প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কবর খনন করতে গিয়ে অলৌকিক চিহ্নযুক্ত হাজার বছরের পুরোনো ৫টি মূল্যবান পাথর সদৃশ বস্তু (তসবি) পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও অলৌকিক কারণ দেখিয়ে নিহতের পরিবার সেগুলো পুনরায় কবরে পুঁতে রাখার দাবি করেছেন, কিন্তু স্থানীয়রা তা মানতে নারাজ। এই মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আত্মসাৎ করা হয়েছে এমন অভিযোগে গ্রামের মধ্য তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল মারা যান। গ্রামের গোরস্থানে তার কবর খননের দায়িত্ব পান বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও শফিউদ্দিন নামে তিন ব্যক্তি। মাটি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে কালো, সাদা, ধূসর ও বাদামি রঙের ৫টি প্রাচীন পাথর সদৃশ বস্তু। বস্তুগুলোর নিচের অংশে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনগুলো দেখার পর কৌতূহলী গ্রামবাসী তা সাময়িকভাবে বাহার আলীর কাছে জমা রাখেন।
দাফন সম্পন্ন হওয়ার চার দিন পরে, মোস্তফা মণ্ডলের বড় ছেলে ইউনুস আলী তার মা ও ভাইদের দেখানোর কথা বলে বাহার আলীর কাছ থেকে পাথরগুলো নিয়ে যান। পরবর্তী দিন, বাহার আলী সেগুলো ফেরত চাইলে ইউনুস জানান, ‘বুজুর্গ ও মুরব্বিদের’ পরামর্শে ফজরের নামাজের পর অলৌকিক এই পাথরগুলো তিনি আবার তার বাবার কবরে রেখে এসেছেন।
তবে গ্রামের কাউকেই না জানিয়ে, কাকডাকা ভোরে একা একা কবরে পাথর রেখে আসার এই দাবি বিশ্বাস করছেন না স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, মূল্যবান এই পুরাকীর্তি পাচার বা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই অলৌকিকতার নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কালুকান্দর গ্রামে।
পাথরগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে তিনবার শালিস বৈঠক ডাকা হলেও ইউনুস আলী মাত্র একটি বৈঠকে উপস্থিত হন। বাকি দুটি বৈঠকে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন।
উত্তেজিত গ্রামবাসী ইউনুসের বাড়িতে চড়াও হলে তাকে পাওয়া যায়নি। যদিও তার মা দাবি করেন, মুরব্বিদের পরামর্শেই পাথরগুলো কবরে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রামবাসীর কাছে অনুরোধ জানান যে, তার স্বামীর কবরটি আর পুনরায় খনন না করার জন্য যেন তারা সহযোগিতা করেন।
এদিকে, ইউনুসের নিখোঁজ থাকা এবং পরিবারের অসংলগ্ন কথাবার্তায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুর করিম আরজু জানান, পোরশার ওই অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রাচীন। এখানে মাটির নিচে হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের অস্তিত্ব থাকা স্বাভাবিক। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো প্রাচীন সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করে, তবে ওই অঞ্চলে খননকাজ পরিচালনা করে সরকারি উদ্যোগে পুরাকীর্তি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালুকান্দর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মূল্যবান এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন