ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বক্স অফিসে শীর্ষে হোমসের প্রতারণার তথ্যচিত্র, পিছনে ক্লেফেস


বক্স অফিসে শীর্ষে হোমসের প্রতারণার তথ্যচিত্র, পিছনে ক্লেফেস

উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’, যা ডিসি কমিকসের জনপ্রিয় খলনায়ক ‘ক্লেফেস’কে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ছবিটি মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বড় বাজেটের সুপারহিরো চরিত্রনির্ভর সিনেমাকে পিছনে ফেলে একটি তথ্যচিত্রের এমন সাফল্যকে ব্যতিক্রমী হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ২৪৩টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ আয় করেছে ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সপ্তাহান্ত শেষে ছবিটির মোট আয় ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর মুক্তির পর অঞ্চলটিতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

কমেডিয়ান নাথান ফিল্ডার এবং নির্মাতা ল্যান্স ওপেনহাইমের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত তথ্যচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত উদ্যোক্তা এলিজাবেথ হোমসের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তার প্রতিষ্ঠান থেরানোসের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান হোমস। একপর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন দাঁড়ায় কয়েক শ কোটি ডলারে।

আরও পড়ুন: পরীমনিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার জন্য নোটিশ

তবে এই সাফল্যের আড়ালে ছিল প্রতারণার অভিযোগ। থেরানোসের রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হোমস। এ ঘটনায় তাঁর ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়। তথ্যচিত্রে তাঁর উত্থান, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পতনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

ছবিটি নির্মাণে তিন বছরের বেশি সময় ব্যয় করেছেন ফিল্ডার ও ওপেনহাইম। হোমসের কারাজীবন শুরুর আগের ঘটনাপ্রবাহকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। নির্মাতাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ৯৯তম অস্কারে সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগেও ছবিটি জমা দেওয়ার।

এদিকে, বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসির ‘ক্লেফেস’। গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ৪৭৮টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটির আয় ৩৩ লাখ ডলার। মুক্তির পর অঞ্চলটিতে এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে।

জেমস ওয়াটকিনস পরিচালিত হরর সিনেমাটিতে ব্যাটম্যানের পরিচিত প্রতিপক্ষ ক্লেফেসের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটির আসল নাম ম্যাট হেগেন। একজন উঠতি চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে জীবন শুরু করলেও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পেতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসার আশ্রয় নেওয়ার পরই তাঁর জীবনে ঘটতে থাকে ভয়ংকর সব ঘটনা।

আরও পড়ুন: মাহি জিতলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট, পুয়ের্তো রিকোয় প্রতিনিধিত্ব করবেন

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাইকার স্টপ-মোশন অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ওয়াইল্ডউড’। গত শুক্রবার, উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ১০০টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটির আয় হয়েছে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহান্ত শেষে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারে।

ট্রাভিস নাইট পরিচালিত ছবিটির গল্প এক কিশোরীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। ভাই অপহৃত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারের অভিযানে এক সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে রহস্যময় এক জাদুর বনে প্রবেশ করে সে। প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত অ্যানিমেশন সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

আরও পড়ুন: মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬ এর মুকুট জিতলেন সামিরা খান মাহি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইসলাম, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বহুত্ববাদ, ইসলামি সভ্যতা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে মুসলিম সমাজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। তার চিন্তায় ইসলাম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস বা আনুষ্ঠানিক ইবাদতের বিষয় নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার, জ্ঞানচর্চা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক দায়িত্ব, সহমর্মিতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি।

আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি ইসলাম ও গণতন্ত্রকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখেন না। তার মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশও গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ধর্মের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা, উগ্রবাদ, দুর্নীতি ও জ্ঞানচর্চার দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন। ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি তিনি মুসলমানদেরও অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার, বোঝার এবং সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসলাম ও গণতন্ত্র পরস্পরবিরোধী নয়

আনোয়ার ইব্রাহিমের ইসলামবিষয়ক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইসলাম ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত সাময়িকী ‘জার্নাল অব ডেমোক্রেসি’-তে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘ইউনিভার্সাল ভ্যালুজ অ্যান্ড মুসলিম ডেমোক্রেসি’ ।

সেখানে তিনি লিখেছেন, স্বাধীনতা ও আত্মশাসনের আকাঙ্ক্ষা পৃথিবীর সব মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান। তাই সভ্যতার সংঘাতকে অনিবার্য ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। মুসলিম সমাজে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল বাস্তবতা। ইসলাম স্বভাবগতভাবেই গণতন্ত্রের বিরোধী—এমন দাবি ভিত্তিহীন এবং তা উগ্রবাদীদের যুক্তিকেই পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করে।

তার বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, গণতন্ত্রকে পশ্চিমা সভ্যতার একচেটিয়া সম্পদ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ। মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি অবশ্য গণতন্ত্রের নামে সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নহীনভাবে গ্রহণ করার কথা বলেননি। তার মতে, বিভিন্ন মুসলিম গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ ও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে, তবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না।

ধর্ম রাষ্ট্র ও সমাজে ঘৃণা নয়, সহমর্মিতা তৈরি করবে

২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক আলোচনায় আনোয়ার ইব্রাহিম ধর্ম, রাজনীতি ও বহুত্ববাদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আলোচনা করতে গিয়ে মানবিক সহমর্মিতার বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত হয়। অথচ বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের প্রয়োজন শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়; প্রয়োজন মানবিকতা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, ধর্ম ও বর্ণকে অনেক সময় মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিভেদ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক জীবনে ধর্মের ভূমিকা হওয়া উচিত মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহনশীলতা বাড়ানো। নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তিনি একজন মুসলমান এবং ধর্ম পালন করেন; কিন্তু ধর্মের কোনো বিষয়কে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এই বক্তব্যে তার চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশিত হয়। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পক্ষে নন, আবার ধর্মের নামে অন্যের অধিকার ও মর্যাদা অস্বীকারেরও বিরোধী। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের নৈতিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক বিদ্বেষের অস্ত্র বানানো হলে তার সামাজিক ও নৈতিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একই আলোচনায় তিনি বলেন, মালয়েশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং ইসলাম দেশটির ফেডারেশনের ধর্ম। কিন্তু দেশটির চীনা, ভারতীয়, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীও মালয়েশিয়ার জাতীয় পরিবারের অংশ। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের দৃষ্টান্ত হতে পারে, মালয়েশিয়াকে সেই উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

ইসলামবিদ্বেষের জবাব দিতে হবে জ্ঞান ও সংলাপ দিয়ে

ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় আনোয়ার ইব্রাহিমের অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক ফোরাম অন ইসলামোফোবিয়া: মিনিংফুল এনগেজমেন্ট থ্রু মাদানি ডিসকোর্স’-এ মূল বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষের জবাব শত্রুতা ও ঘৃণা দিয়ে নয়; বরং যুক্তি, জ্ঞান, সংলাপ এবং মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে দিতে হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসলামবিদ্বেষ বাস্তব সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় আরো কাজ প্রয়োজন। কিন্তু মুসলিম বিশ্বকেও নিজেদের পূর্বধারণা ও সংকীর্ণতা অতিক্রম করে পশ্চিমা সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে চিন্তার সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব ও মুসলিম সমাজ—উভয় পক্ষেরই নিজেদের চিন্তাগত দুর্বলতা পর্যালোচনা করা উচিত। অতীতের অন্যায় ও অবিচারের কথা স্মরণ করা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু শুধু অতীতের ক্ষোভ নিয়ে পড়ে থাকলে সমাধান আসবে না। মালয়েশিয়া সবার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও বোঝাপড়ার নীতি অনুসরণ করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আলোচনায় ইসলামের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বিদ্যমান অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা প্রয়োজন। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এমন সংলাপ হলে পরস্পরের অবস্থান ও উদ্বেগ বোঝা সহজ হবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেবল প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং জ্ঞান, যুক্তি, শিক্ষা, সংলাপ ও আন্তধর্মীয় বোঝাপড়াকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

কোরআন অবমাননার জবাব জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে

২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে জুমার খুতবা দিতে গিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলার বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি ঘৃণার জবাব অনুপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এর মোকাবিলা করতে হবে জ্ঞান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, সভ্যতার মধ্যে মতপার্থক্য বা সংঘাত থাকলেই অন্যের প্রতি ঘৃণা তৈরি করতে হবে—এমন নয়। একজন মুসলমানের উচিত অজ্ঞতার কারণে অন্যকে বিচার না করা। ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রেও শ্রদ্ধা, অনুগ্রহ ও করুণার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনার পর মালয়েশিয়া এক লাখ নয়, দশ লাখ কোরআনের অনুলিপি ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে কোরআন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে সহায়তা করে।

এখানে আনোয়ারের বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদ অবশ্যই করা যায়; কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা ও পদ্ধতিও ধর্মের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরা ঘৃণার পাল্টা ঘৃণার চেয়ে অধিক কার্যকর হতে পারে।

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিভক্তি অতিক্রমের আহ্বান

মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সম্পর্কে আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যে আবেগের পাশাপাশি বাস্তববাদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুসলমানদের ঐক্যের অর্থ ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে। বিভক্তি ও পারস্পরিক বিরোধ মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল করে এবং বাইরের শক্তির জন্য তাদের আক্রমণ, অপমান ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করে।

তিনি গাজা ও ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি থাকলে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা জরুরি। তাড়াহুড়া করে কিংবা সংকীর্ণ চিন্তা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত মুসলিম সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি মালয়েশিয়ার বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠা করা একটি শক্তিশালী অর্থনীতির পূর্বশর্ত। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু বড় প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়; দরিদ্র, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান নিশ্চিত করাও এর অংশ।

একই অনুষ্ঠানে তিনি মুসলিম তরুণদের নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্র অন্বেষণের আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ার প্রায় দুই লাখ তাহফিজ শিক্ষার্থীর জন্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির কথা বলেন। তার মতে, ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ শক্তি বাড়াতে পারে।

উম্মাহর জন্য প্রযুক্তি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আহ্বান

২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্রে ‘স্ট্রংগার টুগেদার: এ ভিশন ফর দ্য মুসলিম উম্মাহ থ্রু টেক, সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট’ শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভাষণের শুরুতেই তিনি আল-আজহারকে এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে জ্ঞান ও অনুসন্ধানের আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তিবাদের যুগের আগেই আল-আজহারের মতো প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানচর্চা ও নবজাগরণের ধারা বিকশিত হয়েছিল। তার বক্তব্যে আল-আজহারকে মুসলিম জ্ঞান-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ ক্ষমতায়ন। তিনি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সামাজিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, মুসলিম দেশগুলোকে শুধু অতীতের জ্ঞান ও সভ্যতার গৌরব স্মরণ করলে চলবে না; সেই জ্ঞানভিত্তিক ঐতিহ্যকে বর্তমানের গবেষণা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপান্তর করতে হবে।

এই বক্তব্যের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের চিন্তার মিল রয়েছে। তিনি মুসলিম পুনর্জাগরণকে কেবল রাজনৈতিক ঐক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে এর অপরিহার্য উপাদান হিসেবে দেখেন।

ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়

২০২৫ সালের ১৯ জুলাই মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া মসজিদে ‘মালয়েশিয়া বেরমুনাজাত ২০২৫’ অনুষ্ঠানে আনোয়ার মুসলিমদের ইসলামি জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আলেম ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে মুসলিমদের জ্ঞান, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ধর্মীয় উপলব্ধির সমন্বয় ঘটাতে হবে। প্রযুক্তিগত সাফল্য যদি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত না হয়, তাহলে মুসলিম দেশগুলো অন্যের তৈরি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার কেবল ভোক্তা হয়ে থাকবে।

তিনি বিশেষভাবে বলেন, কওমি বা পন্ডক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সুযোগ দিতে হবে। তারা যেন ইসলামি জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত থেকেও কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। কোরআন, হাদিস, ফিকহ, আইন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে মুসলিমদের জ্ঞানভান্ডার নতুন করে অন্বেষণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বক্তব্যে আনোয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা প্রকাশিত হয়েছে: আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে গিয়ে মুসলিমদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও ধর্মীয় জ্ঞান হারানোর প্রয়োজন নেই। বরং নিজস্ব জ্ঞান-ঐতিহ্যকে আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ফিলিস্তিন ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার

ফিলিস্তিন প্রশ্নে আনোয়ার ইব্রাহিমের অবস্থান তার মুসলিম বিশ্ববিষয়ক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত যৌথ আরব-ইসলামিক বিশেষ সম্মেলনে তিনি গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, গাজার নারী, পুরুষ ও শিশুরা নির্বিচার হামলার শিকার হচ্ছে। বাড়িঘর, হাসপাতাল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ও নিরাপদ থাকছে না। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামিক বিশেষ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা, গাজা পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিনের প্রশ্নকে শুধু মুসলিমদের বিষয় হিসেবে নয়, বরং মানবতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেন।

২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইপোহ শহরে এক বক্তব্যে তিনি গাজা পুনর্গঠনে সহায়তার উদ্যোগের সমালোচনাকারীদের জবাব দেন। বারনামার প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা। নিজেদের দেশের সমস্যা আছে বলে অন্য বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো যাবে না—এমন মানসিকতা ইসলাম শেখায় না।

এ বক্তব্যে তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, মুসলিমদের মধ্যে সংহতি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর অংশ। তবে তার বক্তব্যে মানবিক সহায়তার বিষয়টি মুসলিম পরিচয়ের বাইরেও বৃহত্তর মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।

মুসলিম সমাজের ভেতরের সংকট ও আত্মসমালোচনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি মুসলিম বিশ্বের সব সমস্যার দায় বাইরের শক্তির ওপর চাপান না। বরং মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, দুর্নীতি, বিভক্তি, অদক্ষ নেতৃত্ব এবং জ্ঞানচর্চার ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন।

২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুসলিম সমাজের উগ্রবাদী প্রবণতা মোকাবিলার দায়িত্ব প্রথমত মুসলমানদেরই নিতে হবে। মুসলিম সরকার ও রাষ্ট্রগুলো গণতান্ত্রিক পরিসর নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে উগ্রবাদী প্রবণতা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এর অর্থ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া নয়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি সমাজে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে।

তিনি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজের বাস্তবতা স্বীকার করার ওপর গুরুত্ব দেন। মুসলিমদের নিজেদের সমাজে মুসলিম হিসেবে বসবাসের অধিকার রয়েছে; কিন্তু অন্যদের ওপর ধর্মীয় বিধান জোর করে চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

এই বক্তব্য তার ধর্মীয় চিন্তায় রাজনৈতিক বাস্তববাদ ও নাগরিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি ধর্মীয় পরিচয়কে অস্বীকার করেন না, কিন্তু ধর্মের নামে জবরদস্তি বা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করার পক্ষেও নন।

আনোয়ারের চিন্তার তাৎপর্য ও সীমাবদ্ধতা

আনোয়ার ইব্রাহিমের ইসলামবিষয়ক বক্তব্যে তিনটি প্রধান প্রবণতা লক্ষ করা যায়। প্রথমত, ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান। তৃতীয়ত, মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের জন্য জ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নৈতিক নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব।

তার বক্তব্যে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ রয়েছে, কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় ঘৃণা বা সহিংসতার সমর্থন নেই। মুসলিম সমাজের প্রতি তার আহ্বান হলো, অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন, সংলাপ করুন, নিজেদের দুর্বলতা সংশোধন করুন এবং জ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করুন।

তবে তার চিন্তার মূল্যায়নে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। মালয়েশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও দেশটি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয়। ফলে ধর্মীয় পরিচয়, জাতিগত রাজনীতি, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আনোয়ারের বক্তব্যে এই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। তার ঘোষিত আদর্শ ও সরকারের বাস্তব নীতির মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে, তা বিচার করতে হলে নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘুদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো বিস্তৃত মূল্যায়ন প্রয়োজন। তার আলোচনার মূল ক্ষেত্র হলো ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয়।

ইতিবাচক চিন্তার মূল কথা

ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে আনোয়ার ইব্রাহিমের ইতিবাচক চিন্তার মূল কথা হলো, ইসলাম মানবিকতা, জ্ঞান, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ধর্ম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে উন্নত রাষ্ট্র হতে পারে। ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। ইসলামবিদ্বেষের জবাব দিতে হবে জ্ঞান, যুক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে; আর মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের জন্য প্রয়োজন ঐক্য, আত্মসমালোচনা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা।

তার বক্তব্যে অতীতের ইসলামি সভ্যতার গৌরব স্মরণের পাশাপাশি বর্তমানের বাস্তব সংকট মোকাবিলার তাগিদ রয়েছে। তিনি মুসলমানদের শুধু নিজেদের অধিকার দাবি করতে বলেননি; অন্যের অধিকার ও মর্যাদা স্বীকার করার কথাও বলেছেন। তার দৃষ্টিতে ধর্মের শক্তি মানুষের মধ্যে ঘৃণা তৈরি করা নয়, বরং ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠা করা।

আনোয়ারের চিন্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে—মুসলিম পুনর্জাগরণ শুধু রাজনৈতিক স্লোগান, আবেগ কিংবা অতীতের গৌরবচর্চার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানচর্চা, নৈতিক নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং বহুত্ববাদী সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে জেঁকে বসছে শীত, ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


পঞ্চগড়ে জেঁকে বসছে শীত, ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহের আভাস

পঞ্চগড় জেলার তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময় শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপের কারণে কিছুটা উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যার পর ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ফলে দিন ও রাতের আবহাওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে। ডিসেম্বরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিন শনিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরু থেকেই তাপমাত্রার ওঠানামা চলছে। ১ নভেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরের দিন ২ নভেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। এরপর ৩ নভেম্বর ১৯ দশমিক ৭, ৪ নভেম্বর ১৭ দশমিক ৪, ৫ নভেম্বর ১৯, ৬ নভেম্বর ১৭ দশমিক ৭, ৭ নভেম্বর ১৭ দশমিক ২ এবং আজ ৮ নভেম্বর ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৪ ও ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। তবে ২৯ অক্টোবর তাপমাত্রা বেড়ে ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। কয়েক দিন তাপমাত্রার ওঠানামা থাকলেও নভেম্বরের শুরু থেকে আবারও কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার সময় এবং সন্ধ্যার পর হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগ ও সকালে ঠান্ডার মাত্রা বেশি থাকে। তবে সূর্য ওঠার পর রোদের তাপে আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হয়ে ওঠে। ফলে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় এখনো গরমের অনুভূতি রয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও ধীরে ধীরে কমতে পারে। ডিসেম্বর মাসে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের সাধারণ পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা সাধারণত বেশি থাকে। পঞ্চগড় হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ জেলায় শীতের প্রভাব আগে অনুভূত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে বিএনপির বিশাল র‍্যালি, জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


কালিয়াকৈরে বিএনপির বিশাল র‍্যালি, জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে পিকআপযোগে একটি বিশাল র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কালিয়াকৈর থেকে শুরু হয়ে গাজীপুর-১ আসনের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চন্দ্রায় এসে শেষ হয়।

সকাল গড়াতেই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌর এলাকা থেকে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানসহ নেতাকর্মীরা চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসতে থাকেন। ধীরে ধীরে চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে, বাসস্ট্যান্ড চত্বর ও গোলচত্বর এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মহাসড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরাও এই মিছিল উপভোগ করেন। সমবেত হওয়ার পর বের হওয়া বিশাল র‍্যালিটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় পুরো এলাকা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। সেই চেতনাকে ধারণ করেই বিএনপি রাজনৈতিক ময়দানে এগিয়ে যাচ্ছে। উক্ত কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর-১ আসনের এমপি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে ঐক্য, সংহতি আর দেশকে ভালোবাসা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিয়েছিলেন, আমাদেরকেও সেই আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যের দিন। সেদিন যেমন সিপাহী আর জনতা এক হয়েছিল, আজও শ্রমিক, চালক, মালিক আর সাধারণ মানুষকে এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

র‍্যালির কারণে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। র‍্যালি শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্ব-স্ব এলাকায় ফিরে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাল চন্দনের চারা উৎপাদনে সফল বন গবেষণা ইনস্টিটিউট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


লাল চন্দনের চারা উৎপাদনে সফল বন গবেষণা ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মূল্যবান লাল চন্দন গাছের দেখা মিলেছে। টানা কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর বীজ থেকে এ দুর্লভ গাছের চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। এর আগে শ্বেত চন্দনের চারা উৎপাদন ও বাগান তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি সফলতা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে লাল ও শ্বেত চন্দন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্য হয়ে উঠতে পারে।

লাল চন্দনের ব্যবসা নিয়ে অনেক গল্প ও সিনেমা নির্মিত হয়েছে। এবার সেই দুর্লভ ও মূল্যবান চন্দন গাছের চাষ শুরু হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

দুই বছর ধরে চলমান লাল চন্দন চাষের গবেষণা অনেকটা সফলতার মুখ দেখছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। তবে এর আগে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া শ্বেত চন্দনের চারা উৎপাদন ও গাছ বড় করতে প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মো. শাহ আলম সময় সংবাদকে জানান, শ্বেত চন্দন ও রক্তচন্দন দুটোই অত্যন্ত মূল্যবান এবং দুর্লভ প্রজাতির গাছ। বাংলাদেশে এ প্রজাতির গাছের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ইনস্টিটিউট প্রথমবারের মতো এ ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে চন্দন কাঠে স্বাবলম্বী হওয়া এবং বিদেশ থেকে কাঠ আমদানির পরিবর্তে নিজেদের উৎপাদিত কাঠ রফতানি করা সম্ভব হবে।

প্রথমপর্যায়ে বন গবেষণা ইনস্টিটিউট একাধিকবার ভারত থেকে বীজ এনে চন্দন গাছের চারা উৎপাদনের চেষ্টা করেছে। তবে বারবারই সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরে স্থানীয় একটি চন্দন গাছের বীজ নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। এবার চারা উৎপাদন সম্ভব হলেও সেগুলো দ্রুত মারা যায়। পরে চন্দন গাছের পাশাপাশি অন্য গাছ বা হোস্ট প্ল্যান্ট লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। চন্দন গাছের বেড়ে ওঠার জন্য সহায়ক উদ্ভিদ হিসেবে এসব গাছ লাগানোর পরই চারা বাঁচিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সফলতা আসে। এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি শ্বেত চন্দনের চারা উৎপাদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. হাসিনা মরিয়ম বলেন, চারা উৎপাদন ও বাগান তৈরি সম্ভব হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছর পর গাছ থেকে কাঠ সংগ্রহ করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রতিবছর বৈধভাবে অন্তত ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চন্দন কাঠ বিক্রি হয়। এর মধ্যে শ্বেত চন্দনের বাজার প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। মূলত সুগন্ধি তেল তৈরিতে এ কাঠ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মূল্যবান প্রসাধনসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত লাল বা রক্তচন্দনের বাজার প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাবলিসিটি অফিসার এয়াকুব আলী সময় সংবাদকে জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে শ্বেত চন্দনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত গাছ দিয়ে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ।

বাংলাদেশে প্রতি কেজি শ্বেত চন্দন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং লাল চন্দন প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতিটি চন্দন গাছ পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে বীজ দিতে শুরু করে। তবে কাঠে প্রকৃত সুগন্ধ তৈরি হতে সময় লাগে অন্তত ২০ বছর। প্রতিটি চন্দন গাছের আয়ুষ্কাল প্রায় ১০০ বছর।

বিশ্ববাজারে চন্দন কাঠের বড় বাজার রয়েছে এবং বাংলাদেশও এখন সেই বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্বেত চন্দন গবেষণায় সফলতার পর রক্তচন্দন নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের আশা, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের পর চন্দন কাঠ অন্যতম প্রধান রফতানি খাত হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%