ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের খারগ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাম্প কেন সেখানে হামলা করতে চান


ইরানের খারগ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাম্প কেন সেখানে হামলা করতে চান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো ‘দখল’ করবে। এজন্য বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানে কঠোর আঘাত করবে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে, আমরা খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো দখল করে নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব।’

কিন্তু খারগ দ্বীপটি আসলে কী — এবং ট্রাম্প কেন এটি ‘দখল’ করতে চান?

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ইরানের উপকূলের এই প্রবাল দ্বীপটি তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন, যা সাধারণত দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।

ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আকারের এই দ্বীপটিকে মার্কিন কর্মকর্তা ‘ইরানের সমস্ত তেল সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর দীর্ঘ জেটিগুলো দ্বীপের চারপাশের জলে প্রসারিত, যা তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ধারণ করার মতো যথেষ্ট গভীর, ফলে দ্বীপটি তেল বিতরণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

সিএনএন এর আগে জানিয়েছে যে, কর্মকর্তারা খারগ দ্বীপ দখল করা অথবা এর তেল অবকাঠামো কার্যকরভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে বোমা হামলার অনুমোদন দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করেছেন। প্রশাসন প্রণালীটির নিকটবর্তী অন্যান্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখল করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে, যা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন যে দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত: তিন মাসে অন্তত ৮,৫০০ হতাহত

এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিলে বলেছিল যে তারা এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যদিও সেই হামলায় কোনো তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল না।

এদিকে, ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে খারগ তার অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে নেই। কিন্তু তার নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দশক আগে, ১৯৮৮ সাল থেকেই তিনি দ্বীপটি দখলের কথা বলে আসছেন।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন: মানুষের হৃদয় ষড়যন্ত্রে জয় করা সম্ভব নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে ইরান সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


শরীয়তপুরে ইরান সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

ফিফা বিশ্বকাপ–২০২৬কে সামনে রেখে শরীয়তপুরে এবার দেখা মিলেছে ইরান সমর্থক ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে। এটি শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার এলাকা থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর পর এটি একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও ইরানের পতাকায় সজ্জিত ছিল। সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান এবং মিলনমেলায় পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

এ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের দাবি, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে ইরানের প্রতি তাদের একটি বিশেষ সমর্থন রয়েছে।

আয়োজক মাহাবুব সরদার বলেন, "আমরা অনেকেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থন করি। তবে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি দল হিসেবে ইরানকে নিয়ে আমাদের আলাদা আবেগ রয়েছে। ইরানের ফুটবলের উন্নতি, তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বকাপে ইরানের ভালো পারফরম্যান্স দেখতে চাই।"

এশিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল দল হিসেবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী। তাঁদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ, সংগঠিত দলগত ফুটবল এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণে দলটি বিশ্ব ফুটবলে তাদের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ইরানের নাম।

বিশ্বকাপ–২০২৬-এ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে শরীয়তপুরের ইরান সমর্থকদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শোভাযাত্রা শেষে সমর্থকরা ইরানের সাফল্য কামনা করে বিশ্বকাপজুড়ে দলটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন: বরিশালে ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘরকে জরিমানা, ফুটপাত দখলমুক্তে মোবাইল কোর্টের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন: বরিশালে ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘরকে জরিমানা, ফুটপাত দখলমুক্তে মোবাইল কোর্টের অভিযান

বরিশাল নগরীতে অবৈধভাবে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। অভিযানে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নগরীর ব্যস্ততম ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসাধারণের চলাচলের পথ ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে দখলকৃত ফুটপাত ও প্রবেশপথ উচ্ছেদ করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযানকালে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৯২(৩) ধারায় জরিমানা করা হয়।
এদিকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে নগরীর পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘মেহেন্দীগঞ্জ দধি ঘর’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানের সময় খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের পরিবেশে নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ও পরিলক্ষিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মোবাইল কোর্ট সূত্র আরও জানায়, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনায় উৎসাহিত করতেই নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে নগরীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
তানোরে

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙে তৈরি পাঁকা ঘর বরাদ্ধে স্বজন প্রীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙে তৈরি পাঁকা ঘর বরাদ্ধে স্বজন প্রীতি

রাজশাহীর তানোরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫০ টিনের ঘর ভেঙে সেখানে তৈরি করা ৪৩ টি ঘর বরাদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতিসহ আত্নীয় করনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির ভান্ডাইল আশ্রায়ন গুচ্ছো গ্রামে। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির ভান্ডইল মৌজায় ৮০ নম্বর দাগে ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের একটি পুকুরপাড়ের ৮১ নম্বর দাগে প্রায় ৩৮ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তিতে ২০০৭ সালে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় টিনের বেড়া দিয়ে ৫০টি ঘর তৈরী করে স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে দলিল করে বরাদ্দ করা হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে স্থানীয় ৫০টি ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারকে সমিতির গঠনের মাধ্যমে সেখানে বসবাস করার পাশাপাশি ওই পুকুরটিও তাদের জীবিকার জন্য দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২২ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিনের ৫০ টি ঘর ভেঙে সেখানে ৪৩ টি পাঁকা ঘর নির্মাণ করে ৩৯ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হলেও ৪টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আশ্রায়ন প্রকল্পের টিনের ঘরে দলিল মুলে দীর্ঘদিন বসবাস করার পরও পাঁকা ঘর বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আশ্রায়ন প্রকল্পের টিনের ঘরে বসবাস করছেন তাদের বেশীর ভাগ ভূমিহীন দরিদ্রদের বাদ দিয়ে নতুনভাবেও তালিকা করে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার বেশীর ভাগ পেয়েছে আশ্রায়ন প্রকল্পের সমিতির সভাপতি আতিকুল ইসলামের আত্নীয় স্বজন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের টিনের ঘরে বসবাস করা মৃত শমসের আলীর স্ত্রী সোনাভান (৫৫) নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আতিকুল ইসলামের নিজের বাড়ি থাকার পরও তার স্ত্রী, পুত্র হৃদয়, ২ ভাই শফিকুল ও জহুরুল ইসলাম এবং শ্যালক ও জামাতি মিলে তার প্রায় ২০ জন আত্নীয়ের নামে পাঁকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ আমাকে ঘর দেয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ হওয়ার কারণে তিনি অন্যের জমিতে (কবরস্থান) অস্থায়ীভাবে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন।”

তিনি আরো বলেন, “অন্যের জমিতে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরেই রোদবৃষ্টিতে দিনযাপন করছি। অন্যরা যখন একই পরিবারে অনেকগুলো ঘর পাচ্ছেন, সেখানে আমার মতো বৃদ্ধার কথা একটি বারও কেউ চিন্তা করল না।”

মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মরিজান বেওয়া বলেন, “আমার নামেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের রেজিস্ট্রি দলিল থাকলেও আমাকেও কোনো ঘর দেয়া হয়নি। অতি কষ্টে আমিও ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি।” তিনি আরো বলেন, “আকতার আলীর পুত্র শাকিল আলী, জামিলুরের পুত্র সারোয়ার, মৃত রহমানের পুত্র সেকেন্দার আলীর নামে পাঁকা ঘরের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো ঘর দেয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “পারুলের বিয়ে হয়েছে উচাডাঙা তার পরেও তার নামে ঘর আছে, আবার রাকিব ও তার মেয়ে রুনার নামে ঘর রয়েছে। অন্যদিকে আকতার বানুর নামের ঘর থাকলেও সেই ঘরে কেউ থাকে না।” সমিতির সদস্য মেছের আলী বলেন, “আমি পাঁকা ঘর পাইনি, তাই রাস্তার ধারে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি। নতুন ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও আত্মীয় পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।”

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৪ দশমিক ১১ একর আয়তনের বিশাল পুকুরটি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেই আতিকুল ইসলাম সভাপতি হয়েছেন। ওই পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। আতিকুল ওই পুকুর নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের নামমাত্র সুবিধা দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ তার নিজের কাছে রেখেছেন।

পুকুরের আয় ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় তাদের অনেককেই বাদ দিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজনদের নামে নতুন পাঁকা ঘরের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, এসব অনিয়ম নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, ফলে কোন সুরাহা হয়নি। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা ও নতুন ভাবে প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে পাঁকা ঘর বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি আছে সত্যি। তবে, সেটা সরকারি খাস জায়গায়। সরকার যদি কখনো তার বাড়ি ভেঙে দেয় তাহলে কোথায় যাবেন? তাই আমি পাঁকা ঘর নিয়েছি। ওই ঘরে থাকার পাশাপাশি নিজ বাড়িতেও থাকেন।” তিনি বলেন, “আশ্রায়ণের ৩৯টি পরিবার মিলে তারা পুকুর চাষ করছেন, তেমন কোন লাভ হয়না।”

পাঁকা ঘর আপনার আত্মীয় স্বজন বেশীর ভাগ পেয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আশ্রায়ন প্রকল্পের শুরু থেকেই টিনের ঘর থাকা অবস্থায় আমি সমিতির সভাপতি রয়েছি। আমি নামের তালিকা দিয়েছি, বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন, এখানে আমার কি করার আছে জিজ্ঞাসা করে এড়িয়ে যান।”

এবং তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, “যাদের পূর্বের ঘরসহ ৯৯ বছরের লিজ দেওয়া থাকে তাদের নতুন ঘর পাওয়ার কথা। যাদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের বের করে দেয়া বেআইনি হবে। যদি গৃহহীন থেকে থাকে তাদের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য একটি পদক্ষেপ। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে জনবান্ধব, জনকল্যাণমুখী ও ভিশনারি বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, 'জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার বহু বছর পর আজ একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে। এই বাজেটে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে; এটাই আমাদের বিশ্বাস।'

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। প্রধানমন্ত্রী মাহী আসাদের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন—এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাজেটে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল, মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। অতীতে বাজেট প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেত, কিন্তু এবারের জনবান্ধব বাজেটে সেই সমস্যা সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাহী আসাদের রূপকল্পের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে আরো সমতাভিত্তিক ও সার্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দিতে হার্ট, কিডনি, চোখসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবাকে যতটা সম্ভব সুলভ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও বীমা সহজলভ্য করা হয়েছে। এছাড়াও, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।

এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান করা এবং কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নতুন থ্রাস্ট সেক্টরকে চিহ্নিত করে বন্ডেড সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হচ্ছে।

এটি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি, তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ঋণ প্রদানে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা, যাতে দেশের জনগণের অর্থ সরাসরি উৎপাদনশীল খাত ও জনসাধারণের উন্নয়নে অধিকতর কাজে লাগে। একই সঙ্গে লেনদেন বৃদ্ধি, ইনফরমাল ইকোনমিকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির একটি টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়, সেটাকে মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

মাহদী আমিন আরো বলেন, সামনের দিনগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে আমরা সবাই যদি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিই, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে এই বাজেট সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে চলমান অভিযাত্রাকে বেগবান করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%