০৪:১৫ পি.এম
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার ভোর ছয়টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রখ্যাত এই স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত রয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল।
তিনি ম্যাচটি জয়ের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ জুলাই) মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর সফরকারী দলটি পুমাস উনামের কান্তেরা কমপ্লেক্সে অনুশীলন শুরু করেছে। স্থানীয় দর্শকদের ব্যাপক সমর্থনের মুখোমুখি হওয়ার আগে অপরাজিত মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তারা সেখানে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সাংবাদিকদের সামনে টুখেল বলেন, "আমরা একটি আইকনিক স্থান এবং আইকনিক স্টেডিয়ামে আছি। আজতেকায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে এটি একটি বিশাল ম্যাচ, একটি নকআউট লড়াই। এটি একটি স্মরণীয় ম্যাচ ও বড় মঞ্চ। আমরা সেই আবহ অনুভব করছি।"
আরও পড়ুন: রাকসুর ক্রিড়া সম্পাদক নার্গিস পেলেন ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬
এ ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উচ্চতায় খেলা হবে। কারণ রাউন্ড-অফ-৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে জয়ের পর রবিবারের ম্যাচের পূর্বে ইংল্যান্ড দল প্রস্তুতির জন্য মাত্র চার দিন সময় পেয়েছে।
তবে সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ১৫ মিনিটের অনুশীলনের সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম অনুশীলনের সময় সেখানকার পরিবেশগত পরিস্থিতির বিষয়টি টুখেল স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার খেলোয়াড়েরা একে কোনো অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করবেন না।
সাবেক এই জার্মান কোচ বলেন, "অনুশীলনের শুরুর কয়েক মিনিটে খেলোয়াড়রা বিষয়টি অনুভব করেছিল, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা পরিস্থিতি ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। পরিস্থিতি যেমন, তেমনই মেনে নিতে হবে।"
তিনি আরো বলেন, "আমি কোনো বৈরী পরিবেশের আশঙ্কা করছি না। আমার বিশ্বাস, পরিবেশটা আবেগপূর্ণ হবে এবং স্বাগতিক দলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন থাকবে। উচ্চতা কিংবা স্থানীয় দর্শক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের বাধাগুলো জয় করতে হবে। তবে এসব কাটিয়ে ওঠার মতো মানসিক শক্তি, প্রতিশ্রুতি, অদম্য ইচ্ছা এবং দলের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে রয়েছে।"
আরও পড়ুন: ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর এটাই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ, যখন ইংল্যান্ড দল ‘আজতেকা’ স্টেডিয়ামে ফিরছে। সেই ম্যাচটি মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল এবং পরবর্তীতে ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল) হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে কোনো ‘অসমাপ্ত কাজ’ বা প্রতিশোধের ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন টুখেল। তিনি বলেন, "আমরা এখানে প্রতিশোধ নিতে আসিনি। আমরা এসেছি নিজেদের নতুন অধ্যায় রচনা করতে। দলের মনোবল চাঙ্গা এবং আমরা আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন