মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ) সাতক্ষীরা
০৬:৩৮ পি.এম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীর পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার মাধ্যমে এ আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুশরা গ্রুপের অধীনে বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের আওতায় আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখেছেন। তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও অনেক আমানতকারী দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমানতকারীদের মধ্যে মোঃ হাসানুজ্জামান, মোঃ আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগমসহ কয়েক শত গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আমানতকারীদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে যাতে সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সি.এস খতিয়ান ০৫, এস.এ খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ; সাব-রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রি অফিস, কালিগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
ডিসি সাতক্ষীরাকে স্বারক লিপি দেওয়ার সময় ৩ আসনের এম পি হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশারের কাছে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীরা অভিযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, "বিষয়টি আমি দেখবো, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।"
আবেদনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমানতকারীদের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পরবর্তীতে পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাট, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে যতটা না বাস্তব সংকট, তার চেয়ে বেশি রটনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সার বিতরণ ব্যবস্থা গতিশীল করতে প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য সারে প্রচুর পরিমাণে ভর্তুকি দিচ্ছে। সার বিতরণে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতার সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, কোনো অসাধু ডিলার সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মজুদ করা সার উদ্ধার করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সার নিয়ে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের রোগীদের উন্নত খাবার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
এ সময় জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ছয় মাসেই সারাদেশে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার গাছের চারা রোপণ সম্পন্ন করেছে সরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বার্ষিক ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। সরকারি মূল্যায়নে জানা গেছে, গত ছয় মাসে এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বন বিভাগসহ মোট ১১টি সরকারি সংস্থা এই সবুজায়ন উদ্যোগে সরাসরি কাজ করছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাগ্রে রয়েছে বন অধিদপ্তর। সংস্থাটি একা ১ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২টি চারা রোপণ করেছে। তালিকায় এর পরেই রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ; তারা রোপণ করেছে ৭১ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫টি চারা। বাকি চারাগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোপণ করা হয়।
প্রতিটি অঞ্চলের মাটির চরিত্র ও উপযোগী পরিবেশ বিবেচনা করে প্রজাতির গাছ নির্বাচন করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় গর্জন, চাপালিশ, সেগুন ও বাঁশ; উপকূলবর্তী অঞ্চলে ম্যানগ্রোভজাতীয় কেওড়া, বাইন ও ঝাউ এবং হাওর-বিল পরিবেষ্টিত জলাভূমিতে হিজল, কদম ও করচ জাতীয় চারা লাগানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জানান, সরকারি সংস্থার পাশাপাশি এনজিওগুলোর মাধ্যমেও আরও ৪০ লাখ গাছ রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপকূল রক্ষায় ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের আরেকটি স্বতন্ত্র প্রকল্প চূড়ান্তের পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে সারা দেশে আরো সক্রিয় করার লক্ষ্যে সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অর্জনকারী ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে আরো সক্রিয়ভাবে এবং মানসম্মতভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত হবে।
জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের নিজ নিজ জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে থেকে নির্ধারিত বহুসূচক ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে সেরা গ্রাম আদালত পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন।
নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সেরা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা, নারী আবেদনকারীর সংখ্যা, মামলা নিষ্পত্তির হার, সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, ফি ও জরিমানা আদায়ে বিধিবিধান অনুসরণ এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ তহবিল বা অনুদানের যথাযথ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এছাড়া মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি ও লিখিত তথ্য সংরক্ষণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
পরিপত্রে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মাসিক সম্মানি ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পরিপত্রটি পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালের নাগরিক এবং ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক।
বুধবার সকালে তিব্বতের দিক থেকে হঠাৎ করে ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবল স্রোত নেমে এসে রাসুয়ার তিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। বন্যায় বসতবাড়ি, বাজার, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যটন ও ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩৮৪ জনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। তালিকাটি এখনও যাচাই করা হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সংখ্যা বা পরিচয়ের তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই)। এছাড়া তালিকায় যুক্তরাজ্যের ১২, মালয়েশিয়ার ১৭, দক্ষিণ আফ্রিকার চার এবং যুক্তরাষ্ট্রের তিন নাগরিকের নাম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিকও তালিকায় রয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তারা রাসুওয়াগাধি এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
বন্যাকবলিত এলাকাকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা
ভোতে কোশী নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করেছে নেপালের মন্ত্রিসভা। বুধবারের বৈঠকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বন্যার সম্ভাব্য কারণ
বন্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তিব্বত সীমান্তের লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে পানির প্রবাহ আটকে গিয়ে পরে আকস্মিকভাবে তা নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে কোনো হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্তে ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। নিখোঁজদের স্বজনদের বিভ্রান্ত না হয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট, বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ