প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ার শেরপুরে নির্মিত তিনতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাপ্তরিক কাজ, সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি ২০১৯ সালে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাত বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ভবনটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। চারপাশে আগাছা জন্মেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে গেছে এবং কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক জানিয়েছেন, ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুরের পর চুরি হয়ে গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক বন্ধ রয়েছে। ভবনের ভেতরে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম চলছে না। ফটকের বাইরে ও চারপাশে আগাছা জন্মে গেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ভবনে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী বা অন্য কোনো কর্মীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ২০৭ টাকা। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় মার্কেট এবং তৃতীয় তলায় অফিস, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম ও মিউজিয়াম করার ব্যবস্থা রয়েছে। মার্কেটে ছয়টি দোকান রয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেলও স্থাপন করা হয়েছিল।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। ভবনের দোকান ও বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া বা বরাদ্দ দিয়ে যে অর্থ আয় হবে, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কিন্তু শেরপুরে বর্তমানে ভবনটির সেই উদ্দেশ্যে নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৮১ জন, যাদের মধ্যে ৯২ জন মারা গেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শতাধিক জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন। শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ভবনটি বুঝে পাওয়ার পর কমিটি না থাকায় সেখানে কার্যক্রম ছিল না। ২০২৫ সালে নতুন এডহক কমিটি হওয়ার পর কিছু দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, তবে ৫ আগস্টের পর সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, ভবন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুরের পর জেনারেটর, সোলার, পানির পাম্প, থাই গ্লাস ও বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে দেখাশোনার জন্য কেউ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশের বাড়ির একজন ব্যক্তি ভবনটি দেখাশোনা করতেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের পর কিছু সময় সেখানে কার্যক্রম চলেছে, কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত মানুষের আনাগোনা নেই। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিয়মিত কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেছেন। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের ওই ভবনে বসার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, পুরো ভবন সংস্কারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন