মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০১:৪৫ পি.এম
হাতের মেহেদির রং এখনো মুছে যায়নি, সংসারও শুরু হয়নি ঠিকমতো। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে নববধূ লিমা আক্তারের (২০)। বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিমা পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে মনোমালিন্য হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
স্বজনদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে লিমার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁর ভগ্নিপতিকে ফোন করেন একরামুল। পরে ভোর ৪টার দিকে লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, জিনিসপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে লিমাকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বামী একরামুলের দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের সানশেডে ওড়না দিয়ে লিমার মরদেহ ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি নিজেই মরদেহ নামিয়ে আনেন।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আয় বাড়লেও প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল মুনাফার পূর্বাভাস এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমার আশঙ্কায় জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স চাপের মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মূল ব্যবসা—মানসম্মত সিনেমা ও টিভি অনুষ্ঠান তৈরিতে অধিক মনোযোগ দিতে চায়। একই সঙ্গে, নিজেদের কনটেন্ট তৈরির কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টেড সারানডোস।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, নেটফ্লিক্সের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১২৮৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে, এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির আয়ের প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে কম হার প্রায় তিন বছরের মধ্যে। পাশাপাশি, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে মুনাফার যে পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠানটি দিয়েছে, তা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় কম।
নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হতে পারে ২৭৯ কোটি ডলার। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হতে পারে ৬৭ সেন্ট। অথচ বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস ছিল নিট মুনাফা ৩০৭ কোটি ডলার এবং শেয়ারপ্রতি আয় ৭৩ সেন্ট। এই পূর্বাভাস প্রকাশের পর মঙ্গলবার লেনদেন-পরবর্তী সময়ে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৬৪ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পূর্বাভাসও কমিয়েছে নেটফ্লিক্স। পূর্বে এ খাত থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা থাকলেও, এখন তা কমিয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ডলার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনসংশ্লিষ্ট কিছু সুবিধা চালুর কাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোনোয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা।
মূল কনটেন্টে ফিরতে চায় নেটফ্লিক্স
আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিডিও গেম, পডকাস্ট ও সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে নেটফ্লিক্স। তবে ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে দর্শকসংখ্যা বাড়ায় প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে, নেটফ্লিক্স কিভাবে নতুন দর্শক টানবে এবং পুরনো গ্রাহকদের ধরে রাখবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।
বিনিয়োগ বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিপি ফোরসাইটের পাওলো পেসকাতোরের মতে, নেটফ্লিক্স এখনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও, মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে এমন কিছু কাজে মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো দর্শকদের কাছে ততটা আকর্ষণীয় নয়। তাঁর মতে, দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরিতে আবারও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নেটফ্লিক্সের সহ-সিইও টেড সারানডোসও মূল ব্যবসায় মনোযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন। আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক ভিডিও কলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমরা আরো ভালো করতে পারি।’ তাঁর মতে, কনটেন্টের মান ও বৈচিত্র্য আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
সারানডোস জানান, সাম্প্রতিক নির্বাহী পর্যায়ের রদবদলও সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পদক্ষেপ। তিনি জানান, নেটফ্লিক্স এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে থাকতে চায়, যেখানে সৃজনশীল ব্যক্তিরা নিজেদের সেরা কাজ করতে আগ্রহী হবেন। পাশাপাশি, তৃতীয় পক্ষের তৈরি কনটেন্ট লাইসেন্সের মাধ্যমে নিজেদের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল
নেটফ্লিক্সের এই পরিবর্তনের উদ্যোগ এসেছে কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব বদলের পর। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা তাদের মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ। এর আগে কনটেন্ট বিভাগের প্রধান বেলা বাজরিয়াকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় ডিজনি ও ফক্সের সাবেক নির্বাহী পিটার রাইসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিনও প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দেয়। তবে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সারানডোস জানিয়েছেন, কৌশলে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে হবে।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিকে অধিগ্রহণের প্রতিযোগিতায় হেরে যায় নেটফ্লিক্স। প্রতিষ্ঠানটির সমৃদ্ধ কনটেন্ট সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত ডেভিড এলিসনের নেতৃত্বাধীন স্কাইড্যান্সের হাতে যায়। ভবিষ্যতে অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে, নেটফ্লিক্সের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকসংখ্যা ও ব্যবসার পরিস্থিতি বোঝাতে কিছু বাইরের তথ্য পুরোপুরি প্রতিনিধিত্বশীল নয়। সারানডোসের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এবং দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করা।
আয় বাড়লেও মুনাফার পূর্বাভাস ও বিজ্ঞাপন ব্যবসায় চাপ নেটফ্লিক্সকে নতুন করে নিজেদের অগ্রাধিকার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। এখন মূল কনটেন্টের মান বাড়ানো এবং দর্শকদের ধরে রাখার কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী প্রবৃদ্ধি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বুধবার (২১ অক্টোবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দুই দেশের সরকারপ্রধানদের ৩১তম নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস এবং রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বৈঠকে দুই দেশের সার্বিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি, শিল্প, কৃষি, পরিবহন অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতের যৌথ উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধানের যৌথ ঘোষণাপত্র এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসংক্রান্ত আরও কয়েকটি নথিতে সই করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব নথির বিস্তারিত বিষয়বস্তু বৈঠক শেষে প্রকাশিত হবে।
এবারের বৈঠকটি রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির স্বাক্ষরের ২৫ বছর পূর্তির সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই চুক্তিটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে, মিশুস্তিন এবং লি ছিয়াং তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্যদেশগুলোর সরকারপ্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে তাঁরা রাশিয়ায় পৌঁছান।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবারের বৈঠকে চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এবং জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৯৪টি পদের মধ্যে ১০০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণে এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র অনুযায়ী, শূন্য পদগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৮টি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৪৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ১৭টি। এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জনবলের অভাবে সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এক্সরে সেবাও বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এক্সরে মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এক্সরে ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সাধারণ রোগী দেখার জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র তিনজন। এতে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ রোগী সামলাতে হচ্ছে, ফলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সাতুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন এবং বাঘড়ীর এলাকার শাহিন শিকদার অভিযোগ করেছেন যে, চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কখনও কখনও চিকিৎসকের পরিবর্তে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীকে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যান্ডেজ এবং সেলাইয়ের মতো কাজ করানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, নাক-কান-গলা, সার্জারি, হৃদ্রোগ, চক্ষু, চর্ম ও যৌনরোগ, মেডিসিন, শিশু ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদেও জনবল ঘাটতি রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে পর্যাপ্ত জনবল নেই। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই আমিসহ তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ২০০ রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের এসব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করেও সমাধান পাওয়া যায়নি।’
রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এবং জনবল সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার নাগরিক সমাজ। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি সেচব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন সব গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতের (সোলার) মাধ্যমে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান।
উপ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। কৃষকদের যাতে সহজে ও কম খরচে জমিতে সেচ দিতে সুবিধা হয়, সেজন্য সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি আরও জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিএমডিএ’র সব ডিপ টিউবওয়েল সোলারের মাধ্যমে পরিচালনা করার নির্দেশনা রয়েছে। এতে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।
এ সময় বিএমডিএ’র অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম, সচিব মোঃ মেহেদী হাসানসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ