বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৬ পি.এম
পাবনা শহরে ব্যাপক নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল, এবং তাদের কাছে পাসপোর্টও ছিল। আটক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার জন্য হাতবোমা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। ভোরের দিকে শহরের অলিগলিতে তারা জড়ো হতে শুরু করে। তাদের নেতা আব্দুল ওহাবের উপস্থিতি হলেই নাশকতার কার্যক্রম শুরু হতো। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআরটি সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাদের আটক করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী সুজানগরের মাস্টার পাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩), মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০), নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০), এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮)।
একই এলাকার সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬), মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮), ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪), দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২), নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭), সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিল বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে। নাশকতা করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টে এটি আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে আব্দুল ওহাবকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, যার ফলে আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি আবারও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জামিনে বের হয়ে এসে সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব এবং তার সমর্থকরা। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতব্যাপী উপজেলার মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের কর্মকাণ্ডে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে ছিল আব্দুল ওহাব। সর্বশেষ, আজকে বড় ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল এবং পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পাওয়ার আশা করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা, সৃজনশীলতা বিকাশ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে পাবনা আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলে একটি দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মেলায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সৌরবিদ্যুৎ, পরিবেশ দূষণ রোধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্মার্ট কৃষি, স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ প্রায় ৫০টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি মডেল ও উদ্ভাবনী ধারণা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে।
সকালে আইডিয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে নতুন নতুন উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, বইয়ে পড়া বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিন শেষে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা প্রকল্পগুলো নির্বাচিত করা হয়। একটি পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও টেকসই বাংলাদেশের মডেল তৈরি করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীরা প্রথম স্থান অধিকার করে। গ্যাস ডিটেক্টর, কার্বন পিউরিফায়ার এবং নবায়নযোগ্য শক্তিচালিত সামাজিক ভূমি তৈরি করে সপ্তম শ্রেণির ছাত্ররা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। আর পরিবেশ দূষণের সমাধান তুলে ধরে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীরা।
মেলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পাবনার সামছুলহুদা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা গুলে জান্নাত কনা, শহিদ এম. মনসুর আলী কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোকাদ্দেস আলী এবং রাধানগর মজুমদার একাডেমির সহকারী শিক্ষক সুমন পারভেজ। বিচারকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশে এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করে তার বৈজ্ঞানিক সমাধান খোঁজার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। সবশেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শেরপুরে বৈদ্যুতিক মোটরে সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জিহাদ হোসেন (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনাটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের দহপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়িতে ঘটে।
মৃত জিহাদ হোসেন ছিলেন ওই গ্রামের মো. তোফাজ্জল হোসেনের একমাত্র পুত্র।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, দুপুরের সময় গবাদিপশুকে গোসল করানোর উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক মোটরে সংযোগ দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অদ্বিতীয় দে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শেরপুরে নির্মিত তিনতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাপ্তরিক কাজ, সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি ২০১৯ সালে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাত বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ভবনটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। চারপাশে আগাছা জন্মেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে গেছে এবং কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক জানিয়েছেন, ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুরের পর চুরি হয়ে গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক বন্ধ রয়েছে। ভবনের ভেতরে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম চলছে না। ফটকের বাইরে ও চারপাশে আগাছা জন্মে গেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভবনে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী বা অন্য কোনো কর্মীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ২০৭ টাকা। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় মার্কেট এবং তৃতীয় তলায় অফিস, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম ও মিউজিয়াম করার ব্যবস্থা রয়েছে। মার্কেটে ছয়টি দোকান রয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেলও স্থাপন করা হয়েছিল।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। ভবনের দোকান ও বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া বা বরাদ্দ দিয়ে যে অর্থ আয় হবে, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কিন্তু শেরপুরে বর্তমানে ভবনটির সেই উদ্দেশ্যে নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৮১ জন, যাদের মধ্যে ৯২ জন মারা গেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শতাধিক জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন। শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ভবনটি বুঝে পাওয়ার পর কমিটি না থাকায় সেখানে কার্যক্রম ছিল না। ২০২৫ সালে নতুন এডহক কমিটি হওয়ার পর কিছু দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, তবে ৫ আগস্টের পর সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, ভবন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুরের পর জেনারেটর, সোলার, পানির পাম্প, থাই গ্লাস ও বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে দেখাশোনার জন্য কেউ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশের বাড়ির একজন ব্যক্তি ভবনটি দেখাশোনা করতেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের পর কিছু সময় সেখানে কার্যক্রম চলেছে, কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত মানুষের আনাগোনা নেই। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিয়মিত কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেছেন। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের ওই ভবনে বসার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, পুরো ভবন সংস্কারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
এই সভাটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহীর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং টিমের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, "পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব।" তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাশয় সংরক্ষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর পরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াছমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সবুর আলী, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ