প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের পনছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ছোট খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হচ্ছে শতাধিক মানুষকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাঁকোটি পিচ্ছিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই পথ চলতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধদের। অনেক সময় সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন বই-খাতা নিয়ে এই সাঁকো পার হতে তাদের আতঙ্ক কাজ করে। বৃষ্টির দিনে অভিভাবকের সহায়তা ছাড়া অনেকেই পার হতে পারে না। নিরাপদ একটি সেতু নির্মাণ হলে বিদ্যালয়ে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলই নিশ্চিত হবে না, কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগও অনেক সহজ হবে। এতে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। এলজিইডির কাছে সেতু নির্মাণের আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন