০৭:২৪ পি.এম
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ সতেরো ও পূর্ব সোনাপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু। মুহুরী নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সেতুর আশেপাশে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ও পর্যটন খাতের বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে এই এলাকার কৃতি সন্তান খোন্দকার তারেক রায়হানের উদ্যোগ ও সার্বিক প্রচেষ্টায় সরকার ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ সতেরো এলাকা এবং পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর এলাকার সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করে।
ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা স্থানীয় প্রধান শিক্ষক ও মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক ইতিহাসের স্মৃতি।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যার সমাধান
প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত সেতুটি দক্ষিণ সতেরো, উত্তর সতেরো, গতিয়া সোনাপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতকে সহজ করেছে। সেতুর দুই পাশে নির্মিত সংযোগ সড়কগুলো এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করেছে।
বিশেষ করে পাঠাননগর ইউনিয়ন, মহামায়া ইউনিয়ন ও ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাসিন্দাদের জন্য সেতুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ও আমজাদ ইউনিয়ন এবং পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ এলাকার সঙ্গে বিকল্প পথে যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত গতিয়া সেতুকে কেন্দ্র করে সংযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ এলাকার মানুষের যাতায়াতকে আরও গতিশীল করেছে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
সাঁতরে নদী পারাপার থেকে আধুনিক সেতু:
একসময় এ অঞ্চলের মানুষের কাছে মুহুরী নদী পার হওয়া ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, অতীতে মানুষ সাঁতরে নদী পার হতো। পরে নৌকার মাধ্যমে নদী পারাপার শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
সময়ের পরিবর্তনে নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সুবিধা:
আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
মুহুরী নদীর দুই পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেতুটি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সুযোগ সহজ হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর সতেরো ও দক্ষিণ সতেরোসহ আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত ছাগলনাইয়া উপজেলা সদর ও ফেনী শহরের দিকে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণেও সেতুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা:
মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু থেকে মহামায়া সেতু পর্যন্ত পূর্ব সোনাপুর ও ছাগলনাইয়া পৌরসভা-সংলগ্ন মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকাকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ও উদ্যোগের কথা জানা যায়।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি একনেক সভায় এ অঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে মুহুরী নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পরিবহন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রত্যাশা:
মাওলানা ওবায়দুল হক খোন্দকার সেতু শুধুমাত্র নদী পারাপারের একটি অবকাঠামো নয়; এটি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং নদীতীরের পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পর্যটনকেন্দ্রের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ছাগলনাইয়া ও আশপাশের এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা বিকশিত হতে পারে।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, সেতুকে ঘিরে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মুহুরী নদীর তীরবর্তী এ অঞ্চল একদিন ফেনী জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন