ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে অবৈধভাবে যাওয়ার সময় দুই বাংলাদেশি আটক


ভারতে অবৈধভাবে যাওয়ার সময় দুই বাংলাদেশি আটক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি। এর আগে, গত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বুরুংগা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার জহরচাঙ্গা গ্রামে বসবাসকারী মিজানুর রহমানের ছেলে মো. সামিউল হক (২৪) এবং তার বোন মোছা. রাবিয়া খাতুন (৩৬)।

আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ওএসডি হয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার

বিজিবি জানায়, গত রাতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির আওতায় বারোমারী বিওপির একটি টহল দল সুবেদার মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এই সময় সীমান্ত পিলার ১১১২ এর নিকট থেকে প্রায় এক হাজার গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বুরুংগা এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দুই বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বিজিবি বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে তাদের হস্তান্তর করেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং যাতায়াত রোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নালিতাবাড়ী থানার এসআই হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের শেরপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের খারগ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাম্প কেন সেখানে হামলা করতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


ইরানের খারগ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাম্প কেন সেখানে হামলা করতে চান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো ‘দখল’ করবে। এজন্য বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানে কঠোর আঘাত করবে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে, আমরা খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো দখল করে নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব।’

কিন্তু খারগ দ্বীপটি আসলে কী — এবং ট্রাম্প কেন এটি ‘দখল’ করতে চান?

ইরানের উপকূলের এই প্রবাল দ্বীপটি তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন, যা সাধারণত দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।

ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আকারের এই দ্বীপটিকে মার্কিন কর্মকর্তা ‘ইরানের সমস্ত তেল সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর দীর্ঘ জেটিগুলো দ্বীপের চারপাশের জলে প্রসারিত, যা তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ধারণ করার মতো যথেষ্ট গভীর, ফলে দ্বীপটি তেল বিতরণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

সিএনএন এর আগে জানিয়েছে যে, কর্মকর্তারা খারগ দ্বীপ দখল করা অথবা এর তেল অবকাঠামো কার্যকরভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে বোমা হামলার অনুমোদন দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করেছেন। প্রশাসন প্রণালীটির নিকটবর্তী অন্যান্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখল করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে, যা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন যে দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যাবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিলে বলেছিল যে তারা এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যদিও সেই হামলায় কোনো তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল না।

এদিকে, ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে খারগ তার অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে নেই। কিন্তু তার নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দশক আগে, ১৯৮৮ সাল থেকেই তিনি দ্বীপটি দখলের কথা বলে আসছেন।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে ইরান সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


শরীয়তপুরে ইরান সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

ফিফা বিশ্বকাপ–২০২৬কে সামনে রেখে শরীয়তপুরে এবার দেখা মিলেছে ইরান সমর্থক ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে। এটি শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার এলাকা থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর পর এটি একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও ইরানের পতাকায় সজ্জিত ছিল। সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান এবং মিলনমেলায় পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

এ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের দাবি, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে ইরানের প্রতি তাদের একটি বিশেষ সমর্থন রয়েছে।

আয়োজক মাহাবুব সরদার বলেন, "আমরা অনেকেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থন করি। তবে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি দল হিসেবে ইরানকে নিয়ে আমাদের আলাদা আবেগ রয়েছে। ইরানের ফুটবলের উন্নতি, তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বকাপে ইরানের ভালো পারফরম্যান্স দেখতে চাই।"

এশিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল দল হিসেবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী। তাঁদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ, সংগঠিত দলগত ফুটবল এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণে দলটি বিশ্ব ফুটবলে তাদের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ইরানের নাম।

বিশ্বকাপ–২০২৬-এ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে শরীয়তপুরের ইরান সমর্থকদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শোভাযাত্রা শেষে সমর্থকরা ইরানের সাফল্য কামনা করে বিশ্বকাপজুড়ে দলটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন: বরিশালে ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘরকে জরিমানা, ফুটপাত দখলমুক্তে মোবাইল কোর্টের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন: বরিশালে ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘরকে জরিমানা, ফুটপাত দখলমুক্তে মোবাইল কোর্টের অভিযান

বরিশাল নগরীতে অবৈধভাবে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। অভিযানে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নগরীর ব্যস্ততম ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসাধারণের চলাচলের পথ ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে দখলকৃত ফুটপাত ও প্রবেশপথ উচ্ছেদ করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযানকালে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৩) ধারায় জরিমানা করা হয়।
এদিকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে নগরীর পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘর’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানের সময় খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরিবেশে নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ও পরিলক্ষিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মোবাইল কোর্ট সূত্র আরও জানায়, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনায় উৎসাহিত করতেই নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নগরীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
তানোরে

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙে তৈরি পাঁকা ঘর বরাদ্ধে স্বজন প্রীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙে তৈরি পাঁকা ঘর বরাদ্ধে স্বজন প্রীতি

রাজশাহীর তানোরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫০ টিনের ঘর ভেঙে সেখানে তৈরি করা ৪৩ টি ঘর বরাদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতিসহ আত্নীয় করনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির ভান্ডাইল আশ্রায়ন গুচ্ছো গ্রামে। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির ভান্ডইল মৌজায় ৮০ নম্বর দাগে ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের একটি পুকুরপাড়ের ৮১ নম্বর দাগে প্রায় ৩৮ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তিতে ২০০৭ সালে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় টিনের বেড়া দিয়ে ৫০টি ঘর তৈরী করে স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে দলিল করে বরাদ্দ করা হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে স্থানীয় ৫০টি ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারকে সমিতির গঠনের মাধ্যমে সেখানে বসবাস করার পাশাপাশি ওই পুকুরটিও তাদের জীবিকার জন্য দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২২ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিনের ৫০ টি ঘর ভেঙে সেখানে ৪৩ টি পাঁকা ঘর নির্মাণ করে ৩৯ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হলেও ৪টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আশ্রায়ন প্রকল্পের টিনের ঘরে দলিল মুলে দীর্ঘদিন বসবাস করার পরও পাঁকা ঘর বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আশ্রায়ন প্রকল্পের টিনের ঘরে বসবাস করছেন তাদের বেশীর ভাগ ভূমিহীন দরিদ্রদের বাদ দিয়ে নতুনভাবেও তালিকা করে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার বেশীর ভাগ পেয়েছে আশ্রায়ন প্রকল্পের সমিতির সভাপতি আতিকুল ইসলামের আত্নীয় স্বজন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিনের ঘরে বসবাস করা মৃত শমসের আলীর স্ত্রী সোনাভান (৫৫) নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আতিকুল ইসলামের নিজের বাড়ি থাকার পরও তার স্ত্রী, পুত্র হৃদয়, ২ ভাই শফিকুল ও জহুরুল ইসলাম এবং শ্যালক ও জামাতি মিলে তার প্রায় ২০ জন আত্নীয়ের নামে পাঁকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ আমাকে ঘর দেয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ হওয়ার কারণে তিনি অন্যের জমিতে (কবরস্থান) অস্থায়ীভাবে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন।”

তিনি আরো বলেন, “অন্যের জমিতে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই রোদবৃষ্টিতে দিনযাপন করছি। অন্যরা যখন একই পরিবারে অনেকগুলো ঘর পাচ্ছেন, সেখানে আমার মতো বৃদ্ধার কথা একটি বারও কেউ চিন্তা করল না।”

মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মরিজান বেওয়া বলেন, “আমার নামেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের রেজিস্ট্রি দলিল থাকলেও আমাকেও কোনো ঘর দেয়া হয়নি। অতি কষ্টে আমিও ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি।” তিনি আরো বলেন, “আকতার আলীর পুত্র শাকিল আলী, জামিলুরের পুত্র সারোয়ার, মৃত রহমানের পুত্র সেকেন্দার আলীর নামে পাঁকা ঘরের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো ঘর দেয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “পারুলের বিয়ে হয়েছে উচাডাঙা তার পরেও তার নামে ঘর আছে, আবার রাকিব ও তার মেয়ে রুনার নামে ঘর রয়েছে। অন্যদিকে আকতার বানুর নামের ঘর থাকলেও সেই ঘরে কেউ থাকে না।” সমিতির সদস্য মেছের আলী বলেন, “আমি পাঁকা ঘর পাইনি, তাই রাস্তার ধারে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি। নতুন ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও আত্মীয় পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।”

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের বিশাল পুকুরটি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেই আতিকুল ইসলাম সভাপতি হয়েছেন। ওই পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। আতিকুল ওই পুকুর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের নামমাত্র সুবিধা দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ তার নিজের কাছে রেখেছেন।

পুকুরের আয় ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় তাদের অনেককেই বাদ দিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজনদের নামে নতুন পাঁকা ঘরের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, এসব অনিয়ম নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, ফলে কোন সুরাহা হয়নি। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা ও নতুন ভাবে প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে পাঁকা ঘর বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি আছে সত্যি। তবে, সেটা সরকারি খাস জায়গায়। সরকার যদি কখনো তার বাড়ি ভেঙে দেয় তাহলে কোথায় যাবেন? তাই আমি পাঁকা ঘর নিয়েছি। ওই ঘরে থাকার পাশাপাশি নিজ বাড়িতেও থাকেন।” তিনি বলেন, “আশ্রায়ণের ৩৯টি পরিবার মিলে তারা পুকুর চাষ করছেন, তেমন কোন লাভ হয়না।”

পাঁকা ঘর আপনার আত্মীয় স্বজন বেশীর ভাগ পেয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আশ্রায়ন প্রকল্পের শুরু থেকেই টিনের ঘর থাকা অবস্থায় আমি সমিতির সভাপতি রয়েছি। আমি নামের তালিকা দিয়েছি, বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন, এখানে আমার কি করার আছে জিজ্ঞাসা করে এড়িয়ে যান।”

এবং তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, “যাদের পূর্বের ঘরসহ ৯৯ বছরের লিজ দেওয়া থাকে তাদের নতুন ঘর পাওয়ার কথা। যাদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের বের করে দেয়া বেআইনি হবে। যদি গৃহহীন থেকে থাকে তাদের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%