ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ ১০ মাদক কারবারি গ্রেফতার


রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ ১০ মাদক কারবারি গ্রেফতার

 রাজশাহী নগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ১০ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে আরএমপি বিশেষ মাদকবিরোধী টিম, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বিভিন্ন থানা পুলিশ। অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় আরও দুজন পালিয়ে যান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মতিহার থানা পুলিশের সহায়তায় ধরমপুর নদীর ধার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত আলী হোসেনের ছেলে মীর চাঁদ আলীকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। একই অভিযানে মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে মোঃ হাবিবের (৩০) ফেলে যাওয়া ৩৮০ গ্রাম গাঁজা ও ২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই দিন রাত ৯টার দিকে কাটাখালী থানার শ্যামপুর নগরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১ হাজার ১৫০ টাকাসহ মোসা. মেহেরুন নেছাকে (৬০) গ্রেফতার করা হয়।
রাত সোয়া ১টার দিকে রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর বাকির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সদর আলীর ছেলে মো. রাজিব রহমানকে (৩১) গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ। এ সময় বদরুল ইসলামের ছেলে বাছিরুল (৩৪) পালিয়ে যান।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দামকুড়া থানা পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় জোতরাবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ গ্রাম গাঁজা ও ৫১০ টাকাসহ মোসা. শিল্পি বেগমকে (৩৫) গ্রেফতার করে।
এদিকে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে আরএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী টিম কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় হড়গ্রাম চারখুটার মোড় এলাকায় পৃথক অভিযানে ১০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার ৩৪৯ টাকা সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো: গোলজারবাগ গুড়িপাড়া গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে মোঃ রাজা (৪২), হড়গ্রাম চারখুটার মোড় গ্রামের মৃত হাসানুজ্জামান সুজনের ছেলে মোঃ জুবায়ের (৩৮), মোল্লাপাড়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে মোঃ সেলিম (৪০) এবং রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া গ্রামের মৃত মোস্তাক খান তুষারের ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন (৩২)। গ্রেফতারকৃতদের ব বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


দীঘিনালার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. কামাল হোসেন দীপ্ত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাসুদ রানা, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের পরিবেশ ও আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন সংসদ সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সৎ ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ হুমায়ুন কবির, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


দিরাইয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সৎ ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গ্রিসপ্রবাসী এক ব্যক্তির পাঠানো প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর সৎ ভাই-বোনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জমি কিনে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে এসব টাকা পাঠানোর পর দেশে ফিরে জমি ও টাকার হিসাব না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কাইয়ুম (৪৪)। এ ছাড়া তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন দিরাই উপজেলার দলুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন আগে গ্রিসে পাড়ি জমান আব্দুল কাইয়ুম। বিদেশে অবস্থানকালে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা এবং দেশে জমি কেনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠাতেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর মা জায়েরাবিবির মৃত্যুর পর বাবা আব্দুল খালেক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই সংসারে জন্ম নেওয়া সেনু বেগম, সালেহ আহমদ, অলি আহমদ, রুজিনা বেগম ও আলী হাসান তাঁর সৎ ভাই-বোন। তাঁদের মধ্যে সৎ বোন সেনু বেগমের কাছে তিনি দেশে টাকা পাঠাতেন।

মামলায় সেনু বেগম, তাঁর ভাই সালেহ আহমদ, অলি আহমদ ও আলী হাসান, বোন রুজিনা বেগম এবং সেনু বেগমের স্বামী সুজন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালেহ আহমদ ও সুজন মিয়াকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেন আব্দুল কাইয়ুম। এ ছাড়া অলি আহমদকে কাতারে পাঠাতে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেন তিনি। পাশাপাশি দেশে জমি কেনা এবং দিরাই পৌরশহরে বাড়ি নির্মাণের জন্য জায়গা কেনার আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠান।

বাদীর দাবি, বাংলাদেশ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, দিরাই শাখায় সেনু বেগমের ব্যাংক হিসাব, বিকাশ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এসব টাকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন ২০২৬ দেশে ফিরে নিজের নামে কেনা জমি এবং দিরাই পৌরশহরে বাড়ি নির্মাণের জন্য কেনা জায়গা দেখতে চান আব্দুল কাইয়ুম। একই সঙ্গে জমির দলিলপত্র ও পাঠানো টাকার হিসাব চান তিনি। তবে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও জমির কাগজপত্র কিংবা টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

এ নিয়ে সৎ বোন সেনু বেগম, তাঁর স্বামী ও অন্যদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

আব্দুল কাইয়ুমের দাবি, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তিনি গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্তরা তাতে রাজি হননি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলার সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন তারিক মিয়া, তাজ উদ্দিন ও মনজু মিয়া। তাঁদের সবার বাড়ি দিরাই উপজেলার দলুয়া গ্রামে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সেনু বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁর ভাই তাঁর কাছেই টাকা পাঠাতেন। ভাইয়ের পাঠানো টাকায় তাঁর তিন ভাই প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রবাসে রয়েছেন। এ ছাড়া ভাইয়ের টাকায় তাঁর নামে জমিও কেনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সেনু বেগম আরও বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও বাদী আব্দুল কাইয়ুম তা মেনে নেননি বলে দাবি করেন তিনি।

সিআইডির তদন্ত চলমান

মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), সুনামগঞ্জের সাব-ইন্সপেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সততার সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।”

তবে মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরফ্যাশনে মা ইলিশ পাচারের বড় চেষ্টা ৫ লাখ টাকার বরফসহ ২টি কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোট আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এইচ এম নোমান চরফ্যাশন

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ পি.এম


চরফ্যাশনে মা ইলিশ পাচারের বড় চেষ্টা ৫ লাখ টাকার বরফসহ ২টি কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোট আটক

দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালেই ভোলার চরফ্যাশনে রাতের আঁধারে ইলিশ আহরণ ও পাচারের এক বড় চেষ্টা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পট (মাঝঘাট) এলাকায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের বরফসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান, দুটি ফিশিং বোট ও জাল আটক করা হয়েছে।এরা হলেন শাহাদাত পিতা খালেক বেপারি সাং হাজারিগন্জ ৭নংওয়াড, শাকিল পিতা মোস্তাফিজ সাং হাজারিগন্জ ৭নংওয়াড ,মোহাম্মদ হোসেন পিতা সৈয়দ আহম্মেদ মৃত দৌলতখান থানা ৩ জন মাছ দরতে গিয়ে আটক হয় ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চরফ্যাশনের বাশির দোন এলাকার বজলু মেম্বার নামক এক ব্যক্তির তত্ত¦াবধানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার এবং তা দেশের অন্যত্র পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। এরই অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে যশোর থেকে একটি বড় কারগো ট্রাকে করে লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ বরফ আমদানি করা হয়।সোমবার গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পট এলাকায় বরফ খালাসের সময় স্থানীয় সচেতন জনতার চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জনতা বরফ বোঝাই ট্রাকটি হাতেনাতে অবরুদ্ধ করে শশীভূষণ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ উপজেলার খেজুরগাছিয়া মাঝঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে আনা আনুমানিক ৫ লাখ টাকা মূল্যের বরফসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে। একই সঙ্গে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে ঘাটে রাখা সংশ্লিষ্ট আরও দুটি ফিশিং বোট ও জাল আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।এদিকে একই রাতে উপজেলার পাঁচকপাট স্লুইসগেট ঘাট সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে জালসহ আরও দুটি ফিশিং বোট আটকের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘাট সংলগ্ন নদীতে এখনো জাল ও সরঞ্জামসহ বেশ কিছু মাছ ধরার অবৈধ নৌকা ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা মা ইলিশ রক্ষায় বড় হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে নদীতে ও ঘাটে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পুলিশ-জনতা কাজ করলেও, চরফ্যাশনের মূল মাছ বাজারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশাসনের তদারকির চরম অভাবকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ককশিটের বাক্সে লুকিয়ে চড়া দামে মা ইলিশ বিক্রি করছেন। বাজারগুলোতে নিয়মিত টহল বা অভিযান না থাকায় এই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে চরফ্যাশনের মাছ বাজারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং খেজুর গাছিয়া ঘাটে আটককৃত বরফ ও নৌকার সাথে জড়িত বজলু মেম্বারসহ ইলিশ পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শশীভূষণ থানা পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত বরফ, কাভার্ড ভ্যান ও ফিশিং বোটের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎ছেলের মাদকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাবা, ভ্রাম্যমাণ আদালতে চাইলেন নিজেই শাস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎শাহানুর আলম ​সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


‎ছেলের মাদকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাবা, ভ্রাম্যমাণ আদালতে চাইলেন নিজেই শাস্তি

‎সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ইয়াবা সেবনের দায়ে তোফায়েল মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এই খবরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো—ছেলের মাদকাসক্তির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজ ছেলেই যেন সুপথে আসে, সেজন্য খোদ তার বাবাই ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছিলেন।
‎সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার। দণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল মিয়া ওই গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে।
‎ঘটনার বিবরণ:
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার তোফায়েল মিয়াকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তার বাবা খোকা মিয়া উপস্থিত হয়ে আদালত ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান, তার ছেলেকে যেন কয়েক মাসের জন্য কারাগারে রাখা হয়, যাতে সে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
‎যা বললেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট:
‎ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও সকিনা আক্তার জানান, "মাদকাসক্ত তোফায়েলের যন্ত্রণায় তার পরিবার পুরোপুরি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গ্রামের লোকজন তাকে আটক করার পর তার বাবা নিজেই তাকে কয়েক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
‎মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "মাদক দেশ ও সমাজের শত্রু। মাদকের কারণে তরুণ সমাজের পাশাপাশি বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু মাদকসেবীদের শাস্তি দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যারা মাদক কেনাবেচা করেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"
‎মাদক ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশ:
‎ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড পাওয়ার পর তোফায়েল মিয়া দাবি করেন, তিনি একা এই অপরাধে ফেঁসে যাবেন না; যারা তাকে মাদকাসক্ত বানিয়েছে এবং এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবার নাম তিনি ফাঁস করে দেবেন।
‎এ সময় তিনি বিচারক ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—বাঘবের গ্রামের কালা মিয়া, সফিক মিয়া, তোতা মিয়া, তাজ্জুদ আলী, শাহাব উদ্দিন; একই এলাকার আকতাপাড়া গ্রামের এরশাদ মিয়া এবং রতারগাঁও গ্রামের হামিদ মিয়া।
‎পুলিশের বক্তব্য:
‎বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ উল্লাহ ভুইঁয়া বলেন, "মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তোফায়েল নামের এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি থানা হাজতে আছেন এবং তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে যার জড়িত থাকারই অভিযোগ পাওয়া যাক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%