ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কবর খুঁড়ে মিলল পুরোনো ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা


কবর খুঁড়ে মিলল পুরোনো ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কবর খনন করতে গিয়ে অলৌকিক চিহ্নযুক্ত হাজার বছরের পুরোনো ৫টি মূল্যবান পাথর সদৃশ বস্তু (তসবি) পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও অলৌকিক কারণ দেখিয়ে নিহতের পরিবার সেগুলো পুনরায় কবরে পুঁতে রাখার দাবি করেছেন, কিন্তু স্থানীয়রা তা মানতে নারাজ। এই মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আত্মসাৎ করা হয়েছে এমন অভিযোগে গ্রামের মধ্য তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল মারা যান। গ্রামের গোরস্থানে তার কবর খননের দায়িত্ব পান বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও শফিউদ্দিন নামে তিন ব্যক্তি। মাটি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে কালো, সাদা, ধূসর ও বাদামি রঙের ৫টি প্রাচীন পাথর সদৃশ বস্তু। বস্তুগুলোর নিচের অংশে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনগুলো দেখার পর কৌতূহলী গ্রামবাসী তা সাময়িকভাবে বাহার আলীর কাছে জমা রাখেন।

দাফন সম্পন্ন হওয়ার চার দিন পরে, মোস্তফা মণ্ডলের বড় ছেলে ইউনুস আলী তার মা ও ভাইদের দেখানোর কথা বলে বাহার আলীর কাছ থেকে পাথরগুলো নিয়ে যান। পরবর্তী দিন, বাহার আলী সেগুলো ফেরত চাইলে ইউনুস জানান, ‘বুজুর্গ ও মুরব্বিদের’ পরামর্শে ফজরের নামাজের পর অলৌকিক এই পাথরগুলো তিনি আবার তার বাবার কবরে রেখে এসেছেন।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তবে গ্রামের কাউকেই না জানিয়ে, কাকডাকা ভোরে একা একা কবরে পাথর রেখে আসার এই দাবি বিশ্বাস করছেন না স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, মূল্যবান এই পুরাকীর্তি পাচার বা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই অলৌকিকতার নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কালুকান্দর গ্রামে।

পাথরগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে তিনবার শালিস বৈঠক ডাকা হলেও ইউনুস আলী মাত্র একটি বৈঠকে উপস্থিত হন। বাকি দুটি বৈঠকে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন।

উত্তেজিত গ্রামবাসী ইউনুসের বাড়িতে চড়াও হলে তাকে পাওয়া যায়নি। যদিও তার মা দাবি করেন, মুরব্বিদের পরামর্শেই পাথরগুলো কবরে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রামবাসীর কাছে অনুরোধ জানান যে, তার স্বামীর কবরটি আর পুনরায় খনন না করার জন্য যেন তারা সহযোগিতা করেন।

এদিকে, ইউনুসের নিখোঁজ থাকা এবং পরিবারের অসংলগ্ন কথাবার্তায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

এই বিষয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুর করিম আরজু জানান, পোরশার ওই অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রাচীন। এখানে মাটির নিচে হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের অস্তিত্ব থাকা স্বাভাবিক। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো প্রাচীন সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করে, তবে ওই অঞ্চলে খননকাজ পরিচালনা করে সরকারি উদ্যোগে পুরাকীর্তি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালুকান্দর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মূল্যবান এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যসেবায় শহর-গ্রামের উচ্চবৈষম্য নিরসনের কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


স্বাস্থ্যসেবায় শহর-গ্রামের উচ্চবৈষম্য নিরসনের কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রকে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংবিধানে। সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা যেন চিরকাল অধরা। জটিল নয়, সরলীকরণ করেও যদি বলতে হয়, দেশের স্বাস্থ্য খাত নিতান্তই ব্রাত্য। যুগের পর যুগ ধরে এই খাত নিজেই আক্রান্ত জটিল ও দুরারোগ্য রোগে। কখনো পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন হয়নি।

বৈষম্য ও বঞ্চনার চিত্র প্রতিটি শাখায় রয়েছে। শহুরে ও গ্রাম্য স্বাস্থ্য কাঠামোর মধ্যে বৈষম্য আজও দূর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যের নাজুক দশা কাটাতে চান। তিনি মনে করেন, ‘স্বাস্থ্য কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার’ বলে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

এই নীতিকে রাজনৈতিক কথাবার্তার বাইরে রেখে বাস্তবে রূপদান করে একটি উন্নত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

শহরের তুলনায় গ্রামে জনসংখ্যার হার বেশি। জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরে বসবাস করে ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ এবং গ্রামে ৬৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সংখ্যার দিক দিয়ে গ্রামে বসবাস করছে ১১ কোটি ৬১ লাখ মানুষ।

এবং শহরে ৫ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ বাস করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ হেলথ ওয়ার্কফোর্স স্ট্র্যাটেজি ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ গ্রামে বসবাস করলেও শহর এলাকায় চিকিৎসক-নার্সের তিন-চতুর্থাংশই সেবা প্রদান করেন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা কর্মী থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে নিদারুণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।

গ্রাম ও শহরের এই স্বাস্থ্য বৈষম্য দূর করতে সরকার সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য খাতে বর্ডৃতক রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। যেখানে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিজাত শ্রেণি ও প্রান্তিক জনগণ সরকারিভাবে সমান স্বাস্থ্যসেবা পাবে। ফিরবে সেবার সমতা। দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা যথেষ্টও প্রকাশ করেছে সরকার।

প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারপ্রধান তারেক রহমান গত মাসে সিলেটে এক সুধী সমাবেশে জানান, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের দায়িত্ব হবে গ্রামে-গ্রামে, ঘরে-ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির। শহরেও তারা থাকবে, তবে আমরা গ্রাম নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেব।’

দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার ইচ্ছে রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তৃণমূল জনগণের স্বাস্থ্য সেবা সহজসাধ্য করার জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড চালু করার পরিকল্পনা বিদ্যমান। সরকারের উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো বিভিন্ন সংকটে ভারাক্রান্ত। শয্যা সংকটে পরিবেশদূষণের কারণে চিকিৎসাসেবা চলছে গাদাগাদি করে। জনবল ও সরঞ্জামের সংকটের মধ্যে রোগীরা সুফল পাচ্ছেন না। সব রকম ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে টাকার বিনিময়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে ছুটছেন।

কিছু ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করতে পারছে না। যাদের সাধ্য নেই, তাদের বাধ্য হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিক মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিস্তৃত, সুচিন্তিত এবং সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানোর উদ্যাগে সরকার ইতোমধ্যে ৫০ শয্যার ৪৯২টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ পর্যয়ে স্বাস্থ্যসেবা খাত আরও শক্তিশালী হবে। ৫টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার শিশু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ ছয় মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্যে এগোনো হবে। এ ছাড়া চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নারীদের জন্য ১ হাজার শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণেও পরিকল্পনা রয়েছে। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ সন্তান প্রসব ও নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার নিরাপদ স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানও বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ করছে। এখন থেকে সব মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পাবেন, আর্থিক অবস্থার বিবেচনায় নয়। এমন স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা হবে যাতে কোনো ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত না হন।’ প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর এই কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট, সরকার শহুরে সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব পরিকল্পনা আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর জীবনসঙ্গী জানেন শহরে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামে পরিস্থিতি সহজ নয়। সেখানে দূরত্ব ও ব্যয়ের কথা বিবেচনায় গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই ঘরেই সন্তান জন্ম দেন। জরুরি অবস্থায় দ্রুত সেবা তাদের জন্য ‘গরিবের ঘোড়ারোগ’ হয়ে যায়। তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলভিত্তি ও স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে ভাবা হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।’

সরকার যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেল অনুসরণ করে একটি সমন্বিত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সবার জন্য ডাক্তার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। একই সাথে উপজেলা পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। এমনভাবে পরিবর্তন করা হবে একদিকে যেমন শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হবে, তার চেয়ে সেবা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হবে যাতে শিশুদের জন্য চিকিৎসক, নারীদের জন্য চিকিৎসক, এবং ফিজিওথেরাপির জন্য চিকিৎসক থাকা নিশ্চিত হবে। একইসাথে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোও নতুনভাবে সাজানো হবে। যেহেতু ডিজিজ বার্ডেন পরিবর্তিত হয়েছে, অর্থাৎ আগে ছিল সংক্রামক রোগ, এখন লাইফস্টাইল ডিজিজ হচ্ছে, সে কারণে প্রতিটি জেলায় করোনারি কেয়ার ইউনিট, কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো বিষয়গুলোর দিকে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা নেবে।’

স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতের অচলায়তন ভাঙার সঙ্গে একটি সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শহর ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য সহায়িকা ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সরকারকেও কিছু বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। প্রথমত, উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে অর্থ বরাদ্দ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ ফোকাস দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসকদের গ্রামে অবস্থান করতে উৎসাহিত করতে হবে। যারা সীমিত সাধ্যের মধ্যেও চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল রেখেছেন, তাদের সাধুবাদ জানাতে হবে। তাদের জন্য ভালো বাসস্থান, নিরাপত্তা এবং সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, তাদের পেশাগত উন্নতির দিকে নজর দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব অভাব বা দুর্বলতা দূর করতে পারলে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে তা অর্জনের পথে চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ নেতা গ্রেপ্তার

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)। আজ বুধবার বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ)-এর অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য সাগির (২৯), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন রকি (৩৮), কোন্ডা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দীপ দাস (১৯) ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক আকাশ (২৯)।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের দাবি।

গ্রেপ্তার ৪ জনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাইমা রহমান ব্রাজিল সমর্থক কি না, তা জানা গেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


জাইমা রহমান ব্রাজিল সমর্থক কি না, তা জানা গেল!

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এর আগে ফুটবল ভক্তরা নিজেদের পছন্দের দল নিয়ে কথার লড়াইয়ে নেমেছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আলোচনায় এসেছেন।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের একটি পুরোনো ছবি তিনি শেয়ার করেছেন। ছবি শেয়ার করার সময় ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আপনারা কি রেডি?’।

এটি দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, জাইমা রহমান কি সত্যিই ব্রাজিল সমর্থক? বিশেষ করে ব্রাজিলের ছবি এবং সংশ্লিষ্ট সংগীত ব্যবহারের কারণে আলোচনার বিষয় আরও গতিশীল হয়েছে।

জানিয়ে রাখি, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করা ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ছবিতে রোনালদোকে বিমান থেকে নামার সময় হাতে ভিডিও ক্যামেরা ধরে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির ওপর বাংলায় লেখা ছিল, ‘আপনারা কি রেডি?’।

এছাড়া, সেই স্টোরিতে সার্জিও মেন্ডেজ অ্যান্ড ব্রাজিল ৬৬-এর গান সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ব্রাজিলের সাম্বা সংস্কৃতির ছন্দ ও লয় ফুটিয়ে তুলেছে।

ব্রাজিল ফুটবল দলের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত, আর বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশের কোটি কোটি সমর্থকের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তিরাও ব্রাজিল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এই স্টোরিটি ব্রাজিল ভক্তদের জন্য শুভেচ্ছা ও অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক পোস্টটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়া, গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করলেন রাবি শিক্ষার্থী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়া, গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করলেন রাবি শিক্ষার্থী!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন মতিহারের একটি ছাত্রাবাস থেকে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহফুজুর রহমান (২৩) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। মাহফুজুর রহমান রাবির ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বুধবার (১০ জুন) বিকালে নগরীর মতিহার থানার আমজাদের মোড় এলাকায় অবস্থিত আয়েশা টাওয়ার নামক ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমানের (২৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকালে মাহফুজুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে মোবাইল ফোনে এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এক সময় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওই মেয়ে তার এক সহপাঠীকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন।

এরপর ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে। বহু ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ফ্যানের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।

মাহফুজুর রহমানের এক সহপাঠী জানান, গত চার বছর ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিছুদিন আগে সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও পরে তা সমাধান হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও কোনো জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লাশ নামানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং কক্ষ থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়নি। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ওসি গোলাম কবীর জানান, লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। লাশ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ফ্রিজিং ভ্যানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%