ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর


নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা মামলার আপিল বিভাগের শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বর।

রোববার, ১৮ অক্টোবর, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই তারিখে শুনানির জন্য ধার্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের তিন দিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ডিএমপির উদ্ধারকৃত ১১৭টি মোবাইল ফোনের মালিকানা শনাক্তের আহ্বান

এই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।

সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার চার সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। অপরদিকে, আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত নূর হোসেন ও তৎকালীন র‍্যাবের বরখাস্ত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর, হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে একই বছরের ৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়।

আরও পড়ুন: ‘ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই’—স্পিকারের সমর্থনে ডা. তাসনিম জারা

একই বছরের ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‍্যাব-১১’র চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা।

অন্যদিকে, সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামি হচ্ছেন র‍্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক সিপাহী আসাদুজ্জামান নূর ও সার্জেন্ট এনামুল কবির এবং নূর হোসেনের ৯ সহযোগী মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, ভারতে গ্রেফতার সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ

বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া ৯ জনও র‍্যাবের বরখাস্ত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে আসামিরা আপিল করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষতি করতে পারবে না: খতিব আব্দুল মালেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষতি করতে পারবে না: খতিব আব্দুল মালেক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক মন্তব্য করেছেন, "সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে এভাবেই রক্ষা করেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে খুতবায় এসব কথা বলেন তিনি।

মুফতি আবদুল মালেক খুতবায় আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "কেরামত পর্যন্ত একটি দল সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" তাদের বিরোধিতা করে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা যেভাবে তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন, তা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম মুহাম্মদ। তাঁর আরেকটি নাম আহমাদ। এ দুটি নাম পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে তাঁর আরও কয়েকটি নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।

মহানবী (সা.)-এর প্রতি উম্মতের দায়িত্ব এবং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে খতিব বলেন, আল্লাহ তাআলা নবুওয়াত দেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরও ২৩ বছর জীবিত রেখেছিলেন। এই সময়ে আল্লাহর কুদরত ও রহমতের যেসব নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে সিরাত অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

মুফতি আবদুল মালেক উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.) নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেন। এ সময়ে পবিত্র কোরআনের বেশির ভাগ সূরা অবতীর্ণ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। সাহাবিরা তা নির্ভুলভাবে লিখে সংরক্ষণ করতেন। একই সঙ্গে মহানবী (সা.) মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। যাঁরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন, তাঁরা সৌভাগ্যবান হয়েছেন।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঈমানদারদের ওপর নির্যাতনের কথাও খুতবায় তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। তিনি জানান, সে সময় ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করায় অনেক মুসলমানকে কাফেরদের পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

ইসলামি শরিয়তের বিধান সংরক্ষণের বিষয়ে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যে শরিয়ত দান করেছেন, তা সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামের বিধানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হলে তা ধরা পড়ে যায়। আল্লাহর দ্বীন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে সাহাবিদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবেই তা বিদ্যমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দ্বীন কেয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। এ কারণে ইসলামের মূল শিক্ষা ও বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবারের জুমার খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক সংক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কায় অবস্থান, মদিনায় হিজরত, মদিনার জীবন, বিভিন্ন যুদ্ধ এবং বিদায় হজের ভাষণসহ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সরকারের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, "আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে খুব বেশিদিন আপনাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবেন না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও তাদের হাতে টু-থার্ড মেজরিটি রয়েছে, এর ভিত্তিতে তারা সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছেন, কিন্তু জনগণের রায়ের অভাব থাকলে টু-থার্ড মেজরিটি কোনোভাবেই কার্যকর হতে পারে না। আখতার হোসেন বলেন, "একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি হলো সংস্কারের উল্টো পথে যাত্রা এবং সংস্কারকে ভেস্তে দেওয়ার নামান্তর।" এই কারণেই এনসিপি এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করবে না।

শনিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, "এই সংবিধান সংশোধন কমিটি সেটা বিলুপ্ত করে সরকার যাতে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সে দাবি আমরা সরকারের কাছে আবারও ব্যক্ত করতে চাই।" তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যক্রম জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চলছে।

তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ’৯০ এ তিন জোটের রূপরেখা হওয়ার পরে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং তখন তারা সেই তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চাননি।" আখতার হোসেন বলেন, "এনসিপির এই নেতা বলেন, এ কারণে আমরা তাদেরকে স্পষ্ট করে বলি—আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে খুব বেশিদিন আপনাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবেন না।" তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, জনগণের রায়ের অভাব থাকলে টু-থার্ড মেজরিটি কার্যকর হবে না।

আখতার হোসেন আরও বলেন, "জুলাইয়ের ১৭ তারিখ, যেদিন জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেই দিনে আমরা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে মেসেজ দিতে চাই—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।" তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। "আর যদি আপনারা তা করতে ব্যর্থ হন, বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই এর বিহিত করে ছাড়বে।"

তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "অক্ষরে অক্ষরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কথা বলে বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।" তিনি আরও বলেন, "সংস্কারের যে স্তরগুলো আমরা পেরিয়ে এসেছি, বিএনপি সরকার সেই পরিপক্ব বিষয়গুলোকে পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে।" এনসিপির সদস্যসচিব সমালোচনা করে বলেন, "যে সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, এটি একদলীয় কমিটি। এটি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা।"

তিনি আরও বলেন, "বারবার আহ্বানের পরেও এনসিপি এই কমিটিতে যায়নি।" সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার মন্তব্য করেন, "একজন ব্যক্তির অভিলাষ চরিতার্থ করতে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, সেটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা।" তিনি বলেন, "দুর্বল আওয়ামী লীগ হিসেবে তারা টিকে থাকতে চায়।"

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াকে ডেকে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানার জন্য অনুরোধ করেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এই তথ্য জানিয়েছে।

মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াকে ডেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ জানার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এর আগে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ তথ্য সরকারের কাছে ছিল না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানত না।

সৌদি আরবের নিজস্ব আইন ও বিচারিক কাঠামো রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটিতে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের করণীয় অনেক ক্ষেত্রে সীমিত থাকে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিথি আক্তার।

এর আগে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়।

তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত: রাশিয়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত: রাশিয়ার দাবি

মস্কো দাবি করেছে যে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। রোববারের হামলার ফলে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে আগুন লেগে যায়। এ ছাড়া শহরের প্রধান বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ওপর নতুন হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর দিয়েছে।

লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি টেলিগ্রামে একটি বার্তায় উল্লেখ করেছেন, বড় আকারের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে, যার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি দেননি।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন লেগেছে। উল্লেখ্য, গত জুনেও টার্মিনালটিতে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল। বেগলভ বলেন, এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে অবস্থিত একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা ইউক্রেন আর সহ্য করবে না। এর জবাবে রুশ ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে মস্কো যখন ইউক্রেনে হামলা জোরদার করছে, তখন ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তার পদক্ষেপটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই জায়গাতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%