প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনা শহরে ব্যাপক নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল, এবং তাদের কাছে পাসপোর্টও ছিল। আটক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার জন্য হাতবোমা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। ভোরের দিকে শহরের অলিগলিতে তারা জড়ো হতে শুরু করে। তাদের নেতা আব্দুল ওহাবের উপস্থিতি হলেই নাশকতার কার্যক্রম শুরু হতো। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআরটি সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাদের আটক করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী সুজানগরের মাস্টার পাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩), মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০), নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০), এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮)।
একই এলাকার সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬), মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮), ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪), দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২), নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭), সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিল বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে। নাশকতা করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টে এটি আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে আব্দুল ওহাবকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, যার ফলে আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি আবারও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জামিনে বের হয়ে এসে সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব এবং তার সমর্থকরা। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতব্যাপী উপজেলার মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের কর্মকাণ্ডে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে ছিল আব্দুল ওহাব। সর্বশেষ, আজকে বড় ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল এবং পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পাওয়ার আশা করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন