প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লটকন ফল একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ফল, যেটি গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত ফলন আসে। লটকন, যা নটকো নামেও পরিচিত (বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea motleyana), একটি টক মিষ্টি ফল। গাছটি দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়।
অতীতে, লটকন ছিল বাংলাদেশের অপ্রচলিত ফলের মধ্যে। তবে বর্তমানে এই ফলটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। উন্নত জাতের সুস্বাদু লটকনের চাষ বাড়ানোর সাথে সাথে এর জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
লটকন চাষের ক্ষেত্রে নরসিংদীতে ফলন বেশি হলেও সিলেট, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং গাজীপুর জেলাগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। উল্লেখ্য, লটকন চাষাবাদ অত্যন্ত সহজ এবং অল্প যত্নে গাছটি বেড়ে ওঠে। নরসিংদির এক বাগান মালিক জানিয়েছেন, একটি গাছে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ মণ লটকন উৎপাদিত হয়, যা ১২০ টাকা থেকে ২০০+ টাকা দামে বিক্রি করা সম্ভব।
লটকনে রয়েছে বহু ধরনের পুষ্টি উপাদান। এই ফলে পানি, প্রোটিন, আঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান রয়েছে। লটকনে অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং এনজাইম ইত্যাদি উপাদান রয়েছে, যা দেহের গঠন এবং কোষকলার সুস্থতায় সহায়তা করে। এক সময় এই ফলের স্থানীয় লোকজন জংলি ফল বলে ডাকতেন। এই অত্যন্ত পুষ্টিকর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত গুণসমৃদ্ধ ফলের কদর সময়ের সাথে বেড়েছে। ফলস্বরূপ, বর্তমানে এটি দেশের মধ্যে চাহিদা মেটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে রপ্তানিও হচ্ছে।
নরসিংদীতে লটকন চাষের ইতিহাস প্রায় ১২০ বছর পুরনো। শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামে মরহুম হাজি আব্দুল আজিজ লটকন চাষের শুরু করেন। আস্তে আস্তে এটি রায়পুরা এবং বেলাব উপজেলার লাল মাটির এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে নরসিংদীতে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক ফল হিসেবে লটকন গাছও লাগানো হচ্ছে।
লটকনের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। টক-মিষ্টি ও রসালো এই ফলটি খেতে খুব মুখরোচক। ১০০ গ্রাম লটকনে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। একই পরিমাণ লটকনে ভিটামিন সি ১৭৮ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৭৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৬৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১ ১৪.০৪ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন বি-২ শূন্য দশমিক ২০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তা খাওয়া উচিত।
এছাড়াও লটকনের আরও অনেক স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে।
হজমে সহায়ক: লটকনে প্রচুর আঁশ রয়েছে, যা হজমপ্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ: লটকনে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই ফলটি রাখা উচিত।
শরীরে আর্দ্রতা ঠিক রাখে: লটকনে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে ডিহাইড্রেট হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি তৃষ্ণা নিবারণের জন্যও খাওয়া যেতে পারে এবং এটি ভাল নিউট্রিশনাল উপাদানও প্রদান করে।
চর্মরোগ প্রতিকার: শরীরের বিভিন্ন চর্মরোগে লটকন একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই ফলটি খোচপাচড়া, ক্যাবিস, দাদ ইত্যাদির প্রতিকারেও কার্যকর।
সুগারের মাত্রা ঠিক রাখে: লটকন খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, এতে অতিরিক্ত সুগার নেই। তাই যতই খান, শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা নেই।
শরীরে শক্তির উৎস: লটকন ফল শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। এতে পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ এবং প্রোটিন রয়েছে, যা খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বল পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় লটকন রাখলে সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন