প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বাজেটের একটি বিশাল অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাস সরবরাহে ভর্তুকি দিতে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এখন কৌশল বদলাতে হবে। বাংলাদেশে যদি আর সস্তা গ্যাস না থাকে, তবে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করেই কিভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে।’
বনানীর হোটেল শেরাটনে সোমবার (১৫ জুন) বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এই সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে আহসান খান চৌধুরী বক্তব্য দেন। আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘মোট বাজেটের শতকরা হিসাবে এবার কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। আমরা এখনও কৃষিতে একই ধরনের খরচ করে যাচ্ছি, যার একটি বড় অংশই চলে যায় সার ভর্তুকিতে।
কিন্তু সরকারকে আমরা বারবার বলে আসছি যে, কৃষি মানেই শুধু সার বা বিদ্যুৎ ভর্তুকি নয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন বাজেট কি দেশে ব্যবসা করা সহজ করার কোনো উত্তর দিতে পেরেছে? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজেই বলেন, ‘আংশিকভাবে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ব্যবসায়ীরা এখনো আগের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করতে হবে, যাতে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।’
বাংলাদেশকে একটি বড় রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। বিষয়টিতে বলেন, চীন থেকে যে বিনিয়োগগুলো অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বাজেটের মূল মনোযোগ সেখানেই হওয়া উচিত ছিল। দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশ এখন ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় পাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট কি উত্তর দিয়েছে যে, কিভাবে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে দক্ষ করা যাবে? ফিলিপাইনের একজন কর্মী যে আয় করেন, আমাদের কর্মীরাও কেন তার চেয়ে কম পাবেন? আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রেমিট্যান্সকে ১৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।’
গতবারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার আরো বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করায় তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের মতো মানুষদের হয়তো আরো বেশি কর দিতে হবে। তবে জ্বালানি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে কিভাবে জিডিপির আকার বড় করা যায়, বাজেটে সেই উত্তর থাকা প্রয়োজন ছিল।’
বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক দিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এই সরকার আগের তুলনায় মানুষের কথা বেশি শুনছে। বাজেট ঘোষণার আগে আমরা যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম, তার কিছু প্রতিফলন বাজেটে দেখা গেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া পরামর্শের গুরুত্বও এবার বেড়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরও একজন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তা করা উচিত। আমাদের ব্যবসায়ীদের যখন বিক্রি কমে যায়, তখন আমরা খরচ কমাই, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিই। তখন আমরা আরো বেশি ঋণ নিতে ব্যাংকে যাই না, বা বিদেশ থেকেও ঋণ আনার চেষ্টা করি না।’ গত বছরের মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথায় ভুল ছিল, বাজেট সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন