ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন, রাডারে শনাক্ত করা কঠিন


পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন, রাডারে শনাক্ত করা কঠিন

সম্প্রতি চীন থেকে পাকিস্থান অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙর’ হাতে পেয়েছে। এই সাবমেরিনটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পানির নিচে থেকে গোপনে অভিযান চালাতে সক্ষম।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রধারী নৌবাহিনী দাবি করে করছে যে, এই সাবমেরিন শুধু তাদের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানও আরও মজবুত করবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই সংযোজন ভারতের সঙ্গে নৌ শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ঘোষণা: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা হবে না

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান সর্বশেষ বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করেছিল। ভারতীয় বাহিনীর হাতে সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের সাবমেরিন ধ্বংস হয়েছিল। এরপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশটি ওই কৌশলগত সমুদ্রসীমায় কার্যকর উপস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। তবে, কিছু সপ্তাহ আগে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

গত মাসে পাকিস্তান চীন থেকে একটি নতুন আক্রমণাত্মক সাবমেরিন দেশে এনেছে। ‘পিএনএস হাঙর’ নামের এই সাবমেরিনটি গত এপ্রিলে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আটটি একই ধরনের সাবমেরিন পাওয়া যাবে এবং এটি ওই আটটির মধ্যে প্রথম। গত ১১ জুন এটি করাচি বন্দরে এসেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নতুন সাবমেরিন বহরের মিশন কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন যে, এই অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘গেমচেঞ্জার’ হবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী নিজেদের সমুদ্রসীমার বাইরেও অনেক দূর অবাধে অভিযান চালানোর ক্ষমতা অর্জন করবে এবং পূর্ব ভারত মহাসাগরে দীর্ঘ সময় উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে। ১৯৭১ সালে যেখানে পিএনএস গাজি ধ্বংস হয়েছিল, সেই অঞ্চলে কার্যকর উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

৭৬ মিটার দীর্ঘ ও ৮.৪ মিটার প্রশস্ত ‘পিএনএস হাঙর’ দেখতে কালো রঙের অশ্রুবিন্দু আকৃতির। এটি বর্তমান চলতি অনেক সাবমেরিনের তুলনায় আকারে বড়। এই সাবমেরিনটি ধীরে ধীরে পাকিস্তানের পুরোনো ফ্রান্সে তৈরি ‘আগোস্তা’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলোর জায়গা নেবে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েল থেকে অস্ট্রিয়াগামী বিমানে বোমা হামলার হুমকি, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

‘হাঙর’ সাবমেরিনে অত্যাধুনিক এয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি রয়েছে। এর ফলে এটি কয়েক সপ্তাহ পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি বাতাস বা বায়ুমণ্ডল থেকে নির্ভর না করেই সাবমেরিনকে চলতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার সক্ষমতা প্রদান করে। এটি তুলনামূলকভাবে কম শব্দ ও কম কম্পন তৈরি করে, ফলে সাবমেরিন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

হাঙর শ্রেণির সাবমেরিনে ছয়টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব রয়েছে, যা টর্পেডো'র পাশাপাশি দূরপাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল ছুঁড়তে সক্ষম। সুনির্দিষ্ট অস্ত্রের তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে পাকিস্তান নৌবাহিনী চীনের ওয়াইজে-১৮ বা ওয়াইজে-৮২ মিসাইল ব্যবহার করবে।

ওয়াইজে-১৮-এর সর্বাধিক পাল্লা ২৯০ নটিক্যাল মাইল হলেও রফতানি সীমাবদ্ধতার কারণে পাকিস্তান সম্ভবত শুধুমাত্র ওয়াইজে-১৮ই পাবে, যার পাল্লা প্রায় ১৫৭ নটিক্যাল মাইল। অন্যদিকে ওয়াইজে-৮২-এর মূল সংস্করণের পাল্লা ২০ নটিক্যাল মাইল হলেও উন্নত সংস্করণের পাল্লা ১৫৭ ও ৬৯ নটিক্যাল মাইল।

এছাড়া এই সাবমেরিনগুলোতে স্টিলথ বা গোপন চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। এতে ‘ক্যাবিন-রাফট’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যার ফলে শব্দের মাত্রা ৩৫ ডেসিবেল পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। সাবমেরিনের বাইরের অংশে রাবার দিয়ে তৈরি অ্যানেকোয়িক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে, যা শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের ৭ নতুন এলাকায় সিটিবাইক পরিষেবা সম্প্রসারণ, ৩৭০০ সাইকেল যুক্ত

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি চীনের হাইনান প্রদেশের সানইয়ায় গিয়ে সাবমেরিনটি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘হাঙর’ বহরকে আধুনিক অস্ত্র ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হবে। এসব সাবমেরিন আঞ্চলিক সামুদ্রিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানকে সহায়তা করবে।

বর্তমানে ভারতের হাতে ১৯টি সাবমেরিন রয়েছে, তবে পাকিস্তানের বিশ্লেষকদের মতে, ‘হাঙর’ সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলায় শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

পাকিস্তানের সরকারি একজন কর্মকর্তা জানিয়ে ছিলেন, ‘হাঙর’ সাবমেরিনের আটটির মধ্যে চারটি সাবমেরিন চীনে এবং বাকি চারটি পাকিস্তানে প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মসূচির আওতায় তৈরি হবে। পাকিস্তানের নৌ বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো বহর গড়ে তুলতে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চীন এই চুক্তিকে মিত্র দুই দেশের মধ্যে ‘স্বাভাবিক সামরিক সহযোগিতা’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত মহাসাগরে ভারতকে আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: হরমুজে মাইনে আঘাতের পর তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা

গত বছর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কাশ্মীরে হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। চার দিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলে, যেখানে শত শত মানুষ নিহত হয়। এই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। তবে ওই অভিযানে ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ এর কৃতিত্ব পাকিস্তানের চীনা সামরিক সরঞ্জামকে দিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ ফয়সাল আলী শাহ বলেন, ওই সংঘাত পাকিস্তান ও ভারতের প্রচলিত সামরিক শক্তির ব্যবধান নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছে। নতুন ‘হাঙর’ সাবমেরিনের বহর পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, “শুধু আকাশযুদ্ধ নয়, সমুদ্রেও ভারতীয় নৌবাহিনী করাচি থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করেছিল। কিন্তু তারা সামনে এগোয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঝুঁকির জন্য বিবেচনা করেই নেয়া হয়েছিল।”

তার মতে, “ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোন সংঘাত হলে এসব সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সক্ষমতা, বিশেষ করে পানির নিচে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা আরও বাড়াবে। এটি ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।”

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, এসব সাবমেরিন বঙ্গোপসাগর, হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রক্ষার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে সহায়তা করবে।

শাহ স্বীকার করেন যে, ভারতের তিনটি পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে এবং আরও ছয়টি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। যদিও এর পরেও তার মতে, পাকিস্তানের নতুন ক্ষমতাগুলো ভারতকে উদ্বেগে ফেলবে।

তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতায় একটি সাবমেরিন আর ১০টি সাবমেরিনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা দেয় না। কারণ পানির নিচে থাকা একটি সাবমেরিনকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কোন জাহাজই সেই এলাকায় নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারে না।”

কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক দিনাকর পেরি বলেন, পাকিস্তানের হাতে বর্তমানে মাত্র তিনটি ‘আগোস্তা’ সাবমেরিন রয়েছে। অন্যদিকে ভারতেরও ১৬টি সাবমেরিনের বেশিরভাগই পুরোনো।

আরও পড়ুন: শত্রুর অবকাঠামোতে হামলার জন্য প্রস্তুত ‘ফাদার অব ইরানিয়ান মিসাইলস’

তার মতে, সামগ্রিকভাবে ভারতের নৌবাহিনী এখনও অনেক ‘বেশি শক্তিশালী’। তবে পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন বহর এবং আধুনিকায়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে, যদি ভবিষ্যতেও গত বছরের মতো সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পেরির মতে, পাকিস্তানের কাছে এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন চীনের জন্যও কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করার বাইরে, সমুদ্রপথে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চীন নজিরবিহীন গতিতে নিজেদের নৌ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় চীনা গবেষণা জাহাজের ঘন ঘন উপস্থিতি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে- ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কি অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে? রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহের মতে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চলছে, তবে এতে শুধু এই তিন দেশ নয়, আরও অনেক শক্তি জড়িত।

তিনি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট ‘অকাস’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এটি এক ধরনের ডমিনো প্রভাব। এই অঞ্চলের বাইরের কিছু শক্তিই এখানে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দিয়েছে।” সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুরআনের আয়াতে বাংলাদেশকে যে বার্তা প্রদান করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


কুরআনের আয়াতে বাংলাদেশকে যে বার্তা প্রদান করেছে ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মহল একটি অভিনব মঞ্চায়ন দেখেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে, ইরান কর্তৃপক্ষ সুচিন্তিতভাবে পবিত্র কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলাদেশের পৃথক দুটি প্রতিনিধিদল প্রয়াত নেতার কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে যায়, তখন তাদের সামনে সুরা আল-আহযাব এবং সুরা আলে ইমরানের বিশেষ কিছু আয়াত শোনানো হয়। বিশ্লেষকদের মতানুসারে, এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে ঢাকাকে একটি বিশেষ কূটনৈতিক ও আদর্শিক বার্তা প্রদান করেছে তেহরান।

জানাজার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হলে তার সামনে সুরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। এই আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ (শাহাদাতবরণ করে) নিজেদের শপথ পূর্ণ করেছে, আর কেউ কেউ (শাহাদাতের) প্রতীক্ষায় আছে। এবং তারা তাদের অঙ্গীকারে সামান্যতমও পরিবর্তন করেনি।’

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, ওহুদের যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাহাবিরা অঙ্গীকার করেছিলেন যে তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাবেন না এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করবেন। সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-সহ কয়েকজন সাহাবি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করে শহীদ হয়েছিলেন।

ইরান কেবল স্পিকারের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবিচল কূটনৈতিক অবস্থান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

এদিকে, ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে এক আলাদা প্রতিনিধিদল খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হলে তাদের জন্য ভিন্ন আয়াত পাঠ করা হয়। এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তারা যখন শ্রদ্ধা নিবেদন করছিলেন, তখন সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত।’

আর ১৭০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ করেছেন, তাতে তারা খুশি। আর তারা উৎফুল্ল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে। এজন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’

ইসলামী ধারার দলগুলোকে নিয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলের সামনে শাহাদাত ও পরকালের চিরন্তন পুরস্কারের আয়াত শুনিয়ে ইরান একটি গভীর আদর্শিক বার্তা প্রদান করেছে। তেহরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে, খামেনির আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়ার কোন কারণ নেই; বরং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগকারীরা সবসময় জীবিত ও সফল। একই সঙ্গে, এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগ ও সংগ্রামকে একটি তাত্ত্বিক স্বীকৃতি ও সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

কফিনের পাশে শোনানো এই আয়াতগুলো কেবল ধর্মীয় তিলাওয়াত নয়; বরং এর মাধ্যমে ইরান কূটনৈতিকভাবে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে যে শোকের এই মুহূর্তেও কোন দেশ ও দল তেহরানের সঙ্গে কেমন বন্ধনে আবদ্ধ, তা তারা অত্যন্ত ভাল করেই মূল্যায়ন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতে নতুন অধ্যায়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতে নতুন অধ্যায়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার ভোর ছয়টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রখ্যাত এই স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত রয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল।

তিনি ম্যাচটি জয়ের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ জুলাই) মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর সফরকারী দলটি পুমাস উনামের কান্তেরা কমপ্লেক্সে অনুশীলন শুরু করেছে। স্থানীয় দর্শকদের ব্যাপক সমর্থনের মুখোমুখি হওয়ার আগে অপরাজিত মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তারা সেখানে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

সাংবাদিকদের সামনে টুখেল বলেন, "আমরা একটি আইকনিক স্থান এবং আইকনিক স্টেডিয়ামে আছি। আজতেকায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে এটি একটি বিশাল ম্যাচ, একটি নকআউট লড়াই। এটি একটি স্মরণীয় ম্যাচ ও বড় মঞ্চ। আমরা সেই আবহ অনুভব করছি।"

এ ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উচ্চতায় খেলা হবে। কারণ রাউন্ড-অফ-৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে জয়ের পর রবিবারের ম্যাচের পূর্বে ইংল্যান্ড দল প্রস্তুতির জন্য মাত্র চার দিন সময় পেয়েছে।

তবে সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ১৫ মিনিটের অনুশীলনের সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম অনুশীলনের সময় সেখানকার পরিবেশগত পরিস্থিতির বিষয়টি টুখেল স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার খেলোয়াড়েরা একে কোনো অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করবেন না।

সাবেক এই জার্মান কোচ বলেন, "অনুশীলনের শুরুর কয়েক মিনিটে খেলোয়াড়রা বিষয়টি অনুভব করেছিল, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা পরিস্থিতি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। পরিস্থিতি যেমন, তেমনই মেনে নিতে হবে।"

তিনি আরো বলেন, "আমি কোনো বৈরী পরিবেশের আশঙ্কা করছি না। আমার বিশ্বাস, পরিবেশটা আবেগপূর্ণ হবে এবং স্বাগতিক দলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন থাকবে। উচ্চতা কিংবা স্থানীয় দর্শক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের বাধাগুলো জয় করতে হবে। তবে এসব কাটিয়ে ওঠার মতো মানসিক শক্তি, প্রতিশ্রুতি, অদম্য ইচ্ছা এবং দলের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে রয়েছে।"

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর এটাই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ, যখন ইংল্যান্ড দল ‘আজতেকা’ স্টেডিয়ামে ফিরছে। সেই ম্যাচটি মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল এবং পরবর্তীতে ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে কোনো ‘অসমাপ্ত কাজ’ বা প্রতিশোধের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন টুখেল। তিনি বলেন, "আমরা এখানে প্রতিশোধ নিতে আসিনি। আমরা এসেছি নিজেদের নতুন অধ্যায় রচনা করতে। দলের মনোবল চাঙ্গা এবং আমরা আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফে জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।

নিহত শফি উল্লাহ (২২) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরাতন পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফেজ মুখতার আহমদের ছেলে। তিনি হ্নীলাস্থ মাঈনুদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই সিদ্দিক আহমদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের পথটি বন্ধ করে রেখেছেন কামাল আহমদ এবং তার লোকজন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সমাধানে রাজি হননি। চলাচলের পথ ছেড়ে দেয়ার জন্য কামাল আহমদ চাঁদাও দাবি করেছিলেন। এ ঘটনার জন্য আদালতে দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া তিনি অভিযোগে আরও জানান, শনিবার (৪ জুলাই) ওই মামলার তদন্তে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে থেকেই উৎপেতে থাকা কামাল আহমদ ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় তার চার ভাই আবু বক্কর, হাবিব উল্লাহ এবং শফি উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত শফি উল্লাহ মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তিনি বমি করলে প্রথমে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মূলত যাতায়াতের জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পক্ষের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফা বিশ্বকাপ প্রচারস্বত্বে বিটিভিকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


ফিফা বিশ্বকাপ প্রচারস্বত্বে বিটিভিকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হলো

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-কে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ উপভোগের সুযোগ করে দিতে সরকার রাজস্ব ছাড় দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিটিভি কর্তৃক এই বিশ্বকাপের প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা শুধুমাত্র বিটিভির প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে কোনো সাব-লাইসেন্সি (ওটিটি প্ল্যাটফর্ম) প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ পরিশোধের ১০ দিনের মধ্যে যাবতীয় হিসাব বিবরণী সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটকে জানাতে হবে। উল্লেখ্য, শর্ত ভঙ্গ হলে ভ্যাট আইনানুগভাবে আদায় করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%