১১:০৪ এম
উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’, যা ডিসি কমিকসের জনপ্রিয় খলনায়ক ‘ক্লেফেস’কে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ছবিটি মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বড় বাজেটের সুপারহিরো চরিত্রনির্ভর সিনেমাকে পিছনে ফেলে একটি তথ্যচিত্রের এমন সাফল্যকে ব্যতিক্রমী হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ২৪৩টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ আয় করেছে ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সপ্তাহান্ত শেষে ছবিটির মোট আয় ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর মুক্তির পর অঞ্চলটিতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
কমেডিয়ান নাথান ফিল্ডার এবং নির্মাতা ল্যান্স ওপেনহাইমের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত তথ্যচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত উদ্যোক্তা এলিজাবেথ হোমসের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তার প্রতিষ্ঠান থেরানোসের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান হোমস। একপর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন দাঁড়ায় কয়েক শ কোটি ডলারে।
আরও পড়ুন: পরীমনিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার জন্য নোটিশ
তবে এই সাফল্যের আড়ালে ছিল প্রতারণার অভিযোগ। থেরানোসের রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হোমস। এ ঘটনায় তাঁর ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়। তথ্যচিত্রে তাঁর উত্থান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পতনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ছবিটি নির্মাণে তিন বছরের বেশি সময় ব্যয় করেছেন ফিল্ডার ও ওপেনহাইম। হোমসের কারাজীবন শুরুর আগের ঘটনাপ্রবাহকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। নির্মাতাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ৯৯তম অস্কারে সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগেও ছবিটি জমা দেওয়ার।
এদিকে, বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসির ‘ক্লেফেস’। গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ৪৭৮টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটির আয় ৩৩ লাখ ডলার। মুক্তির পর অঞ্চলটিতে এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে।
জেমস ওয়াটকিনস পরিচালিত হরর সিনেমাটিতে ব্যাটম্যানের পরিচিত প্রতিপক্ষ ক্লেফেসের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটির আসল নাম ম্যাট হেগেন। একজন উঠতি চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে জীবন শুরু করলেও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পেতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসার আশ্রয় নেওয়ার পরই তাঁর জীবনে ঘটতে থাকে ভয়ংকর সব ঘটনা।
আরও পড়ুন: মাহি জিতলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট, পুয়ের্তো রিকোয় প্রতিনিধিত্ব করবেন
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাইকার স্টপ-মোশন অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ওয়াইল্ডউড’। গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ১০০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটির আয় হয়েছে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহান্ত শেষে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারে।
ট্রাভিস নাইট পরিচালিত ছবিটির গল্প এক কিশোরীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ভাই অপহৃত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারের অভিযানে এক সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে রহস্যময় এক জাদুর বনে প্রবেশ করে সে। প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত অ্যানিমেশন সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
সূত্র: ভ্যারাইটি
আরও পড়ুন: মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬ এর মুকুট জিতলেন সামিরা খান মাহি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন