ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসীদের জন্য মালয়েশিয়া দিল বড় সুখবর


প্রবাসীদের জন্য মালয়েশিয়া দিল বড় সুখবর

মালয়েশিয়ার সরকার স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি সব বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১,৭০০ রিঙ্গিত থেকে বৃদ্ধি করে ২,০০০ রিঙ্গিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া মাদানি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট পেশ করার সময় এই মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। এটি কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুন মাস থেকে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই মজুরি হারের ফলে চল্লিশ লাখেরও বেশি কর্মী উপকৃত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরির নিয়ম বিদেশি কর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য। বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া এবং অন্যান্য দেশের শ্রমিকরা মালয়েশিয়ার কর্মীদের মতো একই আইনসম্মত ন্যূনতম মূল মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

মালয়েশিয়া ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু করে, যেখানে মাসিক মজুরি ৯০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১,০০০ রিঙ্গিত, ২০১৯ সালে ১,১০০ রিঙ্গিত, ২০২০ সালে ১,২০০ রিঙ্গিত, ২০২২ সালে ১,৫০০ রিঙ্গিত এবং ২০২৫ সালে ১,৭০০ রিঙ্গিত হয়েছে। সর্বশেষ এই বৃদ্ধির ফলে ন্যূনতম মজুরি তার মূল হারের দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন যে, বার্ষিক টার্নওভার ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের কম এমন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্পোদ্যোগগুলো নতুন এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবে। এই অব্যাহতির উদ্দেশ্য হলো ছোট ব্যবসাগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল সমন্বয় করার জন্য সময় দেওয়া।

তিনি বলেন, "শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও তাদের মজুরির মধ্যকার ব্যবধান আমাদের কমাতে হবে।" ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে আয় তাল মেলাতে ব্যর্থ হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। দেশের মজুরি কাঠামো উন্নত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার আধা-দক্ষ কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন ২,৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করার পরিকল্পনাও করছে।

আনোয়ার বলেন, "ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের কেবল একটি সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে।" দক্ষ শ্রমিকদের এখনও তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। সরকার অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ রোধ করতে কর বিধিমালা কঠোর করারও পরিকল্পনা করছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সংস্থাগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর কর ছাড়ের যোগ্যতা অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বিপুল সংখ্যক নেপালি শ্রমিক কর্মরত আছেন। আশা করা হচ্ছে, এই বৃদ্ধির ফলে ন্যূনতম মজুরি নীতির আওতাভুক্ত নেপালি এবং অন্যান্য বিদেশি শ্রমিকদের আয় বাড়বে। তবে, ২০২৭ সালের জুনে এটি কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ছাড়ের কারণে সব শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে এর সুবিধা পাবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু


নড়াইলে পুকুরে ডুবে ছাত্রদল নেতার ভাতিজার মৃত্যু


নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার মদিনাপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে ছয় বছরের শিশু শাহরিয়ার আহমেদ রাফির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

রাফি মদিনাপাড়ার সাদেকুর রহমান উজ্জ্বলের ছেলে এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার ভাতিজা।

পরিবার ও স্বজনেরা জানান, রাফি বাড়ির পাশে ঘোরাফেরা করছিল। এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে পড়ে মারা যায়। সিসিটিভির ফুটেজেও বাড়ির পাশে ঘোরাফেরা করার দৃশ্য দেখা গেছে। তার মৃত্যুতে বাবা-মাসহ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান ও লোহাগড়া পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা লাক্সমি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় লোহাগড়ার জয়পুর ইউনিয়নের নাওরা গ্রামে শিশু রাফির জানাজা শেষে দাফন অনুষ্ঠিত হবে। এ ঘটনায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শিশু রাফির পরিবার-পরিজনের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


দুর্গাপূজা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দুর্গাপূজা এখন আর একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু উল্লেখ করেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি, যেখানে সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা যেন সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা সবাই মিলে একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, বরং সবাই সমান সুযোগ পাবে। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সমাজে কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তাদের কারণে যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এজন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, এবারের দুর্গাপূজার আগে থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। যদিও কিছু ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে, তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব, পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার।

আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক।

তিনি আরো বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ খাদে, দুই আসামিসহ আহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ খাদে, দুই আসামিসহ আহত ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের পিকআপভ্যান একটি খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই আসামিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মনিপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল মো. মোস্তফা (৩০), মো. জুম্মান (৩০) এবং পিকআপভ্যানের চালক নায়েক তোফায়েল আহমেদ (৪২)। আহত দুই আসামির মধ্যে একজন হলেন মাদক মামলায় রিমান্ডে থাকা মহন মিয়া (৪৫) এবং অপরজন পারিবারিক মামলার আসামি রুজিনা বেগম (৩৫)। উভয়ের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলায় অবস্থিত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুপুরের দিকে বিজয়নগর থানা থেকে দুই আসামিকে নিয়ে পুলিশের একটি পিকআপভ্যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে যাচ্ছিল। মনিপুর এলাকায় যাওয়ার সময় পিকআপভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ফলে তিন পুলিশ সদস্য ও দুই আসামি আহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাগলনাইয়ায় খোন্দকার সেতু: যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


ছাগলনাইয়ায় খোন্দকার সেতু: যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের নতুন সম্ভাবনা

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ সতেরো ও পূর্ব সোনাপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু। মুহুরী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সেতুর আশেপাশে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ও পর্যটন খাতের বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এই এলাকার কৃতি সন্তান খোন্দকার তারেক রায়হানের উদ্যোগ ও সার্বিক প্রচেষ্টায় সরকার ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ সতেরো এলাকা এবং পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর এলাকার সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করে।

ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা স্থানীয় প্রধান শিক্ষক ও মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক ইতিহাসের স্মৃতি।

দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যার সমাধান

প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত সেতুটি দক্ষিণ সতেরো, উত্তর সতেরো, গতিয়া সোনাপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতকে সহজ করেছে। সেতুর দুই পাশে নির্মিত সংযোগ সড়কগুলো এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।

বিশেষ করে পাঠাননগর ইউনিয়ন, মহামায়া ইউনিয়ন ও ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাসিন্দাদের জন্য সেতুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ও আমজাদ ইউনিয়ন এবং পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ এলাকার সঙ্গে বিকল্প পথে যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত গতিয়া সেতুকে কেন্দ্র করে সংযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ এলাকার মানুষের যাতায়াতকে আরও গতিশীল করেছে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

সাঁতরে নদী পারাপার থেকে আধুনিক সেতু:

একসময় এ অঞ্চলের মানুষের কাছে মুহুরী নদী পার হওয়া ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, অতীতে মানুষ সাঁতরে নদী পার হতো। পরে নৌকার মাধ্যমে নদী পারাপার শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।

সময়ের পরিবর্তনে নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সুবিধা:

মুহুরী নদীর দুই পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেতুটি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সুযোগ সহজ হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর সতেরো ও দক্ষিণ সতেরোসহ আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত ছাগলনাইয়া উপজেলা সদর ও ফেনী শহরের দিকে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণেও সেতুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা:

মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু থেকে মহামায়া সেতু পর্যন্ত পূর্ব সোনাপুর ও ছাগলনাইয়া পৌরসভা-সংলগ্ন মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকাকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ও উদ্যোগের কথা জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি একনেক সভায় এ অঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে মুহুরী নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রত্যাশা:

মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু শুধুমাত্র নদী পারাপারের একটি অবকাঠামো নয়; এটি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং নদীতীরের পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল আরও বাড়বে।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পর্যটনকেন্দ্রের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ছাগলনাইয়া ও আশপাশের এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা বিকশিত হতে পারে।

স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, সেতুকে ঘিরে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মুহুরী নদীর তীরবর্তী এ অঞ্চল একদিন ফেনী জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%