১০:২২ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবার ছুটির গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে, যে তিনি দুই দায়িত্ব সামলানো সম্ভব কি না অথবা ছুটিতে যাচ্ছেন কি না, স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উনি বলেন, ‘ভাই, এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই!’
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জন্য ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঐতিহাসিক এই গৌরব অর্জনের পরে সকালে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করার পর এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীকে উৎসর্গ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের, এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তবে ১০ বছরের পথ আমরা ১০ সপ্তাহে পাড়ি দিতে পারতাম না।’ এ সময়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রম এবং টিম স্পিরিটের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন।
তবে, ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে সাংবাদিকরা তার ছুটির পরিকল্পনা কিংবা কূটনৈতিক মহলে চলা পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি বেশ নাটকীয় হয়ে ওঠে। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৪০ বছর আগে একটি ঐতিহাসিক নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তার একান্ত সচিব ছিলাম। তিনি পূর্ণকালীনভাবে দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে সামলেছেন।’
আজকের প্রযুক্তিগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘তখন ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। আর আজ আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটি কাজই একসঙ্গে করতে পারেন। এটা এখন খুব স্বাভাবিক।’
একই সঙ্গে জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আগেও পরিষ্কার করে দিয়েছি। অনেকেই বলেছেন, বর্তমানে যিনি জার্মানিতে আছেন, তিনি তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন; কিন্তু ওই পদ ছেড়ে তিনি কাজ করেছেন। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, তিনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন। তার দল গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যায়। এ কারণে তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি।’
আরও পড়ুন: চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ : প্রশাসক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন