ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রিনা খান: পরীমনির কর্মকাণ্ড শিল্পী জাতির জন্য কলঙ্ক


রিনা খান: পরীমনির কর্মকাণ্ড শিল্পী জাতির জন্য কলঙ্ক

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে করা মারধরের মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তুলে গালমন্দ ও হুমকি দেন। এই ঘটনার ফলে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনা দেখা দেয়। আদালত প্রাঙ্গণের এই ঘটনা পরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ওই সাংবাদিকের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরীমনিকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকাই সিনেমার জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী রিনা খান মুখ খুলেছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘রাগের বশবর্তী হয়ে অনেকে হয়তো গালাগালি করে, এটা আসলে উচিত না। মিডিয়ার মাধ্যমেই আমরা কিন্তু পরিচিত হই। আমাদের সুনামটাও আসে মিডিয়ার মাধ্যমে, আমাদের দুর্নামটাও আসে মিডিয়ার মাধ্যমে। তাই আমরা এমন কোনো কথা বলব না, এমন কোনো ব্যবহার করব না যেটা শিল্পীদের উপর বর্তায়।’

আরও পড়ুন: তুমি বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ সৎমা: ইব্রাহিম আলি খান

রিনা খান পরীমনির বিতর্কিত এই কাণ্ডকে পুরো শিল্পী জাতির জন্য কলঙ্ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কেনো হাজার হাজার মানুষের সামনে খারাপ কথা বলব? এটা তো একজন শিল্পীর না, পুরো শিল্পী জাতির ওপর কলঙ্ক। এটা ঠিক হয়নি, কালকে আমি দেখেছি নিউজটা। তবে এভাবে গালাগালি করা উচিত না। আমি অলঅভার শিল্পীদের কথাই বলছি যে, আপনার কোনো ক্ষোভ থাকলে আপনি তাকে আলাদা ডেকে নিয়ে বলতে পারেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের আদালতে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে আদালত আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

শুনানিতে আসামি বর্ষার পক্ষের আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলায় ৪৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও কেউ তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু কেনার টাকা দেওয়া কিংবা ঘটনাস্থলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ প্রমাণ তদন্ত সংস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি। এসব বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যই যথেষ্ট ছিল।

তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বন্ধু মাহির তাকে ডেকে নেওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মাহির তাকে বলেছিলেন, ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো হবে; হত্যার কোনো পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। বন্ধুর ডাকে সেখানে যাওয়ার কারণে তাঁকে হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। এ সময় তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, ভুক্তভোগীকে হত্যার জন্য তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু জানান, তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে প্রায় এক মাস আগে থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। তদন্তে তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আয়লান ও মাহিরের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

ছাত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

যেভাবে খুন হন জোবায়েদ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন মো. জোবায়েদ হোসেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রী জানান, জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

এরপর এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তাঁরা সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিলেট ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


সুশৃঙ্খল উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিলেট ক্রিকেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায়

॥ সাঈদ মোহাম্মদ পিতু ॥

সিলেট, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : সিলেট একসময় ছিল প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরির একটি উর্বর ক্ষেত্র। প্রায় এক দশক ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর স্থবিরতার পর, সিলেট এবার তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের হারানো ক্রিকেটীয় গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ এবং পেসার এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহির মতো জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার উপহার দেওয়া এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে নিয়মিত লিগ, স্কুল ক্রিকেট ও বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার অভাব উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য টেকসই উন্নয়নের পথ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং অঞ্চলের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে দুর্বল করেছে। ফলে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার জন্য কোনো শক্তিশালী মঞ্চ পাচ্ছে না।

তবে সরকার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকদের সমন্বয়ে নতুন উদ্যোগ পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশা জাগিয়েছে।

অঞ্চল ভিত্তিক ক্রিকেটের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। বিসিবিও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট থেকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করেছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের ক্রিকেট কাঠামো পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক যুক্ত হয়েছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, ক্রিকেটের পুনর্জাগরণ মৌলিক জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য যথাযথ উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

ক্রিকেট প্রশাসনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে পেশাদার রূপ দেওয়ার উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, সিলেটের ক্রিকেট উন্নয়নে ঐতিহ্যগত শক্তির সঙ্গে প্রতিভা বিকাশের আধুনিক পদ্ধতির সমন্বয় প্রয়োজন।

কাইয়ুম চৌধুরী বাসসকে বলেন, “ওই সময়ে সিলেট থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই নিজেদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিয়মিত লিগ ছিল না এবং খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রাপ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”

তিনি বলেন, সাবেক সংগঠক ও ক্লাব কর্মকর্তাদের আবারও ক্রিকেট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা চালু করা এবং বয়সভিত্তিক কর্মসূচি শক্তিশালী করাই হবে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে তরুণ ক্রিকেটারদের জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি হবে।

সিলেটের ক্রিকেট ইতিহাসে এ অঞ্চলের সম্ভাবনার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। রাজিন সালেহ, অলক কাপালি ও আবু হাসান রাজু বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। তাঁদের মধ্যে রাজিন একসময় জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক মানের পেসারও উঠে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাহি, খালেদ ও এবাদত। তবে তাঁদের উঠে আসার ঘটনা স্থানীয় ক্রিকেট উন্নয়ন কাঠামোর আরেকটি দুর্বলতাও সামনে এনেছে। তাঁদের অধিকাংশই সিলেটের ধারাবাহিক ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর মধ্য দিয়ে উঠে আসেননি।

পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে এবাদত ও খালেদকে খুঁজে পেয়েছিল বিসিবি। অন্যদিকে ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন রাহি।

সাবেক জাতীয় অধিনায়ক রাজিন মনে করেন, সুসংগঠিত ক্রিকেট কাঠামোর অভাবে তরুণ ক্রিকেটারদের একটি পুরো প্রজন্ম তাঁদের পূর্বসূরিদের পাওয়া সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

রাজিন বলেন, তাঁদের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সিলেটের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মাধ্যমে। এরপর তাঁরা সিলেট লিগে খেলেছেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকার লিগে অংশ নিয়েছেন, যা জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সোপান হিসেবে কাজ করেছে, “গত এক দশক ধরে সিলেটে কোনো যথাযথ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বা লিগ ছিল না। একসময় আমরা সিলেটে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছি, এরপর সিলেট লিগে উন্নীত হয়েছি। পরে আমি ঢাকায় এসে ঢাকা লিগে খেলেছি। একটি ব্যবস্থা ছিল, যেটি অনুসরণ করেই আমি ও অন্য ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছি।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক দশকে কোনো লিগ বা টুর্নামেন্ট ছিল না, স্কুল ক্রিকেটও ছিল না। তাহলে ক্রিকেটাররা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার মঞ্চ পাবে কীভাবে?”

তবে রাজিন মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে সরকার ও বিসিবির উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে চলেছে।

পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়াকে স্বাগত জানালেও তিনি মনে করেন, সিলেট থেকে মানসম্পন্ন ব্যাটার তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ব্যাটিং যখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, “বোলার খোঁজার কর্মসূচি রয়েছে এবং সেখান থেকে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন বোলার পেয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট থেকে কয়েকজন বোলার উঠে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে সিলেটের কোনো ব্যাটারের নাম কি বলতে পারবেন? আমি জানি, পারবেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের সবচেয়ে দুর্বল দিক ব্যাটিং- এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে সেটিই মনে হয়েছে। তাই সিলেটে ব্যাটিং প্রতিভা খুঁজে বের করতে একটি কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বিসিবির কর্মকর্তাদের প্রস্তাব দিয়েছি।”

এর মাধ্যমে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে খেলার একটি নির্দিষ্ট বিভাগকে প্রাধান্য না দিয়ে সব দিক অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ক্রীড়া কার্যক্রমের অবনতি শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং অভিজ্ঞ সংগঠকদের ক্রীড়া উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগের অভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে ক্রীড়াপ্রেমী অনেক মানুষ নিজ নিজ ক্রীড়া ক্ষেত্র থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও তিনি মনে করেন।

তবে নতুন সরকারের অধীনে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রশাসনে যুক্ত হওয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

ইতোমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে এসব কমিটিতে অভিজ্ঞ সংগঠক ও ক্রীড়ানুরাগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কাইয়ুম বলেন, “সিলেটের ক্রীড়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা একসঙ্গে কাজ শুরু করেছি। সাবেক সংগঠক এবং ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠক করেছি। তাঁদের আবারও কার্যক্রম শুরু করতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত জেলা ও বিভাগীয় লিগ আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণদের ধাপে ধাপে উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য একটি উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

অভিজ্ঞ এই সংগঠক বলেন, “আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করেছি। আমাদের হাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো একে একে বাস্তবায়ন করব। সরকার ও বিসিবি উভয় জায়গায় সঠিক দায়িত্বে সঠিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে আমরা প্রাথমিক কাজ শেষ করেছি। ক্রিকেট অঙ্গনে সিলেটকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে যা যা প্রয়োজন, আমরা সবই করব।”

ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও দেখা গেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিসিবি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগ দিয়েছে।

সম্প্রতি বিসিবির নিয়োগ পাওয়া সিলেটের কোচ রানা মিয়া বলেন, “জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কীভাবে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে বিসিবি আমাদের একটি নির্দেশনা দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সিলেট অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দল গঠন করেছি। বর্তমানে খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে অনুশীলন করছে। মূল লক্ষ্য হলো প্রতিভা চিহ্নিত করা, তাদের প্রস্তুত করা এবং দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইনকে শক্তিশালী করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মিজানুর, সদস্য সচিব শরিফুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মিজানুর, সদস্য সচিব শরিফুল

যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দুই সদস্য বিশিষ্ট। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে মিজানুর রহমান রাজ এবং সদস্য সচিব হিসেবে শরিফুল ইসলাম মিলন নিয়োগ পেয়েছেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত করা হয়েছিল। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই বিলুপ্তির তথ্য সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নামের মিলের কারণে কারাগারে থাকা আলমাছকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


নামের মিলের কারণে কারাগারে থাকা আলমাছকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

হাইকোর্ট নির্দোষ মো. আলমাছকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে, যিনি নামের মিলের কারণে কারাগারে রয়েছেন। বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার সকালে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

মো. আলমাছের বিরুদ্ধে দুই যুগ আগে দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলার সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। তবে তিনি ওই মামলার আসামি নন বলে দাবি করা হচ্ছে।

কারাগারে থাকা মো. আলমাছ উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে, প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর, ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে আলমাছ এবং দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আদেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তার তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অনুসন্ধান পরিচালনা করতে হবে। আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাছ এবং অস্ত্র আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলমাছ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মো. আলমাছ (পিতা–শেখ খলিল, মাতা–রশনারা/রাসনারা বেগম, গ্রাম–সুন্দরীপাড়া, ডাকঘর–কুসুমহাটি, থানা–দোহার, জেলা–ঢাকা) অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন।

অপরদিকে, পলাতক মো. আলমাছ (পিতা–মো. খলিলুর রহমান/খলিল আহম্মেদ/মো. আবুল খায়ের (খলিল), মাতা–সালমা আক্তার, গ্রাম–পূর্ব ধোয়াইর, ডাকঘর–দক্ষিণ বাহ্রা, ইউনিয়ন-নয়াবাড়ী, খানা–দোহার, জেলা–ঢাকা) মিরপুর থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

আজকের কার্যতালিকায় রিটটি ওঠে এবং আদালত আদেশের জন্য আজ রোববার দিন ধার্য করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%