বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:০৫ পি.এম
চট্টগ্রামে টানা পাঁচ দিনের ভারি বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ উপজেলা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করে উদ্ধার ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘দুর্যোগের এই সময়ে মানুষের জীবন রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ তিনি অকপটে জানিয়ে দেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচতনতার কারণেও ঝরে না পড়ে। সবাইকে অনুরোধ করব, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।’
তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে, এবং সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন।’
উদ্ধার কার্যক্রমকে দ্রুততর করার জন্য জেলা প্রশাসক সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দি মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ আরো কার্যকর হবে, আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, ইফসা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জেলা প্রশাসক পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিল সহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’
বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো মানুষ অভুক্ত না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
শেষে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাবিত জনপদের বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
তিনি জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, কিছু বিশেষ মহল মীর শাহে আলমকে কেন্দ্র করে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার ফন্দি করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, যে সক্রিয় মহল সুকৌশলে মীর শাহে আলমকে ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং তা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপকর্ম করছে।
রাশেদ খান ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু বিবেচনায় অনেকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি বিভিন্ন টকশোতে বিরোধী পক্ষের মুখ থেকে এটাই শুনেছি যে, জনাব মীর শাহে আলম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বন্ধু! বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউশনে ছিলাম।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, গতকাল মীর শাহে আলম বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে বয়সে অনেক ছোট এবং কখনও একই স্কুল-কলেজে পড়েননি। তাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সূত্রে গড়ে ওঠেছে।
উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়েও রাশেদ খান মন্তব্য করেন, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে মীর শাহে আলম সমস্ত বরাদ্দ বগুড়ায় নিয়ে গেছেন। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) থেকে উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় গোপালগঞ্জ ৭ নম্বরে এবং বগুড়া ১৬ নম্বরে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার (প্রতিমন্ত্রী) কোনো ভুল থাকলে আমরা অবশ্যই সেই সমালোচনা করব। কিন্তু সম্মিলিত মিথ্যাচারের পেছনে নিশ্চিত কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে।’
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রাশেদ খান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নের জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাথে সমন্বয় সভা করেছেন এবং বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীরাও মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিনি জানান, মাসখানেক আগে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না’, মূলত সেই ক্ষোভ এবং বর্তমান বিরোধী দলের রাজনৈতিক কৌশল– উভয়ই মীর শাহে আলমকে টার্গেট করার পেছনে কাজ করছে।
রাশেদ খানের মতে, ‘তাদের (একটি মহলের) চিন্তা হলো মীর শাহে আলমকে বিতর্কিত করতে পারলে বুঝি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার মিশন সফল হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের সময় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস. এম. সাইফুল ইসলাম ও এস. এম. আশরাফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুল ইসলাম, এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হবে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এই বাস্তবতায় জনদুর্ভোগ কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে পুনরায় ফুটপাত দখল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দিল্লি, নিউইয়র্ক, লন্ডন, জেনেভাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মিশনে বড় ধরনের রদবদল সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চেঞ্জ হবে, রদবদল হবে, নতুন লোক আসবে। এটি তো চলমান প্রক্রিয়া। এটি তো কোনো নতুন বিষয় নয়। যখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্টেটমেন্ট যাবে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ হবে, তখনই আপনারা জানতে পারবেন কেন, কোথায়, কীভাবে এবং কোন কারণে রদবদল হচ্ছে। কিন্তু এটি চলছে।
এই রদবদলের পেছনে বিএনপি করা বা না করার কোনো বিষয় জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, না, বিএনপি করা অথবা কোনো বিষয় নয়। তবে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে, যদি আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাজগুলো ফলো করেন, তার সিদ্ধান্তগুলো ফলো করেন— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে তিনি কাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ হলে, দক্ষতাকে (এফিশিয়েন্সিকে) গুরুত্ব দেন। কে কতটুকু কাজে পারদর্শী, কে কতটুকু আন্তরিকভাবে দেশের জন্য কাজ করতে পারছে, দেশের প্রতি কার আন্তরিকতা আছে, সেটাই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচনার বিষয়।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি আন্তরিকতা, কাজের প্রতি ডেডিকেশন (উৎসর্গ) এবং এফিসিয়েন্সি— এগুলোর বিচারেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে আমাদের রদবদল হয়। এটি চলমান প্রক্রিয়া; যখন ফাইনাল হবে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাজেট প্রকাশ হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
সৌদি আরবকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই রিয়াদ এয়ারের মূল লক্ষ্য।
রিয়াদ এয়ারের এই নতুন সার্ভিস ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে।
বাণিজ্য ও অবকাশ, উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আগামী ৭ আগস্ট থেকে রিয়াদ এয়ারের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
রিয়াদ থেকে ঢাকা (স্থানীয় সময়ে)–রিয়াদ থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রিয়াদ (স্থানীয় সময়ে)–ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং রিয়াদ পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এই শক্তিশালী অংশীদারি এখন ভ্রমণ ও অবকাশের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটে এই প্রিমিয়াম সার্ভিস সেই যাত্রাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে।
সৌদি আরবের রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রিয়াদ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ, আধুনিক অভিজ্ঞতা, বিনোদনকেন্দ্র এবং প্রগতিশীল অর্থনীতির এক নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। সরাসরি যাতায়াত করতে পারলে বাংলাদেশি যাত্রীরা আন্তর্জাতিক মানের লাইফস্টাইল ইভেন্ট, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি সহজেই উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবেও কাজ করবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার পার্টনারশিপের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে।
রিয়াদ এয়ার অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা পছন্দের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে।
যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’ এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন এবং প্রথম ফ্লাইট থেকেই সেরা অফারের গ্যারান্টি, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পেতে পারেন।
রিয়াদ এয়ারের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে ‘বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি’ এই চারটি ক্লাস রয়েছে, যেখানে যাত্রীরা আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিটি ক্লাসে প্রতিটি সিটের সঙ্গেই আছে ব্লুটুথ অডিও ও হেডফোন জ্যাক। বিজনেস এলিট ও বিজনেস ক্লাসে আছে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড আসন (১-২-১ বিন্যাস), এসি পাওয়ার, ইউএসবি-সি ও ইউএসবি-এ চার্জিং, হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড সিস্টেম, যা সরাসরি হেডরেস্টে সাউন্ড পোঁছাবে।
প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (২-৩-২ বিন্যাস), প্রাইভেসি হেডরেস্ট উইং, বাড়তি স্টোরেজ, চারটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট।
ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (৩-৩-৩ বিন্যাস), সিক্স-ওয়ে অ্যাডজাস্টেবল হেডরেস্ট, দুটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট।
আরো আছে, প্যানাসোনিক অ্যাভিওনিক্সের অ্যাস্ট্রোভা সিস্টেম, যেখানে যাত্রীরা ৫০০ এরও বেশি মুভি, ৬০০ এরও বেশি টিভি সিরিজ এবং ১০০০টি অডিও অ্যালবাম ও প্লে-লিস্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সকল যাত্রীরা পাবেন সৌদি-নির্মিত কায়ানি ইন-ফ্লাইট প্রোডাক্টস। শিশুদেরদের জন্য থাকবে বেস্পোক ডিজনি অ্যামেনিটি কিটস।
এই রুটের অন্যতম আকর্ষণ ‘স্ফিয়ার’ লয়্যালটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের বিশেষ সুবিধাগুলো হল- পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ থাকবে না, বন্ধু বা পরিবারের যে কারো সঙ্গে পয়েন্ট শেয়ার, ফ্লাইটে ফ্রি ওয়াই-ফাই, গেমিফাইড চ্যালেঞ্জ ও লিডারবোর্ড, নতুন রুটে দ্রুত অ্যাক্সেসসহ ‘দ্য ফাউন্ডার্স’ ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ