ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধের পরিণতি আগেই আঁচ করেছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড


ইরান যুদ্ধের পরিণতি আগেই আঁচ করেছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড

তুলসী গ্যাবার্ড পূর্বেই ইরান যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে, মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে, তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, ইউএস ইন্টেলিজেন্স সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলে সম্ভবত একটি আরো কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থার সূচনা হবে, যারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী।

 

আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন

মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে গোয়েন্দাদের পূর্বাভাসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উস্কানিতে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, ইরান বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। হামলা করলে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব।

 

এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তির দূত হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হবেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্পের ধারণা ছিল যে, ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব হবে। কিন্তু ছয় মাস পরেও যুদ্ধের সমাপ্তির কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। বরং সময়ের সাথে সাথে মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাসগুলো সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আখতার হোসেন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট

 

এখন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক ভুলের জালে জড়িয়ে পড়ছে।

ট্রাম্প ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্যকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিন আগে, তার তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নগুলো তুলে ধরে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে ইরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে তৎপর হবে। গ্যাবার্ড সতর্ক করেছিলেন যে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা এবং তাদের অংশীদারদের ওপর আঘাত হানার পথ বেছে নেবে, যা মিত্রদের কাছে আমেরিকার সংকল্প ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

ট্রাম্পের অন্যান্য শীর্ষ সামরিক নেতাদের কাছ থেকেও অনুরূপ সতর্কবার্তা তিনি পেয়েছিলেন। তারা তাকে জানিয়েছিলেন যে, একটি যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে, অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে এবং অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা বাহিনীর প্রস্তুতিতে সমস্যা দেখা দেবে।

আরও পড়ুন: লন্ডনে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা, ২০ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান

 

মার্কিন গোয়েন্দাদের সকল সতর্কবার্তা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে।

ইরানে কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। হামলার প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি মারা গেলেও তার ছেলে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন নতুন শাসনব্যবস্থায় নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কোনো পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই, কেবল এই হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে পারাকেই নিজেদের বিজয় হিসেবে মনে করছে, যদিও সেটাও এখন সুদূর পরাহত মনে হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পরিণতি এখন কড়ায় কন্ডায় গুনতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ আমেরিকার গোলাবারুদের মজুদও খালি করে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ফলে ট্রাম্প এখন ইরানের অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দিতে নিষেধাজ্ঞা এবং স্থায়ী অবরোধের ওপর নির্ভর করে একটি 'অপেক্ষা করো এবং দেখো' কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, তার এই কৌশল ইসলামিক শাসনব্যবস্থাকে তার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়তে বাধ্য করবে।

আরও পড়ুন: ডেটা সেন্টার কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে

তবে এই যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেলের মজুদ কমে গেছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসহ ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলছে। ট্রাম্পের আর শান্তির দূত হওয়া হয়নি বরং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের কিছু প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো সহজ চুক্তি পাওয়ার পথ নেই। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক ব্রুয়ার, যিনি ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনেই কাজ করেছেন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘এসব কিছুরই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব ছিল এবং পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল; এই অকাট্য সত্য থেকে শুরু করে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টায় ভুলভাবে পরিচালিত কূটনীতি পর্যন্ত আপনি একটি স্পষ্ট যোগসূত্র খুঁজে পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: কোটি টাকার এস্কাফসহ প্রাইভেট কার জব্দ করল ডিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: কোটি টাকার এস্কাফসহ প্রাইভেট কার জব্দ করল ডিবি

মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষা করার এবং জেলায় মাদক-চোরাচালান নির্মূলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরিচালিত এক অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. ফয়সাল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দক্ষ দল আজ ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ৩:৪০ ঘটিকায় সদর মডেল থানাধীন মহানন্দা সেতুর টোলঘরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় পুলিশ ১,১২৫ (এক হাজার একশত পঁচিশ) বোতল কোডিন ফসফেট মিশ্রিত অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘এস্কাফ’ (ESkuf) সিরাপ উদ্ধার করে এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের টয়োটা প্রাইভেট কার (রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো-গ ১৭-৮৯২৫) জব্দ করে।

ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মোঃ সামি (২১)। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার সোনাপুর (বর্তমান) এলাকার মৃত বদু ও হনুফার ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা পুলিশের আহ্বান:

মাদক ও চোরাচালানমুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশের পাশে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে সাঁতরে উদ্ধার, সেই পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে সাঁতরে উদ্ধার, সেই পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে জীবন বাজি রেখে সাঁতরে উদ্ধার করা পুলিশ সদস্য অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ তাঁর কার্যালয়ে অমিত হাসানের হাতে প্রশংসাপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৪ বছর বয়সী ওই নারী বিবাহিত। পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে ওই নারী শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে এক ব্যাচমেটকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করেন তিনি। পরে একটি নৌকার সহায়তায় তাঁকে নদীর তীরে এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী বলেন, এক নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর কনস্টেবল অমিত হাসান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে লাফিয়ে পড়েন।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান এবং তাঁর চিকিৎসার খোঁজ নেন।

ওই নারীর মা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি আত্মহত্যার উদ্দেশে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমাদের এক পুলিশ সদস্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টায় তাঁকে তাঁর মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ সদস্য অমিত হাসানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনের জীবন রক্ষার ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো জনস্রোত, উৎসবমুখর নগরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে লাখো জনস্রোত, উৎসবমুখর নগরী

চট্টগ্রাম, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম মিলাদ শোভাযাত্রা ‘জশনে জুলুস’। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে উৎসব মুখর বন্দরনগরী। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষের স্রোত নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সমবেত হন। 

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। 

জুলুসে (শোভাযাত্রা) নেতৃত্ব দেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তার সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ। 

জুলুস শুরুর আগে দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। 

পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। 

শোভাযাত্রাটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ ও দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে ছিল মানুষের ঢল। 

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। শান্তি, মানবতা, অহিংসা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে।

জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় সাজানো হয়েছে। 

ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নানা আকৃতির তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়।

এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে এ আয়োজন হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃতির পোশাকের ‘উত্তাপ’ ছড়াল ভারতের রাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


কৃতির পোশাকের ‘উত্তাপ’ ছড়াল ভারতের রাজনীতিতে

একটি জুয়েলারি ব্র্যান্ডের রাখিবন্ধন বিজ্ঞাপনে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের পোশাককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কৃতির একটি ডিপ-নেক ব্লাউজ ও কেপ পরা আইভরি লেহেঙ্গার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। মান্ডির বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত কৃতি স্যাননের ওই পোশাককে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অদ্ভুত’ (ইন্টেনশনালি ক্রিপি) বলে সমালোচনা করেন, আবার নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘অশালীন’ বলেও দাবি তোলেন।

বিতর্কের মুখে পড়ে গত মঙ্গলবার কৃতি স্যানন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, নারীরা কী পরবেন তা ঠিক করে দেওয়া বন্ধ হবে কবে। কৃতি স্যাননের সেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিটি ট্যাগ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন কিংবা কোথায় যাবেন—সেটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব পছন্দ। নারীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও ট্রোলিং বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ (পিতৃতন্ত্রকে ধ্বংস করো) হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করেন।

রাহুলের এই মন্তব্যের পরই কঙ্গনা রানাওয়াত ও বিজেপি শিবির থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। কঙ্গনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে রাহুল গান্ধীর একটি কাল্পনিক ছবির কথোপকথন তুলে ধরা হয়। সেখানে রাহুল গান্ধী এক নারীকে ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বলার বার্তা দিতে দেখা গেলেও, সেই নারী উত্তর দিচ্ছেন— ‘ব্রো, ওয়েট! আগে ভারত মাতা কি জয় বলা শুরু করি।’ এই পোস্টে কঙ্গনা ও বিজেপি সমর্থকরা তুলে ধরেন কীভাবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্যে নারীদের প্রতিনিধিত্বের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণাটকের মতো কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে কোনো নারী মন্ত্রী না থাকা, কর্ণাটক ও হিমাচল প্রদেশে যোগ্য নারী নেতৃত্বের অভাব, নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করা এবং শাহ বানু মামলা থেকে শুরু করে তিন তালাক প্রসঙ্গ তুলে রাহুলের নারী ক্ষমতায়নের সুরকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।

প্রতিবাদের হাওয়া আরও তীব্র করে বিজেপির আরেক সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যখন কংগ্রেস নেতারা স্বয়ং কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, কিংবা হেমা মালিনীকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন, এমনকি অধীর রঞ্জন চৌধুরী যখন ভারতের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন—তখন রাহুল গান্ধী পুরোপুরি নীরব ছিলেন। নিজ দলের নেতাদের এমন আচরণ এবং অতীতে নারী সংরক্ষণ বিলে বাধা সৃষ্টি করার পর রাহুলের মুখে ‘পিতৃতন্ত্র ধ্বংসের’ কথাকে বাঁশুরি স্বরাজ চরম ভণ্ডামি বলে অ্যাখ্যা দেন।

বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল ২২ আগস্ট পুণেতে আয়োজিত ‘ছাত্রদের গূঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য এবং তার পরপরই কৃতি স্যাননের বিজ্ঞাপন ঘিরে। তবে তীব্র জনরোষ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘জিভা’ (GIVA) ইতিমধ্যেই তাদের বিজ্ঞাপনটি তুলে নিয়েছে। সংস্থাটি সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও, একটি ফ্যাশন বিজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হওয়া এই লড়াই এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতির মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%