০৪:২৫ পি.এম
বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পরও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বরিশাল নগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় সংঘটিত ওই মিছিল ও বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বাংলাবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে এ ধরনের মিছিল ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, বিস্ফোরণের প্রকৃতি এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, নগরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাফর আহাম্মেদ। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের দুর্বল ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা এ ধরনের সশস্ত্র মিছিল করার সাহস পাচ্ছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের কথা জানানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর একটি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র মিছিল ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠার পরও জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মামলাটির তদন্ত কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানানো হলেও অভিযানের অগ্রগতি কিংবা সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে মিছিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ককটেল বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসেবীসহ গ্রেফতার ১৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন