ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংবাদমাধ্যমের সংকটের নেপথ্যে সহকর্মীরাই, পেশাগত ঐক্য ভাঙলে দুর্বল হয় সাংবাদিকতা


সংবাদমাধ্যমের সংকটের নেপথ্যে সহকর্মীরাই, পেশাগত ঐক্য ভাঙলে দুর্বল হয় সাংবাদিকতা

সাংবাদিকতার শত্রু শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, প্রভাবশালী মহল কিংবা সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টিকারীরা নন। পেশার ভেতরে যখন ব্যক্তিস্বার্থ, হিংসা, প্রতিহিংসা, অস্বচ্ছতা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা জায়গা করে নেয়, তখন সাংবাদিকতার ভিত্তিও দুর্বল হতে শুরু করে। যে পেশার দায়িত্ব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা, সেই পেশার মানুষদের আচরণেই যদি ন্যায়, সততা ও জবাবদিহির ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ কীভাবে শক্তিশালী হবে?


তবে সাংবাদিকতার সব সংকটের দায় সহকর্মীদের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। কম পারিশ্রমিক, অনিয়মিত সম্মানী, পেশাগত নিরাপত্তার অভাব, রাজনৈতিক চাপ, সংবাদমাধ্যমের আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতা—এসব সমস্যাও সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। সংকট আরও গভীর হয়, যখন এসব বাস্তব সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা পরস্পরকে দুর্বল করার প্রবণতা প্রাধান্য পায়।

প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কি শুধু বাইরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে, নাকি নিজের পেশার ভেতরের অনিয়ম ও অসংগতির বিরুদ্ধেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকতায় প্রতিযোগিতা থাকবে। কে আগে সংবাদ প্রকাশ করবেন, কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করবেন কিংবা কে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করবেন—এসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা পেশার মান বাড়াতে পারে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যখন কাজের মান উন্নয়নের পরিবর্তে সহকর্মীর সাফল্য খাটো করা, যাচাইহীন অভিযোগ ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তখন তা আর সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে না।

একজন সাংবাদিকের ভালো প্রতিবেদন অন্য সাংবাদিকের ব্যর্থতার প্রমাণ নয়। বরং ভালো কাজ থেকে শেখা এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোই হওয়া উচিত পেশাগত প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। সহকর্মীর কাজের ভুল ধরিয়ে দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা হতে হবে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে; ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়।

একই সথে সমালোচনাকে হিংসা বা ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত ভুল, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম নির্ভর করে প্রতিবেদক, বার্তা সম্পাদক, আলোকচিত্রী, অনলাইন ডেস্ক এবং ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের ওপর। দায়িত্ব বণ্টন, সংবাদ যাচাই, প্রকাশনার অনুমোদন, ভুল সংশোধন ও পারিশ্রমিকের নিয়ম স্পষ্ট না থাকলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অস্পষ্ট হলে কিংবা কর্মীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হলে আস্থার সংকট বাড়ার আশঙ্কা থাকে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রত্যাশা এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের মানদণ্ড থাকলে বিরোধ আরও জটিল হতে পারে।

এখানে শুধু সংবাদকর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হবে না; প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকেও নিজেদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীদের কাছ থেকে পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করার পাশাপাশি ন্যায্য কর্মপরিবেশ, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ তৈরি করাও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব।

উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকেরা স্থানীয় অপরাধ, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মানুষের অধিকারসংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাঁদের মাঠে কাজ করতে হয়। যাতায়াত, যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের খরচও কারও কারও জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক চাপ তৈরি করে।

কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব, কাজের মূল্যায়ন, সম্মানী এবং সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম স্পষ্ট না হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের কাছ থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রত্যাশা করা হলে তাঁদের কাজের মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

সংবাদ প্রকাশিত না হলেই যে কোনো প্রতিবেদকের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, জনস্বার্থ, আইনগত ঝুঁকি এবং সম্পাদকীয় নীতি বিবেচনা করতে হয়। তবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশযোগ্য না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে কারণ জানানো এবং ভবিষ্যতে কাজের মান উন্নয়নে সহায়তা করা ভালো পেশাগত চর্চা।


সাংবাদিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর্থিক অনিশ্চয়তা: পর্যাপ্ত ও নিয়মিত আয় না থাকলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব ও সম্মানীর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে তাঁদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: অপরাধ, দুর্নীতি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকি, হয়রানি ও চাপের আশঙ্কা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: দায়িত্ব বণ্টনে অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়।

ডিজিটাল প্রতিযোগিতা: দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্যের বিস্তার এবং বিজ্ঞাপননির্ভর আয়ের অনিশ্চয়তা অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

পেশাগত সম্পর্কের অবনতি: ব্যক্তিগত বিরোধ, যাচাইহীন অভিযোগ এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা সংবাদকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে।

এসব সংকটের সমাধানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংগঠন—তিন পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। শুধু একজনকে দায়ী করে কিংবা শুধু ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক সহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি, আদালতে মামলা


সাংবাদিকদের ঐক্য প্রয়োজন, কিন্তু সেই ঐক্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের নাম নয়। সহকর্মীর অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার পাশে দাঁড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করাও প্রয়োজন।

অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। আবার পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে জবাবদিহির বাইরে রাখার সুযোগও থাকা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং ন্যায্য প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই হওয়া উচিত নীতি।

ঐক্যের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় অন্যায়কে আড়াল করার মধ্যে নয়, বরং ন্যায্যতার প্রশ্নে একসঙ্গে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

সাংবাদিকতার পরিবেশ উন্নত করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

দায়িত্ব ও সম্মানীর লিখিত নীতিমালা: সংবাদমাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব, মূল্যায়নের মানদণ্ড, সম্মানী এবং অর্থ পরিশোধের নিয়ম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বিলম্ব হলে কারণ ও সম্ভাব্য সময়সীমা জানাতে হবে।

নিরপেক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি: অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনা এবং সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা: সংবাদ প্রকাশ, স্থগিত রাখা কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতি অনুসরণ করতে হবে। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নিয়মিত সমন্বয় সভা: সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একবার কাজের সমস্যা, তথ্য যাচাই, দায়িত্ব বণ্টন এবং ভুল সংশোধন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করলে জবাবদিহি বাড়বে।

মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সহায়তা: সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, নিরাপত্তাঝুঁকিতে করণীয় এবং সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাঁদের কাজের মূল্যায়নও নির্ধারিত মানদণ্ডে হওয়া উচিত।

ভুল সংবাদ সংশোধনে দ্রুততা: ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে দ্রুত সংশোধন, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে একই ভুল প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। দায় এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশোধনকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, নৈতিকতা এবং আইনগত ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা: ব্যক্তিগত বা পেশাগত বিরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনা, সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে মধ্যস্থতার নামে কাউকে ন্যায্য অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া উচিত নয়।

সাংবাদিক সংগঠনের জবাবদিহি: সাংবাদিক সংগঠনগুলো সদস্যদের অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের হয়রানি এবং পারিশ্রমিকসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ নিতে পারে। সংগঠনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।


সাংবাদিকতার পরিবেশ উন্নত করতে হলে প্রত্যেককে নিজের ভূমিকা নিয়ে ভাবতে হবে। আমি কি সহকর্মীর সাফল্যকে সম্মান করি? কোনো অভিযোগ করার আগে তার সত্যতা যাচাই করি? মতবিরোধ হলে যুক্তি দিয়ে কথা বলি? নিজের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকি? ভুল হলে তা স্বীকার ও সংশোধন করি?

এসব প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিগত আচরণ উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। কারণ, স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়া শুধু ভালো সম্পর্কের ওপর একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন পরিচালনা করা কঠিন।

সাংবাদিকতার সংকট মোকাবিলায় বাইরের চাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি পেশার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোও স্বীকার করতে হবে। সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে এবং সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু এসবের ভিত্তি হতে হবে তথ্য, পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি।

কোনো সহকর্মীর ভুল তুলে ধরা দায়িত্ব, তাঁর ন্যায্য অধিকার রক্ষা করাও দায়িত্ব। একইভাবে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সংবাদকর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে, অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে স্বচ্ছ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাংবাদিকতার শক্তি শুধু ঐক্যের স্লোগানে নয়; সত্যনিষ্ঠ সংবাদ, স্বাধীন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত, ন্যায্য কর্মপরিবেশ ও জবাবদিহির বাস্তব চর্চায়। লক্ষ্য কাউকে শত্রু বানানো নয়—লক্ষ্য এমন একটি পেশাগত পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে পারবেন এবং নিজেদের পেশার ভেতরেও ন্যায় ও সততার মানদণ্ড বজায় রাখতে পারবেন।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়াফেরত প্রবাসী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে: সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকার খবর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ এম


দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, দেশের স্বার্থে কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "দেশকে বুকে ধারণ করে পথ চলতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো কথা নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় একটাই- বাংলাদেশি।" টুকু বলেন, বিএনপির আদর্শও হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, "যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে জনগণের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।"

তবে তিনি বলেন, "কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমরা যদি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ এম


টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

বলিউডের অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিল্লি ও হরিয়ানা থেকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুনাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) ও বাবিতা (২৩)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুম্বাই পুলিশের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

পুলিশের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুনাল অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুমিত। অন্যদিকে, রাধা ও বাবিতা অস্ত্রটি নিয়ে মুম্বাইয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলে একটি ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান তিন হামলাকারী। পরে সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেফতার তিন হামলাকারী হলেন হরিয়ানার সোনিপতের রেহান ওরফে শুক্কা, বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা এবং মুম্বাইয়ে বসবাসকারী হৃতিক কুর্মি ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ফুল সিং।

মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখা জানিয়েছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউডের অন্য এক প্রভাবশালী তারকা। ওই তারকার কঠোর নিরাপত্তার কারণে তারা তার ওপর হামলা চালাতে পারেননি। পরে টাইগার শ্রফকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য মনে করে তার গাড়িতে গুলি চালান তারা।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ এম


আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলেন, কোনো ভোটব্যাংক না হয়ে। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি না করে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার রাজনীতিতে সরকার বিশ্বাসী নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না। আপনারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। এই দেশের স্বাধীন সব অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনি অধিকার আপনারাও অন্য নাগরিকদের মতো ভোগ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তারা চান না। রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। সংবিধান ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য স্বীকার করে না। সরকার সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি ও উপাসনালয়ের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। কোথাও ধর্মের সংখ্যা বেশি, কোথাও কম। কিন্তু বাংলাদেশে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় না। সবার পরিচয় বাংলাদেশি নাগরিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব পরিচয়কে সম্মান করা প্রয়োজন। তিনি ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী’র পরিবর্তে ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী’ ও ‘বৈদিক’ পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রক্ত দিয়েছেন। একইভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমান থাকবে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশকে ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত নির্বাচনে তাদের অবস্থান সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এখন সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশ গড়তে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭২ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন স্থানে তাদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুঃখ লাগে, আপনারা স্পষ্টভাবে সেই কথাগুলো বলেন না।’ অতীতে যাদের সম্পত্তি দখল হয়েছে, তাদের সে বিষয়ে কথা বলা এবং অধিকার আদায়ের দাবি তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জন্মের আগে ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর দায় বিএনপির ওপর বর্তায় না। তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি অতীতের শাসকদের সমালোচনা করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবেও তা কার্যকর করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব ধর্মের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলেই তাদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চান। এ সময় তিনি উপস্থিত পূজারি, ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ এম


বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়

বার্সেলোনা পিএসজির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। দলের হান্সি ফ্লিকের নেতৃত্বে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি শেষ দিকে আরো দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেছে।

বার্সেলোনার দুর্দান্ত ছুটে চলা থেমে গেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে কাতালানরা।

মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা দারুণ ছন্দে ছিল। কিন্তু প্যারিসে এসে সেই ছন্দ ভেঙে গেছে। শুরু থেকেই পিএসজি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বার্সেলোনার রক্ষণে অগোছালো ভাবের সুযোগ নিয়ে স্বাগতিকেরা প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ডাইভ দিয়েছিলেন গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। যদিও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বলটি পোস্টে লাগে।

ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধে দুই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে হারাতে হয়। পায়ের পেছনের পেশিতে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। এরপর বার্সেলোনার ওলমোও মাঠ ছাড়েন।

দেম্বেলের বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুবারই তাঁকে আটকে দেন গার্সিয়া। ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। একবার প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে। কিন্তু চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

৩৮ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙে। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে পিএসজি বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গার্সিয়াকে ফাঁকি দেন দেজিরে দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ফেরে বার্সেলোনা। কিন্তু ৫০ মিনিটে আবারও গোল বসেছিল তারা। আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল পাঠাতে পারেননি। দারুণ সেভে বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক গার্সিয়া।

বার্সেলোনা সমতায় ফেরে। গোলের নায়ক এমন একজন, যাঁর নাম হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভকে ফাঁকি দিয়ে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর প্রথম গোল।

তবে গোল হজমের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাভির শট আটকে যায়।

৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। কাছ থেকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন ফেরান তোরেস, কিন্তু তাঁর শট লাগে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় পিএসজি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। বাতাসে গর্ডনকে হারিয়ে তাঁর হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া। স্কোরলাইন তখন ২-১।

৭৯ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসা ইয়ামাল বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল তুলে দেন। সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে কাতালানরা।

তবে বার্সেলোনার সমতা ধরে রাখার স্বস্তি মিলিয়ে যায় দ্রুতই। কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে জালে পাঠান ভিতিনিয়া। আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি, স্কোরলাইন ৩-২।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি স্বাগতিকরা। ডান দিক দিয়ে হাকিমির একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বার্সেলোনার রক্ষণ। তাঁর বাড়ানো বলে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে সহজ টোকায় গোল করেন ফাবিয়ান রুইস। পিএসজির ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি থামে বার্সেলোনার টানা ১১ ম্যাচের জয়ের ধারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%