প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ণাঢ্য আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন ঘিরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিএমপির দীর্ঘ পথচলা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সূচনা হয় বেলুন ও ফেস্টুন উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে। পরে পায়রা অবমুক্তকরণ এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কাটা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উদযাপনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।
এ ধরনের আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা, অর্জন ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করার পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং পেশাগত ঐক্য জোরদারের সুযোগ তৈরি করে। বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পথচলাকে কেন্দ্র করে এ উপলক্ষের তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পেশাদারত্ব, জনসেবা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অঙ্গীকারকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা একটি মহানগর পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব, আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ জনবান্ধব পুলিশিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির চর্চা পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিএমপির দুই দশকের পথচলাও মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকসেবার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও প্রত্যাশাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার, বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আব্দুস সালাম রিমন এবং বরিশাল ১০ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. শাহাব উদ্দীন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান, বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম, বরিশাল এসআরবি-৮-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম (জি), বিএন এবং বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে আনুষ্ঠানিক ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতার গুরুত্বও এ ধরনের আয়োজনে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গণমাধ্যম জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে দায়িত্বশীল যোগাযোগ এবং তথ্যের আদান-প্রদান জনসাধারণের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়ক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ববোধ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের অতীত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ দায়িত্বের দিকে ফিরে তাকানোর একটি উপলক্ষ। সময়ের সঙ্গে মহানগরীর নাগরিক চাহিদা, নিরাপত্তাবিষয়ক প্রত্যাশা এবং জনসেবার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। এসব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে একটি পুলিশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও জনমুখী হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আইনানুগ দায়িত্ব পালন, পেশাদার আচরণ ও জবাবদিহি বজায় রাখা জনআস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের পথচলাকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ভবিষ্যতে আরও পেশাদার, জনবান্ধব ও জনসেবামূলক পুলিশিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন