সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২১ পি.এম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সফরে টেস্ট সিরিজ জিতে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি আগ্রহী।
আর্থিক সংকট, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
স্যামি মনে করেন, যদি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলতি চক্রটি ভালোভাবে শেষ করা যায়, তাহলে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করার সময় ক্রিকেটারদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আজ স্যামি মন্তব্য করেন, “ভারত সিরিজে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর খবর জানানো হলে তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলেছে, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়তা, আবেগ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন পেশাদার খেলোয়াড় কিংবা একটি বোর্ড হিসেবে আমাদের বর্তমান অবস্থান বুঝতে হবে। আর্থিকভাবে আমরা কোন অবস্থায় আছি, তা সবার জানা।”
এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছাড়া দলের ক্রিকেটের মান ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে।
বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আগের চক্রেও ক্যারিবীয়রা অষ্টম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি চলতি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। স্যামি এই সিরিজ থেকে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করার সুযোগ দেখছেন।
তিনি বলেন, “আমার খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা হলো, বিশেষ করে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে। আর্থিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দুই চক্রে অষ্টম স্থানে থাকা আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে এবার আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে।”
স্যামি মনে করেন, মাঠে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলে স্পনসরদেরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
তিনি বলেন, “মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাদা বলের দল দারুণ করেছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দলও একই কাজ করতে পারবে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অবনতি ঘটলেও বিভিন্ন সংস্করণে দলটির পারফরম্যান্সে আশার কিছু দিক রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তারা কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি। সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছে ক্যারিবীয়রা।
তবে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা কঠিন হবে, সেটি স্যামি জানেন। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশ সিরিজেও ভালো করতে দলকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্যামি বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা সৎ ও বাস্তববাদী ছিলাম। এখন আমরা ঠিক সেই অবস্থানেই রয়েছি, যেখানে থাকার প্রত্যাশা করেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দুটি টেস্ট আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটি পূরণের মধ্য দিয়ে এই চক্র শেষ করতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে করে স্কাফ সিরাপ বহনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বিজয়নগর থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মুরাদনগর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল আটক করে আরোহীদের তল্লাশি করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. সাব্বির সরকার ওরফে সাব্বির এবং বিজয়নগর উপজেলার খিরাতলা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে জুনাইদ মিয়া। জুনাইদ বর্তমানে কাশিনগর এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা সিরাপ ও মোটরসাইকেল বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন আবাসন উদ্যোগ একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
জানা গেছে, ২৬ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এই উদ্যোগটি ‘কালেক্টিভ হাউজিং অ্যাওয়ার্ড’ (Collective Housing Award)-এ ভূষিত হয়। 'প্ল্যাটফর্ম অব কমিউনিটি অ্যাকশন অ্যান্ড আর্কিটেকচার' (POCAA)-এর মাধ্যমে এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে এটি ‘কালেক্টিভ ইনিশিয়েটিভস অব দ্য কমিউনিটি’ (Collective Initiatives of the Community) ক্যাটাগরিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
একদল ভূমিহীন মানুষের আবাসন সংকট মোকাবিলার জন্য সম্মিলিতভাবে ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা, সঞ্চয়, যৌথ সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ৪৯টি ভূমিহীন পরিবার খাস জমিতে নিজেদের ঘর নির্মাণ করেছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়োসানান ওয়ংসাওয়াত এবং ইউএন-হ্যাবিটাটের নির্বাহী পরিচালক আনাক্লাউদিয়া রসবাখ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে 'দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ'-এর স্থানীয় প্রতিনিধি আসির উদ্দিন আমার দেশ-কে বলেন, ‘একদল ভূমিহীন মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই আজ এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা আমার দেশ-কে জানান, ‘জামালপুর গ্রামের মানুষের এই অর্জন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশসহ পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব, সম্মিলিত উদ্যোগ ও নিজস্ব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তোলা সম্ভব।’
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে—পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি মন্তব্য করেছে যে, এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক বিপজ্জনক বার্তা দেয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই বক্তব্য প্রত্যাহার, আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, পুলিশের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রের ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার জন্য কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য। এই সীমিত সুযোগকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমোদন হিসেবে উপস্থাপনের কোনো সুযোগ নেই।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার’ অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে ঢালাও অভিযোগ মুক্ত গণমাধ্যমের নজরদারি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি কি না, সেই প্রশ্নও আমরা তুলছি।
তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং এটি পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইজিপি একই বক্তব্যে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, আবার সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করার কথাও বলেছেন। এই দুটি অবস্থান পরস্পরবিরোধী। কোনো সরকারের অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার এখতিয়ার পুলিশের নেই।
অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং মামলার রায়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা ক্রসফায়ার দেখিয়ে অর্থ আদায়, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এ পদ্ধতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র্যাব সদস্যদের দণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপরাধমূলক ব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ। অতীতের এসব শিক্ষা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যার দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তিনিই যদি ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনেন, তবে তাঁর দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ার করবে না এবং বিদ্যমান আইন দিয়েই তা দমন সম্ভব। এরপরও পুলিশপ্রধান কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ার চালুর সম্ভাবনা সামনে আনছেন? সরকারের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে আইজিপির এই বক্তব্যের অসংগতির ব্যাখ্যা এবং তাঁর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইজিপির বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গ্রহণ, বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন ঘিরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিএমপির দীর্ঘ পথচলা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সূচনা হয় বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে। পরে পায়রা অবমুক্তকরণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কাটা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদযাপনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।
এ ধরনের আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা, অর্জন ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করার পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং পেশাগত ঐক্য জোরদারের সুযোগ তৈরি করে। বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পথচলাকে কেন্দ্র করে এ উপলক্ষের তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পেশাদারত্ব, জনসেবা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অঙ্গীকারকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা একটি মহানগর পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব, আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ জনবান্ধব পুলিশিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির চর্চা পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিএমপির দুই দশকের পথচলাও মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকসেবার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও প্রত্যাশাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আব্দুস সালাম রিমন এবং বরিশাল ১০ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. শাহাব উদ্দীন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান, বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম, বরিশাল এসআরবি-৮-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম (জি), বিএন এবং বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে আনুষ্ঠানিক ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতার গুরুত্বও এ ধরনের আয়োজনে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গণমাধ্যম জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে দায়িত্বশীল যোগাযোগ এবং তথ্যের আদান-প্রদান জনসাধারণের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়ক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ববোধ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের অতীত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ দায়িত্বের দিকে ফিরে তাকানোর একটি উপলক্ষ। সময়ের সঙ্গে মহানগরীর নাগরিক চাহিদা, নিরাপত্তাবিষয়ক প্রত্যাশা এবং জনসেবার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। এসব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে একটি পুলিশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও জনমুখী হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালন, পেশাদার আচরণ ও জবাবদিহি বজায় রাখা জনআস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের পথচলাকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ভবিষ্যতে আরও পেশাদার, জনবান্ধব ও জনসেবামূলক পুলিশিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ