ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বরিশালের বাবুগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


বরিশালের বাবুগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি পরিদর্শনকালে দুর্গম জঙ্গলে পরিচালিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ঘুরে দেখেন।

সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় অবস্থিত মহড়াস্থলে পৌঁছে যান। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলের মধ্যে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গৃহীত প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন: আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, কৌশলগত চলাচল, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা অনুশীলনসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেন।

আরও পড়ুন: সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।

তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে সময় কাটান এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোমের আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাঁকে পরিবেশন করা হয়।

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি নির্ভরযোগ্য ও গৌরবময় প্রতিষ্ঠান।"

আরও পড়ুন: দেশে আদৌ কোনো সরকার আছে কি না, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

"জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"

তিনি বলেন, "সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও মর্যাদা সৃষ্টি করেছে।"

এই মর্যাদা অটুট রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছি। ফলে সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে।"

আরও পড়ুন: জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়ে জাতি নতুন পথের দিশা পায়: রিজভী

তিনি আশা প্রকাশ করেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে।"

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: আইসিএও অডিট টিমের প্রশংসা, বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএমএফ প্রতিনিধির সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


আইএমএফ প্রতিনিধির সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেল বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, পে স্কেলের বিষয়টি নিয়ে আজকের বৈঠকে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তবে পূর্ববর্তী অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, নতুন ঋণ কর্মসূচিতে প্রবেশ করার জন্য আইএমএফ যে শর্তসাপেক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলোকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, আর্থিক খাতে সংস্কার, কর আয় বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে সব কিছু নিয়েই আইএমএফ সন্তুষ্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুজিববর্ষের ৪ হাজার কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগে নথিপত্র হাতে পেয়েছে দুদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


মুজিববর্ষের ৪ হাজার কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগে নথিপত্র হাতে পেয়েছে দুদক

মুজিববর্ষে চার হাজার কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগে নথিপত্র দুদকের হাতে এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষ হলে একাধিক মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, বিশেষ গুরুত্বের সাথে দুদকসহ সরকারি সংস্থাগুলো মুজিববর্ষের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করছে।

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপন এবং সারাদেশে ১০ হাজারের অধিক ম্যুরাল-ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ করেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। দুদক বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানাসহ অন্যরা শতবর্ষ পালনের নামে রাষ্ট্রের চার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুসন্ধানে নেমে নথিপত্র চেয়ে ৬৪ জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদকের ৭ সদস্যের অনুসন্ধানকারী দল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বেতনের সামনের ম্যুরালের তথ্যসহ একাধিক নথিপত্র সংস্থার কাছে পৌঁছেছে।

দুদক জানিয়েছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় দুদকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ এবং সিআইডির সমন্বয়ে অনুসন্ধানী দল কাজ করছে। এর আগে, সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে গত রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মুজিববর্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি তৈরি, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতেই ৯৮২ কোটি টাকার অধিক ব্যয় হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের অনুরোধে থামল প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর, তুললেন সেলফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


শিক্ষার্থীদের অনুরোধে থামল প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর, তুললেন সেলফি

শিক্ষার্থীদের জন্য আবারো অনন্য মমতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। গাড়ি বহর থামিয়ে তিনি একদল স্কুল শিক্ষার্থীর আবদার পূরণ করেন এবং তাদের সাথে সেলফিতে বন্দি হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে এই ঘটনাটির একটি ভিডিও ও ছবি ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে জানা গেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্ধারিত পথ ধরে যাচ্ছেলেন, তখন সড়কের পাশে একদল শিক্ষার্থী তাঁকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল। গাড়ি বহর যখন কাছাকাছি আসে, তখন শিক্ষার্থীরা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায় এবং ছবি তোলার আকুতি করে। শিক্ষার্থীদের মুখচ্ছবির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর চলন্ত গাড়ি বহর থামাতে নির্দেশ দেন।

গাড়ি থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানালা খুলে শিক্ষার্থীদের কাছে ডাকেন এবং হাসিমুখে তাদের সাথে সেলফি তোলেন। দেশের সরকার প্রধানকে এত কাছ থেকে পেয়ে এবং তাঁর সাথে ছবি তুলতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে।

এদিকে, অন্য এক কর্মসূচিতে বরিশাল ক্যাডেট কলেজের সামনে অবস্থিত শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। ক্রীড়া সামগ্রী হাতে পেয়ে শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুুর্নীতির অভিযোগ, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাহামুদ খান সুমন

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুুর্নীতির অভিযোগ, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন?


 সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি। ফলে এ খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

সম্প্রতি সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে ঘিরে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক প্রভাব, কমিশন গ্রহণ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিবেশ তৈরি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের কারিগরি শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হতো যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়।

সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী, সব সরকারি ক্রয় প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ হওয়ার কথা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং ই-জিপি রেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সওজের একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের আগে কমিশন দেওয়ার চাপ থাকত। অভিযোগকারীদের দাবি, কমিশন ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের অগ্রগতি ব্যাহত হতো।


নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ> কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে অনেক সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রকল্পের পরিমাপ বই (Measurement Book), ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট, গুণগত মান পরীক্ষার নথি এবং অডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, গত এক দশকে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব সম্পদের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবনের বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং সম্ভাব্য বিদেশি সম্পদের বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এ ছাড়ও কিছু অভিযোগপত্রে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট, উন্মুক্ত দরপত্র, ডিজিটাল নজরদারি এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাও বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%