শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৫ পি.এম
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চলমান মাঠ জরিবের সরকার নির্ধারিত পূর্বের সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক স্থাপন করার প্রচেষ্টার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পূর্বের সীমানা ফলক এবং চলমান জরিপের নির্ধারিত নতুন সীমানা উপেক্ষা করে তাঁরা নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা না করেই সীমানা নির্ধারণের ফলক স্থাপন করার চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা ও ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রচলিত সীমানা এবং আগে স্থাপন করা সীমানা ফলককে পাশ কাটিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেতরে গিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি নথিতে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত থাকার পরও কীভাবে সেই সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গিয়ে নতুন করে পলাশবাড়ীর সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি, ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতু পার হওয়ার আনুমানিক ১০০ মিটার পূর্ব দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা শেষ হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শুরু। স্থানীয়দের দেখানো তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরোনো সীমানা ফলক রয়েছে। এতদিন সেটিই দুই জেলা ও উপজেলার সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
ওয়ার্ডটির সাবেক ঘোড়াঘাট পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মমিন বলেন, ‘আগে থেকেই দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। এরপরও কাউকে না জানিয়ে পুরোনো সীমানা ফলক না মেনে পৌরশহরের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে নতুন করে সীমানা ফলক তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরোনো সীমানা ফলক অনুযায়ী করতোয়া সেতু, সেতুর ওপারে একটি শ্মশানঘাট এবং সড়কের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন সীমানা ফলক কার্যকর হলে সেতু, শ্মশানঘাট, কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং সেতুর এ পাশের কয়েকটি বসতবাড়িও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে যাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, ‘পূর্বের সীমানা ফলককে মাথায় রেখে প্রশাসনিক সীমানাসংক্রান্ত নথি, মৌজা ম্যাপ ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।’
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।’
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু স্থাপনাটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই অর্থের অপচয় না করে এক পাশে ‘স্বাগতম ঘোড়াঘাট’ এবং অন্য পাশে ‘স্বাগতম পলাশবাড়ী’ লেখা যায় কি না, সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়রা না চাইলে সেটিও করা হবে না।’
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে ভবিষ্যতে শুধু সীমানা নিয়ে বিতর্কেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জমির মালিকানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাতক্ষীরা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার এসব মালামাল সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার কুশখালি, কাঁকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি’র আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে জব্দ করা হয়। জব্দের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, কসমেটিক্স, জিরা, কাজুবাদাম ও মদ।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুশখালি বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌরঙ্গী নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। একইভাবে, কাঁকডাঙ্গা বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি নামক স্থান থেকে ভারতীয় মদ জব্দ করেছে।
এছাড়া, মাদরা বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার বারেকের মোড় নামক স্থান থেকে ভারতীয় কসমেটিক্স, জিরা ও কাজুবাদাম জব্দ করে।
জব্দ মালামালের মোট বাজার মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ৭৭৮ টাকা। তবে, বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে চোরা কারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, মাদকদ্রব্যসমূহ সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধংসের জন্য বিজিবি ষ্টোরে জমা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর জেলা সদর ও গারো পাহাড়ি অঞ্চল, যা এক সময় মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির মাছের দ্রুত বিলুপ্তির সম্মুখীন। এক সময় নদ-নদী, খাল-বিল এবং জলাশয়গুলোতে মিঠা পানির মাছের প্রাচুর্য ছিল, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দূরবর্তী বাজারে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। মাছের দুর্মূল্যতা ও দুষ্প্রাপ্যতার কারণে জেলার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রধানত খামারের মাছই পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশীয় মাছের অভাবকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
স্থানীয় অভিজ্ঞ জেলে ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, শেরপুরের নদী, নালা, খাল ও বিলের দেশীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বহু প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। মৎস্য অধিদপ্তর বর্ষা মৌসুমে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেও তা কোনো কার্যকরী প্রতিকার বয়ে আনছে না। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষিক্ষেত বা বাড়িঘর তৈরি, জলমহালগুলোতে স্বেচ্ছাচারিতা, মাছের অভয়াশ্রমের পার্শ্ববর্তী জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ সৃষ্টি, সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ আহরণ এবং কারেন্ট জাল ও মশারি জালের যথেচ্ছ ব্যবহার মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের প্রধান কারণ।
জেলার বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে কৈ, মলা, চেলা, ঢেলা, টাকি, মাগুর, শিং, বাতাই, পাবদা, বৌ, টেংরা, গুলশা, বৈটা, খৈলিশা, দারকিকিনা, শোল, গজার, বাইম, পাপদা, চেং, বাঘাইর, গুজি, ভেদা, চিংড়ি সহ প্রায় ৬০-৬৫ প্রকারের মাছ। এছাড়া, রুই, কাতলা, কালবাউস, বোয়াল, গুতুম, স্বরপুটি, চান্দা, চিংড়ি, বাইম মাছও বিলুপ্তির পথে। ধলি বিলের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এখন কোনো বিলেই দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না।
জেলার বিভিন্ন বাজার-হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, খামারের মাছ দিয়েই বেশিরভাগ বাজার সয়লাব। যদিও মাঝে মাঝে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়, সেগুলোর দাম অত্যধিক চড়া এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মাছ বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, দেশীয় মাছ খুব কম পাওয়া যায় এবং ফড়িয়া-ব্যবসায়ীরা এগুলো জেলার বাইরে, বিশেষত রাজধানী ঢাকায় চালান করে দেয়। এ প্রসঙ্গে শেরপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, "কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মা ও পোনা মাছ নিধন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার দেশীয় মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংগঠিতভাবে টিকিট কেনাবেচা এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে টিকিট ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্লাবটি ৬৮৫টি সিজন টিকিট বাতিল করেছে।
মৌসুম শুরুর পূর্বে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছিল ইউনাইটেড। ক্লাবটি তদন্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে জানায়, ৬৮৫টি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও ৪৬৪ জন সমর্থককে তুলনামূলক কম শাস্তি অথবা চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইউনাইটেডের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংগঠিত টিকিট কালোবাজারির কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব চক্র টিকিট নিয়ন্ত্রণ, বিক্রি ও বিতরণের জন্য শত শত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত।
ক্লাবের ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সমর্থকদের টিকিট পাওয়ার ন্যায্য সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই টিকিট ব্যবস্থার এমন ‘গুরুতর অপব্যবহারের’ বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বাতিল হওয়া সিজন টিকিটগুলো এবার অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রকৃত সমর্থকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইউনাইটেড। ক্লাবটি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে টিকিটগুলো আবারও নিয়মিত সমর্থকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তদন্তে আরও ১ হাজার ৬১৭টি অ্যাকাউন্টকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’ শনাক্ত করা হয়েছে বলে ক্লাবটি জানিয়েছে।
তবে ইউনাইটেডের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সমর্থকদের একাংশ। সমর্থকগোষ্ঠী ‘দ্য ১৯৫৮’ চলতি সপ্তাহে সমর্থকদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বির আগে সিজন টিকিট নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে তারা। তাদের দাবি, এবার ক্লাব ‘সীমা অতিক্রম করেছে’।
এদিকে, যাদের সিজন টিকিট বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১৩ জন ক্লাবের তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেননি। আরও ৭৩ জন কোনো আপিল করেননি। আর ৪৯৯ জনের ক্ষেত্রে স্বাধীন আপিল বোর্ড নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই অভিযান টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কতটা কার্যকর হবে, সেটি ভবিষ্যতে ক্লাবের টিকিট ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিভাবক ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানকে আটক করে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর পৌরসদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৫ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। তিন বছর আগে আল আমিনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ১০ বছর বয়সী ছাত্রটি নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে মাদরাসার আবাসিক শাখায় অবস্থান করতে শুরু করে। গত প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। এ কারণে শিক্ষার্থীর পেটব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
শিক্ষার্থী অসুস্থতার কথা তার মাকে জানালে তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে টয়লেটে রক্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার ১১ দিন আগে শিক্ষার্থীকে আবার মাদরাসায় রেখে যান তার মা। এরপর আল আমিনের দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর শিশুটি আবারও তার মাকে বিষয়টি জানায়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, ছেলে ফোন করে তাকে বলেছিল, “মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। পেট ব্যথা করছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না।”
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে মাদরাসা ছাত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো হয়। এরপর ছাত্রের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসলে পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসার সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।
এদিকে, মাদরাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি জানান, অভিযোগের ঘটনায় আল আমিনকে আর মাদরাসায় রাখা হবে না।
অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্দোষ এবং শিশুটির অভিযোগ সত্য নয়।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদরাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আল আমিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ