বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৬ পি.এম
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : কোস্ট গার্ড টেকনাফের শাহপরীতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি দল শাহপরী দ্বীপের নাজিরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান একটি বস্তা থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের পৌঁছানোর পথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সড়ক অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ সকাল ৮টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার সম্মুখীন হয়।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাজেক থেকে ফেরত আসা পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রবিক গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘উজোবাজার এলাকায় থেমে থেমে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে। তবে সাজেক থেকে ফেরা পর্যটকরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।’
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের কারণে আজ থেকে রাঙামাটির সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এর ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তবে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, ‘এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। তারা একইসঙ্গে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। যদি কোনো কারণে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ এবং পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করারও দাবি করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশ, ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি। এ কারণে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হতাশা, অনিশ্চয়তা ও শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কার মুখে পড়েছে। তাদের অভিভাবকেরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানে কোনো শিক্ষার্থীর মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দাবি করছেন না। বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি মানবিক, বাস্তবসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রথম দাবি হলো, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে তারা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন।
দ্বিতীয় দাবিতে তারা বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতাসংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দ্রুত প্রকাশের আহ্বান জানান। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করেন তারা।
তৃতীয় দাবিতে পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের বিষয়ে গুরুত্ব দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পান।
চতুর্থ দাবিতে বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
পঞ্চম দাবিতে তারা বিকল্প ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। কোনো অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হলে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি বাস্তবসম্মত সমাধানও বের করা যাবে। তাদের আন্দোলন কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ, শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেন, একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা যেন অযথা থেমে না যায়। তাদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাদের মূল দাবি হলো, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। তা সম্ভব না হলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিকল্প সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ইসলামিক কমিউনিটিতে দীর্ঘ সময় ধরে সেবা প্রদান ও বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ (ওএএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি সন্তান এবং একজন প্রখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ডে উপলক্ষে তার এই সম্মাননার ঘোষণা করা হয়।
গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা ড. শাহজাহান খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করার পর কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডে (ইউএসকিউ) যুক্ত আছেন এবং বর্তমানে সেখানে এমেরিটাস প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্যের পদেও ছিলেন।
একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার টুউম্বা শহরে মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গঠনে এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তার অবদান অনন্য। ১৯৯৪ সালে তিনি ইসলামিক সোসাইটি অব টুউম্বা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১৪ সালে গার্ডেন সিটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। ২০১৫ সালে মসজিদে হামলার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সাহসের সঙ্গে কমিউনিটির নেতৃত্ব দেন এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষা, গবেষণা এবং কমিউনিটি সেবার এই দীর্ঘ যাত্রার স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের গভর্নরস হাউসে কুইন্সল্যান্ডের গভর্নর ড. জ্যানেট ইয়ং তার হাতে এই রাষ্ট্রীয় পদক তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ