০৬:৪৫ পি.এম
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালের নাগরিক এবং ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক।
বুধবার সকালে তিব্বতের দিক থেকে হঠাৎ করে ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবল স্রোত নেমে এসে রাসুয়ার তিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। বন্যায় বসতবাড়ি, বাজার, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যটন ও ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩৮৪ জনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। তালিকাটি এখনও যাচাই করা হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে সংখ্যা বা পরিচয়ের তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ২০২৩ সালে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই)। এছাড়া তালিকায় যুক্তরাজ্যের ১২, মালয়েশিয়ার ১৭, দক্ষিণ আফ্রিকার চার এবং যুক্তরাষ্ট্রের তিন নাগরিকের নাম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিকও তালিকায় রয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তারা রাসুওয়াগাধি এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
বন্যাকবলিত এলাকাকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা
ভোতে কোশী নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করেছে নেপালের মন্ত্রিসভা। বুধবারের বৈঠকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
বন্যার সম্ভাব্য কারণ
বন্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তিব্বত সীমান্তের লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে পানির প্রবাহ আটকে গিয়ে পরে আকস্মিকভাবে তা নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে কোনো হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্তে ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। নিখোঁজদের স্বজনদের বিভ্রান্ত না হয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট, বিবিসি।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন