শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৯ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের অনশন কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে। আটক ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকাল থেকে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত থাকার তথ্য পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। এরপর তারা ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেন। আটককৃতদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ফেরদৌস খান, অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি একরাম গাজী হৃদয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের উপসাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল ইসলাম এবং একই হল শাখার শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন মন্তব্য করেন, "আমরা অনশন কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে পেয়েছি। তারা বিভিন্ন পদে দায়িত্বে ছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে গেছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের এক সদস্য জানান, ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আটক চারজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী নেতা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের শাহবাগ থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীপাবলি উপলক্ষ্যে মুক্তি পাচ্ছে নীতেশ তিওয়ারী পরিচালিত ও রণবীর কাপুর অভিনীত বিগ বাজেটের সিনেমা ‘রামায়ণ’। সিনেমাটি ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
এবার সিনেমাটি শুধুমাত্র প্রেক্ষাগৃহে নয়, বরং ঘরে বসেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতীয় সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা। সম্প্রতি জিওস্টার এবং প্রাইম ফোকাস স্টুডিওর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সাধারণ মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন ফির অন্তর্ভুক্ত থাকবে না সিনেমাটির জন্য। তবে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি স্ট্রিম করতে হলে আলাদা করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, নির্মাতাদের প্রথম লক্ষ্য হল— সিনেমাটির বিশাল ক্যানভাস ও গ্র্যান্ড ভিজ্যুয়াল প্রেক্ষাগৃহের বড়পর্দাতেই তুলে ধরা। তাই দীপাবলিতে বিশ্বজুড়ে মুক্তির মাধ্যমে দর্শকরা প্রথমে সিনেমা হলে গিয়ে এর আসল রোমাঞ্চ উপভোগ করবেন। এরপরেই আসবে ওটিটি স্ট্রিমিংয়ের সুবিধা।
এ প্রসঙ্গে জিওস্টারের চেয়ারপারসন নীতা আম্বানি মন্তব্য করেন, ‘রামায়ণ ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। যুগ যুগ ধরে এ কাহিনি আমাদের নীতি ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে আসছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোণে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
প্রেক্ষাগৃহের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সিনেমার প্রযোজক নমিত মালহোত্রা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ‘রামায়ণ’ সিনেমার অভিজ্ঞতা বড়পর্দাতেই সেরা। কিন্তু আমাদের প্রেক্ষাগৃহের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের সব দর্শকের পক্ষে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না। সেই কারণে ওটিটিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে গৃহকোণে বসেও কেউ এ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত না হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন যে, গত তিন বছরে মার্কিন করদাতাদের ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে নিজেদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তা ইসরায়েলকে দেওয়া হচ্ছে, যা দুই দেশের স্বার্থের অংশীদারির পরিবর্তে অসম সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে। তিনি এই সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সহযোগিতার নয়, বরং পরজীবী সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষক স্টিফেন সেমলারের প্রকাশিত একটি ইনফোগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র আনুমানিক ৬০৯টি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার।
ইনফোগ্রাফিকটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুনে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে এসএম-২, এসএম-৩, এসএম-৬, থাড ও প্যাট্রিয়ট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন সাহেদ। ঘরে ফেরার অপেক্ষা, স্বপ্ন এবং ভালোবাসার কথার মাঝে কে জানত, সেই কথোপকথনের কিছু সময় পরেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে আছড়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ৩৫ বছরের সাহেদ আহমেদ আশিকের জীবন কেড়ে নেবে। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে যাওয়া সাহেদ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন, কিন্তু জীবিত নয়—নিথর মরদেহ হয়ে। তার ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী কাকলী বেগম এবং দুই সন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুরের মাদলা গ্রামের আকাশ-বাতাস।
মরদেহের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছেন সাহেদের স্ত্রী কাকলী বেগম এবং তাদের দুই সন্তান। স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাহেদের দাফন স্থানীয় গোরস্থানে সম্পন্ন হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাহেদ। বিমানবন্দরে নেমে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি। সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই ওই টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ঘটনায় সাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। মুহূর্তের সেই ভয়াবহ ঘটনায় থেমে যায় সাহেদের জীবনযাত্রা, এবং দেশে অপেক্ষমাণ পরিবারের জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।
সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, বিমানবন্দরে নেমে সাহেদ ভাবির সঙ্গে কথা বলেছিল। তার কিছুক্ষণ পরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সব শেষ হয়ে যায়।
সাহেদের মৃত্যুর শোক যেন আরও গভীর হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের দূরে থাকার কারণে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় সাহেদের মা শাহেরা বেগম পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি চার দিন আগে দেশে ফিরে আসেন। যে মায়ের কাছে ছেলের ফিরে আসার আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, সেই মাকেই এখন সন্তানের চিরবিদায়ের শোক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন সাহেদ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাঁর নিজের ঘরেই নেমে এসেছে শোকের মাতম। বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, এবং স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা কাকলী বেগম।
সাহেদের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখের পানি এবং পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা কান্নার মধ্য দিয়ে এখন পুরো গ্রাম শেষ বিদায়ের অপেক্ষায়। যে সাহেদ একদিন পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে দূর দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফেরা হলো না বাসায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাদারীপুর জেলা শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের প্রথম মজলিসে শুরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টায় মাদারীপুর জেলা মডেল মসজিদের অডিটোরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সভাপতি মাওলানা এস এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা জামিল হোসাইন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।
বৈঠকে নতুন সেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে শুরার সদস্যরা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন এবং নির্ধারিত এজেন্ডার বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন।
এ সময় জেলা শাখার সহসভাপতি মুফতি আল আমীন বিএ ওহাব, মুফতী মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশিদ হাওলাদার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলাম শাহীনসহ মজলিসে শুরার অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ