এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৯:৪২ পি.এম
ফরিদপুরে ৪৫ বোতল স্কাফ কফ সিরাপসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হালিমা খাতুন (৩৩) নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে, ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার গোয়ালচামট এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে লিজা বিউটি পার্লারের সামনে পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে হালিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হেফাজতে থাকা একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৫ বোতল স্কাফ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যা কোডিন ফসফেট এবং ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইডযুক্ত ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, উদ্ধার করা প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে সিরাপ ছিল।
সুতরাং, মোট ৪ হাজার ৫০০ মিলিলিটার বা ৪ দশমিক ৫ লিটার স্কাফ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : মাসব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় ৭৭ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে, যা এক কোটি ৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এটা জানানো হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বলেন, গাছ আমাদের পরম উপকারী বন্ধু ও অর্থকারী ফসল। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হই, তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হই।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে গাছের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং, নিজে গাছ লাগাতে হবে এবং অন্যকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বৃক্ষ বিষাক্ত জ্বলীয় বাষ্পের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে, পাশাপাশি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমায়। বিভাগীয় কমিশনার পরিবেশ সংরক্ষণে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তৃতা করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। অনুষ্ঠানে নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম রয়েল এবং সাংবাদিক আল মাহমুদ প্রিন্সও বক্তব্য রাখেন।
জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বৃকমেলা নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য পাঁচজন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকর্মীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন।
এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ১১ আগস্ট ২০২৬ : যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অভ্যন্তরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেই। বরং, নতুন থানা ভবন নির্মাণের পর যথাযথ মর্যাদায় স্মৃতিস্তম্ভটি পুনঃস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম এই তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউএনডিপির অর্থায়নে বাংলাদেশের ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যশোর কোতোয়ালি থানার পুরনো ভবন ভেঙে ছয়তলা ভিত্তির চারতলা নতুন ভবন নির্মাণ করছে যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর।
মিরাজুল ইসলাম আরও জানান, ২৬ হাজার বর্গফুট থানার চত্বরে জায়গার অভাব থাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতিতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং ভবন নির্মাণের পর পুনঃস্থাপন করা হবে।
ব্রিফিংয়ের আগে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি আমাদের সকলের একটি আবেগ রয়েছে। সেই আবেগে আঘাত লাগে এমন কিছু পুলিশ করতে পারে না।
তিনি এ বিষয়ে জনগণকে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটি হয়তো রাখা হবে না- এমন ধারণা করে নাগরিকদের অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি আসলে সেরকম নয়। ভবন নির্মাণের পরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি যথাযথ মর্যাদায় সংস্কার করে পুনঃস্থাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের সময় আরও জানানো হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে যশোরে গত ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ২০০ মামলায় ২৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ২০৪ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলন্ত ট্রেনে অজ্ঞাত ব্যক্তির দ্বারা ছোড়া পাথরের আঘাতে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান আহত শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের বাবার হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসে যাত্রাকালে অজ্ঞাত ব্যক্তির ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন (২২)। পাথরের আঘাতে তার ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকদের মতে, ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি, তিনি মাথায়ও গুরুতর আঘাত পান।
ঘটনার পর তাকে জামতৈল রেলস্টেশনে নামিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
শিক্ষার্থীর এই দুর্ভোগে বাউবি কর্তৃপক্ষ তার পাশ দিয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বাউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের যেকোনো সংকট ও দুর্দিনে পাশে থাকার বিষয়ে আন্তরিক। সাব্বিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাসম্ভব পাশে থাকবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনার জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের সময়ে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমিকোহল এলাকায় এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়, ঢাকা জেলার হেমায়েতপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনকারী বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমিকোহল এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে কাউসার।
পরে, কাউসার বাসটিকে অনুসরণ করে সিংগাইর উপজেলার ভূমিকোহল এলাকায় পৌঁছালে বাসের গতিরোধ করে তিনিসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জন এসে বাসটির জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। এতে বাসে অবস্থানরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্বি আক্তার এবং ইতিহাস বিভাগ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা আক্তারসহ ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা বর্তমানে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনার জেরে মোটরসাইকেল আরোহী স্থানীয় কাউসারসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জন গ্যাস পাইপ দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টাফ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাসে হামলা ও ভাঙচুর করে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলার ঘটনায় ৩-৪ জন আহত হয়েছে। তবে এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এই ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ