০৭:০৬ পি.এম
যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই অস্ত্র নয়। এমনকি একটি মোবাইল ফোনের ভিডিওও শত্রুর অত্যন্ত কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এরকম একটি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়েছে যে, কিছু সেনার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রয়টার্সের একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি চিঠিতে সতর্ক করে বলেছিলেন, সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই তারিখে লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এর একটি অনুলিপি রয়টার্সের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চলে একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তবে এই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, অনেক সেনা তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজের নিরাপত্তার তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
সেন্টকমপ্রধান কুপার তার চিঠিতে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ করেন। চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন।
অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এমন ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হচ্ছে, সেটি সব সময় ধরা পড়ার বিষয় নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলো এবং সংবাদ প্রতিবেদনগুলি সেই পরীক্ষার কাজকে সহজ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলি, রানওয়ে বা সামরিক অবকাঠামোর বিশদ তথ্য প্রকাশ পায়, তবে সেটি পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় ইরানের জন্য সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই শত্রুর হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধের উপর প্রশ্ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
অন্যদিকে সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, স্মার্টফোনের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য কিংবা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধুমাত্র অস্ত্রের শক্তি নয়, তথ্যের নিরাপত্তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোন কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের চাইতেও বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন