মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৪:১৭ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের পনছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ছোট খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হচ্ছে শতাধিক মানুষকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাঁকোটি পিচ্ছিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পথ চলতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধদের। অনেক সময় সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন বই-খাতা নিয়ে এই সাঁকো পার হতে তাদের আতঙ্ক কাজ করে। বৃষ্টির দিনে অভিভাবকের সহায়তা ছাড়া অনেকেই পার হতে পারে না। নিরাপদ একটি সেতু নির্মাণ হলে বিদ্যালয়ে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলই নিশ্চিত হবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগও অনেক সহজ হবে। এতে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। এলজিইডির কাছে সেতু নির্মাণের আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমেছে, জনগণ সেগুলোর বাজারে প্রতিফলন দেখতে চায়। তাহলেই প্রমাণিত হবে এবারের বাজেট জনবান্ধব।
আজ বুধবার, জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায়, তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণ সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে, কিন্তু সংশোধনের ক্ষেত্রে নয়। তিনি বললেন, দলের স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়। সংস্কার হলে, দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসার আশা রয়েছেন।
বাজেট সম্পর্কে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, এবারের বাজেটের সঙ্গে ধারণা করা সূচকের কিছু তুলনা হয়েছে। বড় বাজেট প্রদান করা অপরাধ নয়; তবে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও দুর্নীতি। এই জায়গাগুলোতে সংস্কার না আনা গেলে, বাজেটের সুফল জনগণ পাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০১৮ ও ২০২২ এর পর আবারও কি ফাইনাল খেলতে চলেছে ফ্রান্স? এই প্রশ্নটি বর্তমানে খুব জোরেশোরেই উঠে আসছে। চলমান বিশ্বকাপে ফ্রান্স যে রকম অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে, তাতে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাদের হাতে শিরোপা তুলে দিতে রাজি অনেকেই। কিন্তু নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে ফ্রান্সের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন স্পেনের তারকা লামিন ইয়ামাল। তার মতে, দিদিয়ের দেশামের ফ্রান্স মোটেও স্পেনের চেয়ে ভালো দল নয়। অন্যদিকে, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপের ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত স্পেনই জিতবে।
বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার মনে করেন, গ্রুপ পর্বে পারফরম্যান্সের তারতম্য থাকলেও স্পেনের সামর্থ্য নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। তার বিশ্বাস, দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরে এসে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে সক্ষম হবে।
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য পাওয়ায় অনেকেই ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন। তবে ইয়ামাল এতে মোটেও বিচলিত নন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ এর ইউরোতে স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। তাই ফরাসিদের অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।
কোপ–এর তিয়েম্পো দে খুয়েগো অনুষ্ঠানে ইয়ামাল বলেন, "এমন কোনো দল নেই, যাকে হারানো অসম্ভব। ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো নয়। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে তারা আমাদের হারাতে পারেনি। এখানে কোনো ফেভারিট নেই। কেউই আমাদের চেয়ে এগিয়ে নয়। কোনো টুর্নামেন্ট শুরু হলে আমি সবসময় ভাবি, আমরাই জিতব। এখন আমার মাথায় একটাই চিন্তা; আমরাই বিশ্বকাপ জিতব।"
মাঠে দুর্দান্ত প্রতিভার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয় দিয়েছেন ইয়ামাল। তিনি জানান, অতীতে চোট পেয়ে কিংবা মাকে কাঁদতে দেখে তিনি কেঁদেছেন। কিন্তু তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জিতলেও তার চোখে পানি আসবে না।
তিনি বলেন, "আমি খুব সহজে আবেগপ্রবণ হই না, কাঁদিও না। চোট পেলে কিংবা মাকে কাঁদতে দেখলে কেঁদেছি। কিন্তু যদি বিশ্বকাপ জিতি, তবুও কাঁদব না। এটা অসম্ভব।"
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি হিসেবে ট্যাটু করাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়ামাল বলেন, "আমি মুসলিম, তাই ট্যাটু করতে পারি না। আর করলেও কারও ছবি ট্যাটু করতাম না।"
উত্তর আমেরিকায় স্পেনের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হলেও ইয়ামালের মতে, আসল লড়াই এখনই শুরু। তার বিশ্বাস, নকআউট পর্বে সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের খেলাও আরও উন্নত হবে।
তিনি বলেন, "অনেকে বলছে আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো শান্ত থাকা এবং আগে ম্যাচ জেতা। এরপর আমাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে। আমরা এখন যে মানের ফুটবল খেলছি, তার চেয়ে অনেক ভালো খেলতে সক্ষম। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়। ভালো খেলতে হবে, জিততেও হবে। আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। গ্রুপ পর্ব এখন আর কোনো গুরুত্ব বহন করে না।"
এখন স্পেন রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। সেই বাধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে স্পেন-ফ্রান্স মহারণ হতে পারে। তখনই হয়তো ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের প্রকৃত পরীক্ষা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রেমিকার মন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক; তবে, প্রেমিকা থেকে মন উঠে যাওয়ার পর তিনি আবারও পুরনো ধর্মে ফিরলেন। আবার একই সঙ্গে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন প্রেমিকা ও তার বাবাকে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শামলি জেলায় এই ঘটনায় জড়িত আছেন আয়ুষ মালিক নামে এক যুবক, যিনি হিন্দু ধর্মের অনুসারী। উত্তরে প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে যে, তিন বছর আগে আয়ুষ মালিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তবে, ধর্মান্তর বিরোধী আইনে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিকার এবং তার বাবার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পায়ে চোট পাওয়া আয়ুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তার পরিচয় হয় চাঁদনি কুরেশি নামে এক ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে। তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে থাকে। এক সময় তারা সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন।
এরপর থেকে চাঁদনির পরিবার আয়ুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। চাঁদনিকে পেতে আয়ুষ এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে রাজি হয়ে যান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে তার পরিবারের সমর্থন ছিল না।
২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবার আয়ুষকে নিয়ে দিল্লিতে যায়। সেই সময় তিনি ধর্মান্তরিত হন এবং তার নাম পরিবর্তন করে মহম্মদ আলি রাখেন। এর পর থেকে তার জীবনধারা বদলে যায়। ইসলাম ধর্মের আদর্শ অনুযায়ী তিনি দাড়ি বড় করে রাখতে শুরু করেন, সাজপোশাক পরিবর্তন করেন এবং নামাজ পড়া শুরু করেন।
কিন্তু তিন বছর পর সম্প্রতি আয়ুষ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য হলো, "আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম; তবে পরিবারের সকলের যন্ত্রণা দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আবার হিন্দু ধর্মে ফিরব। পরিবারের সঙ্গে থাকব।" তিনি চুলদাড়ি কামিয়ে পুজোয় বসে আবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক জানান, তার ছেলে সনাতন ধর্মে ফিরেছেন। দেবরাজের অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদনি এবং তার বাবাকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দেবরাজের অভিযোগ, আয়ুষের ধর্ম পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনা করছিলেন চাঁদনিরা। এজন্য ধর্মান্তর আইনে আপাতত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাকে দেখার জন্য ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল ইসলাম খান ২৫ জুন সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা ফেরেন। তার পরে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সকালে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় তাঁর সঙ্গে শায়রুল কবির খান ছিলেন। শিমুল বিশ্বাস চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যথাযথ তথ্য নিয়েছেন।
শায়রুল কবির খান জানান, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আপাতত নজরুল ইসলাম খানকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ