০৪:২৪ পি.এম
ধর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রেমিকার মন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক; তবে, প্রেমিকা থেকে মন উঠে যাওয়ার পর তিনি আবারও পুরনো ধর্মে ফিরলেন। আবার একই সঙ্গে পুলিশে ধরিয়ে দিলেন প্রেমিকা ও তার বাবাকে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শামলি জেলায় এই ঘটনায় জড়িত আছেন আয়ুষ মালিক নামে এক যুবক, যিনি হিন্দু ধর্মের অনুসারী। উত্তরে প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে যে, তিন বছর আগে আয়ুষ মালিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তবে, ধর্মান্তর বিরোধী আইনে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিকার এবং তার বাবার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পায়ে চোট পাওয়া আয়ুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তার পরিচয় হয় চাঁদনি কুরেশি নামে এক ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে। তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে থাকে। এক সময় তারা সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
এরপর থেকে চাঁদনির পরিবার আয়ুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। চাঁদনিকে পেতে আয়ুষ এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে রাজি হয়ে যান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে তার পরিবারের সমর্থন ছিল না।
২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবার আয়ুষকে নিয়ে দিল্লিতে যায়। সেই সময় তিনি ধর্মান্তরিত হন এবং তার নাম পরিবর্তন করে মহম্মদ আলি রাখেন। এর পর থেকে তার জীবনধারা বদলে যায়। ইসলাম ধর্মের আদর্শ অনুযায়ী তিনি দাড়ি বড় করে রাখতে শুরু করেন, সাজপোশাক পরিবর্তন করেন এবং নামাজ পড়া শুরু করেন।
কিন্তু তিন বছর পর সম্প্রতি আয়ুষ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য হলো, "আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম; তবে পরিবারের সকলের যন্ত্রণা দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আবার হিন্দু ধর্মে ফিরব। পরিবারের সঙ্গে থাকব।" তিনি চুলদাড়ি কামিয়ে পুজোয় বসে আবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক জানান, তার ছেলে সনাতন ধর্মে ফিরেছেন। দেবরাজের অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদনি এবং তার বাবাকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দেবরাজের অভিযোগ, আয়ুষের ধর্ম পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনা করছিলেন চাঁদনিরা। এজন্য ধর্মান্তর আইনে আপাতত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন