১১:১৭ এম
জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে শিল্পভিত্তিক যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে টোকিও। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরের আগে দেশটির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত বক্তব্যে বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি ‘শিল্প ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্পও রয়েছে। গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
নির্মাণকাজ শেষ হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজের জন্য বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাপানি কূটনীতিকেরা এ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক সংযোগকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। জাপানের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সহায়তায় বাস্তবায়িত ওই উন্নয়ন করিডোরের অভিজ্ঞতা মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজে লাগাতে চায় টোকিও।
জাপানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি অনুসরণযোগ্য মডেল। নিজস্ব বন্দর ও সাউদার্ন ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে শহরটি এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
জাপানি কূটনীতিকদের পরিকল্পনায় মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে। প্রকল্পটির বড় অংশের কাজ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়, যা ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগও রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন