০৪:৩১ পি.এম
মস্কো দাবি করেছে যে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। রোববারের হামলার ফলে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে আগুন লেগে যায়। এ ছাড়া শহরের প্রধান বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ওপর নতুন হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর দিয়েছে।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি টেলিগ্রামে একটি বার্তায় উল্লেখ করেছেন, বড় আকারের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার অভিযান চলছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
তিনি আরও জানান, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে, যার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি দেননি।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন লেগেছে। উল্লেখ্য, গত জুনেও টার্মিনালটিতে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল। বেগলভ বলেন, এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে অবস্থিত একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’
চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা ইউক্রেন আর সহ্য করবে না। এর জবাবে রুশ ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে মস্কো যখন ইউক্রেনে হামলা জোরদার করছে, তখন ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তার পদক্ষেপটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই জায়গাতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন