ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘ব্যবসায়ীদের সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’


‘ব্যবসায়ীদের সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কৌশল বদলাতে হবে’

দেশের বাজেটের একটি বিশাল অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস সরবরাহে ভর্তুকি দিতে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এখন কৌশল বদলাতে হবে। বাংলাদেশে যদি আর সস্তা গ্যাস না থাকে, তবে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করেই কিভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে।’

বনানীর হোটেল শেরাটনে সোমবার (১৫ জুন) বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এই সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে আহসান খান চৌধুরী বক্তব্য দেন। আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘মোট বাজেটের শতকরা হিসাবে এবার কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। আমরা এখনও কৃষিতে একই ধরনের খরচ করে যাচ্ছি, যার একটি বড় অংশই চলে যায় সার ভর্তুকিতে।

কিন্তু সরকারকে আমরা বারবার বলে আসছি যে, কৃষি মানেই শুধু সার বা বিদ্যুৎ ভর্তুকি নয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন বাজেট কি দেশে ব্যবসা করা সহজ করার কোনো উত্তর দিতে পেরেছে? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই বলেন, ‘আংশিকভাবে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ব্যবসায়ীরা এখনো আগের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে হবে, যাতে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।’

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

বাংলাদেশকে একটি বড় রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। বিষয়টিতে বলেন, চীন থেকে যে বিনিয়োগগুলো অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বাজেটের মূল মনোযোগ সেখানেই হওয়া উচিত ছিল। দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশ এখন ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট কি উত্তর দিয়েছে যে, কিভাবে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে দক্ষ করা যাবে? ফিলিপাইনের একজন কর্মী যে আয় করেন, আমাদের কর্মীরাও কেন তার চেয়ে কম পাবেন? আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রেমিট্যান্সকে ১৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’

গতবারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার আরো বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করায় তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের মতো মানুষদের হয়তো আরো বেশি কর দিতে হবে। তবে জ্বালানি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কিভাবে জিডিপির আকার বড় করা যায়, বাজেটে সেই উত্তর থাকা প্রয়োজন ছিল।’

বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক দিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই সরকার আগের তুলনায় মানুষের কথা বেশি শুনছে। বাজেট ঘোষণার আগে আমরা যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম, তার কিছু প্রতিফলন বাজেটে দেখা গেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া পরামর্শের গুরুত্বও এবার বেড়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরও একজন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তা করা উচিত। আমাদের ব্যবসায়ীদের যখন বিক্রি কমে যায়, তখন আমরা খরচ কমাই, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিই। তখন আমরা আরো বেশি ঋণ নিতে ব্যাংকে যাই না, বা বিদেশ থেকেও ঋণ আনার চেষ্টা করি না।’ গত বছরের মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথায় ভুল ছিল, বাজেট সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে দুদকের মামলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে দুদকের মামলায়

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালত চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। ২১ জুন, রবিবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এসময় দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যরা পরস্পর যোগসাজশ করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে আসামিরা অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেছেন। আসামিরা রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতি সাধন করে বিভিন্ন ধাপে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তারা অবৈধভাবে আদায়কৃত করে ছদ্মাবৃত্ত, হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগে এবং দণ্ডবিধির ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, তৎসহ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অধিকতর তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন। এর আগে গত ২২ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে আটক করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেই সময় থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বলিভিয়ার জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


বলিভিয়ার জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

 বলিভিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ অপসারণের জন্য সেনাবাহিনী ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে।

এসব অবরোধের কারণে দেশের স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এটি নিয়ে খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন ও কোকা চাষিদের গোষ্ঠী দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

এই গোষ্ঠীগুলো শহরের সড়কে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে পাথর, গাছের গুঁড়ি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে।

এসব অবরোধের ফলে দেশের বড় বড় শহরে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

সংকট সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে, শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

জরুরি অবস্থার আওতায় বিক্ষোভ-সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এএফপির সাংবাদিকদের সংবাদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর এল আলতো শহরে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশের বহর দেখা যায়। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।

সেখানে অনেক বাসিন্দাকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে।

এসময় এক ব্যক্তি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা এক পুলিশ অফিসারের হাতে রুটিভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দেন।

এএফপিকে ৩৯ বছর বয়সী দোকানদার কার্লা বুত্রোন বলেন, ‘আমি খুবই খুশি।’

তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এল আলতোতে কাজকর্ম, স্বাভাবিক চলাচল সবকিছুই ব্যাহত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আবারও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আবারও

লেবাননে ইসরাইলি হামলার ফলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সদ্য হওয়া ভঙ্গুর সমঝোতা নতুন সংকটে পড়েছে।

একই সময়ে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসতে রওনা হয়েছেন।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরাইলের চার সেনা নিহত হওয়ার পর, লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর ফলে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে। এরপর শুক্রবার, ওয়াশিংটন নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এটি ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার একটি শর্ত।

কিন্তু শনিবার আবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তি ভঙ্গ’ ও ‘দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ঘোষণা করে, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটও জাহাজগুলোকে ওই জলপথের কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করে। তারা জানায়, সেখানে গেলে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ চলাকালে এটি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনেক বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ার মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তেহরান প্রণালীটি পুনৰায় খুলতে রাজি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

কিন্তু ইরানের নতুন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল এখনো বজায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী সেখানে উপস্থিত এবং সতর্ক অবস্থানে আছে।

পরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, আলোচকরা যদি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তাহলে ওয়াশিংটন নিজস্ব টোল আরোপ করতে পারে।

ট্রুথ সোস্যালে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত না হলে কোনো টোল থাকবে না।’

-সুইজারল্যান্ডমুখী প্রতিনিধিদল-

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার বিকেলে একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, সমঝোতায় অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানাবে ইরান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে, পুরো সমঝোতাই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শনিবার বিকেলে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়েন। তিনি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এক বা দুই দিনের বেশি থাকতে পারব না। আশা করছি, পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি হবে।’

ভ্যান্স আরও বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়েও অগ্রগতি হবে। এ দুটিই আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়। ইরানও নিশ্চয়ই তাদের কিছু বিষয় তুলে ধরবে।

তিনি বলেন, মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন। তারা কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন এবং তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা হবে। এতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

প্রাথমিক সমঝোতায় অমীমাংসিত থেকে যাওয়া বিষয়গুলো, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই মাসব্যাপী আলোচনার সূচনা করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, বিদেশি প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে কাজ করছেন।

-লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন উত্তেজনা-

শনিবারও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চালিয়ে যায়। দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষও অব্যাহত থাকে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা হওয়ার পর এটি পঞ্চম সেনা মৃত্যুর ঘটনা।

পরে এক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধবিরতি মানতে বলা হয়েছে। বাহিনী কোনো আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে না এবং নিরাপত্তা অঞ্চলের ভেতরে শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইসরাইল নাবাতিয়েহ শহরের ওপর নজর রাখা কৌশলগত আলি তাহের পাহাড়ের দিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তাদের যোদ্ধারা ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ দিয়ে জবাব দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির প্রায় ২০টি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। দেশটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাইদনের কাছে এক হামলায় আরও সাত জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। চলমান সংঘাতে মোট মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, শত্রুপক্ষ হামলা চালালে, তার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার দাবি করেছেন যে যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইল শুধুমাত্র সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করছে।

তবে হিজবুল্লাহ বলছে, ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলের। দক্ষিণ লেবাননের তাইর দেব্বা শহর থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাদি জায়াত বলেছেন, ‘পুরো দক্ষিণাঞ্চলে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

৫৩ বছর বয়সী এই বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা গ্রামে ফিরেছিলাম। কিন্তু আবার পালানোর জন্য ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত রেখেছি।’

মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়ে। এর মধ্য দিয়েই সংগঠনটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এপ্রিল মাসে লেবাননে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন একটি যুদ্ধবিরতিও বাস্তবে কখনো কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের কথিত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি

উজানের বৃষ্টি এবং ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের সকল নদ-নদীর পানি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত তিস্তা নদীর পানি বাড়ানোর ফলে বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং দুধকুমার নদ অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক এরশাদ আলী বলেন, গতকাল থেকে ধরলা নদীর পানি বাড়ছে। আমার এক বিঘা জমির সবজিক্ষেতে পানি উঠেছে। যদি পানি আরও বাড়ে, তাহলে আমার সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

একই ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার পটল চাষী আইনুল মিয়া জানান, এক বিঘা জমিতে তিনি পটলের আবাদ করেছেন। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে এবং বাজারও ভালো। তবে বৃষ্টির কারণে ও ধরলার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পটল ক্ষেত নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী পাঁচ দিন জেলার নদ-নদীর পানির আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%