মোঃ রাসেল সরকার (স্টাফ রিপোর্টার)
০১:৪৬ পি.এম
শাহজাদপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রবিউল রানা, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আমিন হোসেন এসময় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাসেল সরকার বিভিন্ন সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমবায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীল করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর,২০২৬) সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব সামসুল ইসলাম। উদয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সদস্য ঝলক তালুকদার এর সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত করেন মধ্যনগর থানা মসজিদের ইমাম হাফিজ মোঃ সাইকুল ইসলাম এবং
গীতা পাঠ করেন ঝলক তালুকদার। প্রধান অতিথি সুনামগঞ্জ এক আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল সাহেবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বি এন পির আহবায়ক মোঃ আবে হায়াত বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পি আই ও) মিজানুর রহমান, থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এর প্রতিনিধি উৎপল সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির মাস্টার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপজেলা পরিচালক জিয়াউর রহমান মঙ্গল দ্বীপ কো-অপারেটিভ এর সভাপতি ইউস দাজেল।
মধ্যনগর গ্রাম উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিদ্যা মিয়া, এবং মধ্যনগর অনির্বাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি বাবু গোপেশ তালুকদার,এ ছাড়া ও
আলোচনা সভার শেষে
সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়্ । সঞ্চয় ও ঋনদান ক্যাটাগরিতে মধ্যনগর উপজেলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে মধ্যনগর সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সম্পাদক রুবেল রায় এবং শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে মংগলদ্বীপ কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সভাপতি মহোদয় সমাপনী বক্তৃতায় বলেন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন,কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ ও দারিদ্র নিরসনের জন্য আমাদের সবাইকে সমবায়ী হয়ে আদর্শ সমবায় সমিতি গঠন করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"করবো সমবায়, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় রহনপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন— উপজেলা সমবায় অফিসার মতিউর রহমান, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমদ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য তরিকুল ইসলাম বকুল, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমেদ, আম আড়তদার সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দীন এবং স্বাস্থ্য সমবায় সমিতির সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
বক্তারা দেশের অর্থনীতিতে সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমবায় ভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : জাপানের পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো, যা ‘সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত, গত মাসে তাদের সাধারণ মোজার দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
এটি জানানো হয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
ইতালীয় ধাঁচের পারিবারিক রেস্তোরাঁ চেইন সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় খাবার ‘মিলানিজ ডোরিয়া’র দাম ২০ ইয়েন (প্রায় ১৩ সেন্ট) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ক্ষমা চাওয়ার সুরে বিবৃতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির জন্য নিজেদের যথেষ্ট চেষ্টা না করার বিষয়টিও স্বীকার করে।
বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অস্বস্তি থেকে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের অভিজ্ঞতায় দেশটির ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।
গত মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব জাপান) ঘোষণা দেয়, দেশটির মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে টানা ১৩ বছর দেশটিতে অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ২০১৩ সালে ঘোষিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যহ্রাসের প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা।
তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ার পর জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। জাপান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কারণ দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত।
পরবর্তী সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
- ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ-
বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়াতে পারলেও জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দেশটিতে পণ্যের দাম বাড়ানোকে অনেক ক্রেতা এখনো নেতিবাচকভাবে দেখছেন।
ক্রেতাদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কায় বড় ও ছোট—সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়াতে দ্বিধায় রয়েছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা অনেকাংশে দীর্ঘদিনের নিয়মিত ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওকায়ামা এলাকার ৬৮ বছর বয়সী রামেন দোকানের মালিক সাচি উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও এখনো খাবারের দাম বাড়াননি।
সম্প্রতি টোকিও সফরকালে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে যদি ২০০ ইয়েন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিই, তাহলে বছরের পর বছর ধরে যাঁরা আমার দোকানকে সমর্থন দিয়ে আসছেন, তাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। তাদের কাছে দুঃখিতও মনে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তাই আমার চিন্তা হলো, আমি নিজেই কষ্ট করে পরিস্থিতি সামলে নেব। আমার ধারণা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই এভাবে চিন্তা করেন।’
স্থানীয় গণমাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই ইউনিক্লো মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
অন্যদিকে, সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় ডোরিয়াসহ মেন্যুর প্রায় সব খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন একটি বিবৃতি দেয়, যাকে অনেকেই নিজেদের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখেছেন।
এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতে দাম আবার কমানোর সম্ভাব্য সব উপায় খুঁজে দেখার অঙ্গীকার করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিস্মিত করে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এর মধ্যে প্রতি গ্লাস মাত্র ১০০ ইয়েনের ওয়াইনও রয়েছে। এ বিষয়ে সাইজেরিয়ার জনসংযোগ বিভাগ এএফপিকে জানায়, ‘আমরা চাই মানুষ যেন সহজেই এটি উপভোগ করতে পারেন।’
‘অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে’
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য পণ্য কেনা কিংবা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য আগের তুলনায় কম অর্থ থাকছে। অন্যদিকে, এসব খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও শ্রমিকের মজুরি ও কাঁচামালের বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছে।
যদিও দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রকৃত মজুরি টানা আট মাস ধরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
টোকিওর এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কাজুহিকো সাতো বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাই এখন আমাকে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কারণ, দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম আরও বেশি।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাইরে খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি।’
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। দেশটিতে ঋণের সুদের হার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুতোমু ওয়াতানাবে বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া এ সুবিধা সবাই পাচ্ছেন না।’
তিনি এএফপিকে বলেন, জি-৭-এর অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতির হার জাপানের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি। তবে সেসব দেশে মজুরি তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয় করার প্রবণতা তেমন দুর্বল হয়নি।
অর্থনীতিবিদের মতে, জাপানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর মূল পার্থক্য এখানেই। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশটির অর্থনীতি।
তিনি বলেন, জাপানে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখনো ক্রেতাদের মনোভাবই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।
ওয়াতানাবে মনে করেন, মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে জাপানের ক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তনে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ‘টানা ৩০ বছর মূল্যহ্রাসের পরিস্থিতিতে থাকার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও আদর্শ রক্ষা এবং বছরের পর বছর সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে ‘নজরুল ভিলেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৮ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিপরীতের উন্মুক্ত স্থানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এই পরিবেশবান্ধব ও ব্যতিক্রমী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘নজরুল ভিলেজে’ একটি উন্মুক্ত ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ভারী বা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না, যাতে এটি একটি সম্পূর্ণ খোলামেলা ও সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই মঞ্চে বছরজুড়ে নজরুলের সাহিত্য, নাটক, পালাগান ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, যা নজরুল গবেষক ও নজরুল প্রেমীদের জন্য একটি স্থায়ী চর্চাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ গঠনে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শিল্পী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রাঙ্গণটি ছায়াঘেরা ও নির্মল রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বছরজুড়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে সারা বছর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, ‘রাজশাহীর মাটিতে জাতীয় কবির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনার বিস্তার ঘটাতে এই ‘নজরুল ভিলেজ’ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে নজরুল সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক ও দ্রোহের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এই উন্মুক্ত কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিপুল উদ্দীপনা দেখা গেছে।
স্থানীয় তরুণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, চার দেয়ালের আবদ্ধতা এড়িয়ে উন্মুক্ত স্থানে এমন একটি মঞ্চ তৈরি করায় এখানে যেকোনো সময় কবিতা পাঠ, চর্চা বা নাটকের মহড়া চালানো সম্ভব হবে, যা সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও তরুণ সমাজকে যুক্ত রাখতে কার্যকর অবদান রাখবে।
সুমাইয়া নামের এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের এই এলাকায় একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ভীষণ অভাব ছিল। বিশেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের এই মনোরম পরিবেশে যখন ‘নজরুল ভিলেজ’ ও ‘নজরুল মঞ্চ’ পুরোপুরি চালু হবে, তখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি জায়গা পাবে। এটি আমাদের এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।’
শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী জাহিন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তাঁকে শুধু বইয়ের পাতায় বা বিশেষ দিবসে স্মরণ না করে, বছরব্যাপী চর্চা করার জন্য এমন একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ দরকার ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোনো চার দেয়ালের বন্দী দালান না করে এটি উন্মুক্ত রাখায় আমরা যেকোনো সময় এখানে এসে কবিতা পাঠ বা নাটকের মহড়া করতে পারব, যা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ