০৭:০২ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ এক নেতার ওপর সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর হামলার অভিযোগের কারণে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়াকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নারীঘটিত একটি ইস্যুর কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে যান সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রক্টরের সঙ্গে আনাসের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর তাঁকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
এরপর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে মহসিন আলমের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে প্রক্টর দপ্তরে তলব করা হয়। এ সময়ও আনাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আরও একবার প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁকে মারধর করেন।
এর পর ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রক্টর দপ্তরে আসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে, প্রক্টর পুলিশকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
পরে আনাস প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে কিছু সময় পর বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু ভবনে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের ওপর হঠাৎ হামলা চালান, এই অভিযোগ উঠেছে। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।
হামলার পর উভয়পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে চলে যায়। সেখানে রাকসু নেতারা এবং আনাসের নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে আনাস এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারের রিডিংরুমে আশ্রয় নিলে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে ঢুকে তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এবং জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য আহত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতালে নেয়ার সুযোগ করে দেন প্রক্টর। যদিও অভিযোগ রয়েছে যে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তার ওপর হামলা হয়। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘সেইফ এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ এবং কিছু সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
পরে উপাচার্যের সঙ্গে শিবির, রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মারধরের ঘটনায় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর জোহা চত্ত্বরে নিয়ে পুলিশ ছেড়ে দেয়। সেই ছেলেটি আমি কার্যালয়ে বসার পর গিয়ে হামলা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ২ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আজকের এই পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে। এর দায় অবশ্যই এ দেশের আইন ও প্রশাসনকেই নিতে হবে। রাকসু কার্যালয়ে তাঁদের এক সম্পাদক গুরুতর আহত হয়ে পড়েছেন। হামলাকারী দলের সদস্যরা আচমকা হামলা করে এবং তাঁদের সংখ্যা ছিল ৭, আমাদের ছিল ৩।
সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আজকের মধ্যেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাব।
আরও পড়ুন: বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআইকে প্রত্যাহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন