে। শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে অনেক মিটিং এবং আন্দোলন হলেও এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। মেয়র আসে-যায় কিন্তু কোনো কাজ হয় না। আমরা চাই শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কেডি খাল দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় শহর গড়ে উঠেছে খালের পাশে। আমাদের শহরে দুটি ঐতিহ্যবাহী খাল রয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেগুলো আশীর্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু
তিনি আরো বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। এসব খাল শুধু খনন করলেই হবে না, খালপাড়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
২০২২ সালে কেডি খাল সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। তবে তার সুফল এখনও নগরবাসী পাচ্ছে না। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, ‘কেডি খাল রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। আমি এটি খনন করে প্রাণ ফেরাতে চেষ্টা করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খালগুলো সংস্কারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছি। এখানে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই।’
আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন