ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজের


প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজের

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে সরকার প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

মাঠপর্যায়ের ৩ হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদারকি আরও কার্যকর করার জন্য ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত

শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনাবাহিনীর দায়িত্ব এড়াতে পালাচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ইহুদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


সেনাবাহিনীর দায়িত্ব এড়াতে পালাচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ইহুদি

ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সামরিক দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বেড়ানোর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫ হাজার। রোববার সন্ধ্যায় ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য হাজার হাজার সামরিক তলব আদেশ জারির পর পালিয়ে বেড়ানো ব্যক্তির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য। তাদের হারেদি নামে পরিচিত।

এত বিপুলসংখ্যক মানুষ সামরিক পরিষেবা এড়ানোর পরও—এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়ার পরও—বাস্তবিকভাবে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াটি কার্যত স্থবির হয়ে আছে; হাতে গোনা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ১৪ জন হারেদি ইহুদি এবং অন্য সম্প্রদায়ের আরও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি মাসে এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। তবে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় অভিযানটি বাতিল করা হয়।

অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য পুলিশ সেনাবাহিনীর কাছে ৩০০ সেনাসদস্য চেয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। তাদের যুক্তি, সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলাদের গ্রেপ্তার করা সেনাবাহিনীর দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য সরকারকে জানানোর প্রত্যাশা ঢাকা: হুমায়ুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


বিদেশে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য সরকারকে জানানোর প্রত্যাশা ঢাকা: হুমায়ুন

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যদি ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশের সরকারের কাছে তা জানাবে বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে, যাতে ওই নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের প্রেক্ষিতে তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিক ফৌজদারি অভিযোগের কারণে গ্রেপ্তার হন, তাহলে সৌদি কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অন্তত তাদের জানা উচিত যে তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।’

একইভাবে, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে, যাতে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়, উল্লেখ করেন তিনি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য আদান-প্রদানে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইছি।’ তথ্য আদান-প্রদানে কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি সে আইনের আওতাভুক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের মূল বিষয় হচ্ছে তথ্য আদান-প্রদান, যোগাযোগ এবং এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রক্রিয়া।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধের বিষয়টিকে গভীর হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেন, সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদী।

ওআইসি বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আহ্বান

বিদেশ সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করে হুমায়ুন কবির জানান, তিনি আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা জোরদারবিষয়ক সম্মেলন (সিআইসিএ)'র শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

পরে তিনি ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে যান।

তিনি সফরটিকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন বৈঠকের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে।

ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণবিষয়ক একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহসভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না-- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরকালে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের মামলায় সাবেক ফার্মাস ব্যাংক পরিচালক সিদ্দিকী নাজমুল আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


দুদকের মামলায় সাবেক ফার্মাস ব্যাংক পরিচালক সিদ্দিকী নাজমুল আলম

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : সাবেক ফার্মাস ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) এর পরিচালক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সম্পদ বিবরণীতে অসংগতিপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বাসসকে এই তথ্য জানান।

গতকাল রোববার, দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. খায়রুল হক স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদন ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিসে বাড়ি কিনছেন ইসরায়েলিরা, ফিলিস্তিনপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


গ্রিসে বাড়ি কিনছেন ইসরায়েলিরা, ফিলিস্তিনপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। একের পর এক ফ্ল্যাট কিনে সেগুলো স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করা হচ্ছে।
 
এতে বাড়িভাড়া বাড়ছে, আর দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে তাদের পরিচিত পাড়া ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। ৬৯ বছর বয়সী স্থপতি টোনিয়া ক্যাটেরিনি ১৯৮৬ সাল থেকে এক্সারখিয়ায় বসবাস করছেন।

তিনি মনে করেন, সম্পত্তি কেনাবেচার কারণে এলাকাটি দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

 
কয়েক মাস ধরে ক্যাটেরিনি ও তার প্রতিবেশীরা সরকারি নথি দেখে বিদেশিদের কেনা বাড়ির একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করছেন।

মানচিত্রে দেখা যায়, এলাকার অনেক বাড়িই বিদেশিরা কিনেছেন।ক্যাটেরিনি ও তার দলের দাবি, এসব সম্পত্তিতে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ ইসরায়েলি।

 
তাদের হিসাব অনুযায়ী, এলাকায় নতুন তৈরি হওয়া কম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়ার আবাসনের অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলিদের মালিকানাধীন।

এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্য পরিচিত। এলাকার অনেক বাড়ির বারান্দায় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলতে দেখা যায়। দেয়ালেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নানা স্লোগান লেখা রয়েছে। এ কারণে সেখানে ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীদের সম্পত্তি কেনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

ক্যাটেরিনি জানান, তার নিজের রাস্তার দুটি ভবন ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন। তার ফ্ল্যাটের নিচের তলাটিও একটি কম্পানির মালিকানাধীন। সকালে পর্যটকদের স্যুটকেস টেনে নিয়ে যাওয়ার শব্দে প্রায়ই তার ঘুম ভেঙে যায়। এলাকার একটি ভবনের দেয়ালে লেখা রয়েছে, এয়ারবিএনবি আমাদের গৃহহীন করছে’ এবং ‘জায়নবাদীদের স্বাগত জানানো হয় না’।

অনেক ভবনে এখন বাসিন্দাদের নামের বদলে শুধু নম্বর দেখা যায়। দরজায় লাগানো বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যটকেরা চাবি সংগ্রহ করে ভেতরে প্রবেশ করেন। আন্দোলনকারীরা এসব যন্ত্র ও ভবনের দেয়ালে লাল রং ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা বাড়তে থাকায় বাড়িভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার পুরোনো পরিচয়।

গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে বিদেশি অনাবাসীদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। এথেন্সে বিদেশি বাড়ির মালিকদের জাতীয়তা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও একটি বার্ষিক সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজধানীর আশপাশের অ্যাটিকা অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইসরায়েলিরা ছিলেন সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। এরপর ছিলেন তুরস্ক ও লেবাননের ক্রেতারা।

এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৯৭৩ সালে কাছের এথেন্স পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। পরের বছর ওই সরকারের পতন ঘটে।

২০০৮ সালে এই এলাকায় পুলিশের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলেকজান্দ্রোস গ্রিগোরোপোলোস নিহত হন। তার মৃত্যুর পর গ্রিসজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দেশটির ঋণসংকটের কারণে জনঅসন্তোষ আরো বাড়ে।

এই বিক্ষোভ ও অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে বামপন্থী সিরিজা পার্টি ক্ষমতায় আসতে সহায়তা পায়। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কায় এক্সারখিয়ার পুরোনো বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, আবাসন ব্যবসার প্রসার যেন সাধারণ মানুষের বসবাসের অধিকার কেড়ে না নেয়।

ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদ, ফাঁকা হচ্ছে আবাসিক ভবন

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে বদলে যাচ্ছে আবাসনের চিত্র। একের পর এক ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুরোনো দোকান ও ক্যাফেও। এলাকাটিতে গত ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন ৪৬ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিও। একসময় এক্সারখিয়াকে তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের এলাকা হিসেবে চিনতেন।

পাপাজর্জিও বলেন, প্রথম দিকে বাড়ির মালিকেরা তাদের অতিরিক্ত ঘর ভাড়া দিতেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিভিন্ন কম্পানি পুরো আবাসিক ভবন কিনতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘এক রাতের মধ্যেই ভাড়াটিয়ারা উচ্ছেদ হলেন, আর আবাসিক ভবনগুলো ফাঁকা হয়ে গেল।’এরপর এলাকার শান্ত রাস্তাগুলোতে একের পর এক বার ও ক্যাফে গড়ে ওঠে। ফুটপাতজুড়ে বসানো হয় টেবিল-চেয়ার।

বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অভিবাসী ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো। তাদের অনেকেই ভবনের বেসমেন্ট ও নিচতলায় থাকতেন। বাড়িভাড়া বাড়ার কারণে তাদের অনেককে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়। বাসিন্দা কমে যাওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলোও শিক্ষার্থী হারায়। বন্ধ হয়ে যায় পুরোনো বইয়ের দোকান, ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে ও মুদি দোকান।

দীর্ঘদিন ধরে এক্সারখিয়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন ভবনে আশ্রয়হীন শরণার্থীদের থাকতে দিয়েছেন। পাপাজর্জিও জানান, এসব ভবনের কয়েকটি মূল্যবান জমিতে অবস্থিত হওয়ায় পুলিশ সেগুলো খালি করে দেয়। পরে ভবনগুলো বিক্রি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘এসব ভবনের প্রায় অর্ধেকই দখল করা ছিল। এখন আমাদের কাছে মাত্র একটি ভবন অবশিষ্ট রয়েছে।’ বর্তমানে ওই ভবনটি রঙিন কাপড়ে ঢাকা। এর মাধ্যমে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশীরা ওই পরিবারের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন। এক্সারখিয়ার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা বাড়তে থাকলে এলাকার পুরোনো বাসিন্দা, সামাজিক বন্ধন ও ঐতিহ্য আরো হারিয়ে যাবে।

মেট্রো নির্মাণ ও পর্যটনের চাপে বদলে যাচ্ছে এক্সারখিয়া

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় মেট্রো স্টেশন নির্মাণ ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় পরিবর্তন আসছে। তবে নতুন মেট্রো স্টেশন নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে এলাকাটি ধীরে ধীরে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে এবং পুরোনো বাসিন্দারা আরও সমস্যায় পড়বেন।

২০২২ সাল থেকে এক্সারখিয়া স্কয়ারে মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিওর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে এখন প্রতিদিন দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন থাকে। পাপাজর্জিও মনে করেন, এথেন্সের কেন্দ্রকে পুরোপুরি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন ঘটছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা টোনিয়া ক্যাটেরিনির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় সম্পত্তি কেনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলিরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন। এক্সারখিয়া স্কয়ারের কাছে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলছে। পর্যটকদের কেউ কেউ পতাকার সাদা অংশে ফিলিস্তিনবিরোধী বার্তা লিখে দেন। পরে আন্দোলনকারীরা সেই অংশ আবার সাদা রং করে দেন।

ক্যাটেরিনির মতে, অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ইসরায়েলের তুলনায় গ্রিসকে অর্থ বিনিয়োগের জন্য বেশি নিরাপদ মনে করেন। তিনি আরো বলেন, গ্রিসের সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে। গত আগস্টে গ্রিস ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের একটি ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি করে। এদিকে মেট্রো নির্মাণ, পর্যটন ও বিদেশি বিনিয়োগের কারণে এক্সারখিয়ার পুরোনো পরিবেশ কতটা বদলে যাবে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এক্সারখিয়া কেন আকর্ষণীয়?

এথেন্সের আবাসন ব্যবসায়ী ভেগেলিস লাজারিডিসের মতে, এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, একসময় এক্সারখিয়া ছিল একটি জরাজীর্ণ এলাকা। তাই সেখানে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কিনে উন্নয়ন করার সুযোগ ছিল। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

এলাকাটি এথেন্সের কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। সেখানে মেট্রো স্টেশন রয়েছে এবং আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহু বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এসব কারণে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনের ব্যবসারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাক্রোপলিসের কাছে অবস্থিত প্লাকা এলাকার তুলনায় এক্সারখিয়ায় ভবন নির্মাণের ওপর বিধিনিষেধ কম। এটিও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে বলে জানান লাজারিডিস।

তিনি বলেন, প্রথমে অল্প কয়েকজন ক্রেতা এই এলাকায় সম্পত্তি কেনেন। পরে তাঁদের বিনিয়োগ দেখে অন্যরাও এখানে সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী হন।

বিদেশি ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা ব্যয়বহুল করতে চায় গ্রিস

গ্রিসে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ কমাতে বিদেশি ক্রেতাদের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর ফলে দেশটিতে সম্পত্তি কেনা ইসরায়েলিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস ঘোষণা করেছেন, আগামী জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে হস্তান্তর কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। ইসরায়েলের সংবাদপত্র জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রিসে আবাসন কেনার প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনা ও ভালো মুনাফার আশায় অনেক ইসরায়েলি বিনিয়োগকারী গ্রিসে বাড়ি কিনেছেন।

তবে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো কর বাড়ানোর এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। ব্যবসায়ী ভেগেলিস লাজারিডিসের মতে, প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর না-ও হতে পারে কিংবা এর বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে। এখনো এটি আইনে পরিণত হয়নি। গ্রিসের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন কর চালু হওয়ার আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কিছু ক্রেতা বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পারেন বলে আশা করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।

নতুন নিয়মেও দুশ্চিন্তা কাটছে না বাসিন্দাদের

গ্রিসের এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকার বাসিন্দারা এখনো বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক হতে পারে। বেশি অর্থ থাকলে বিনিয়োগকারীরা নতুন নিয়মের মধ্যেও সম্পত্তি কেনার বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পারেন।

বাসিন্দারা মনে করেন, নতুন নিয়ম চালু হলেও যেসব ভবন ইতোমধ্যে পর্যটকদের স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর পরিস্থিতি সহজে বদলাবে না। তবে স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তার বাড়িওয়ালির পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে। এলাকার প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি বাড়িভাড়া বাড়াতে চান না।

পাপাজর্জিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িওয়ালি ভাড়া না বাড়ানোকে একধরনের প্রতিবাদ হিসেবে দেখেন। হাস্যরস করে পাপাজর্জিও বলেন, বাড়িওয়ালির হিসাবরক্ষক তাকে বলেছেন, ভাড়া না বাড়িয়ে তিনি যেন এলাকার আবাসনবাজারের স্বাভাবিক নিয়মই ভেঙে দিচ্ছেন।

এয়ারবিএনবির সংখ্যা কমেছে

গ্রিসের এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, সরকারি নতুন নিয়ম এবং তরুণ গ্রিকদের বাড়ি কেনার আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন এসেছে। তবে আবাসন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

ইউক্রেনের নাগরিক ইরিনা রোনদিয়াক এক্সারখিয়ার কাছে একটি আবাসন এজেন্সি পরিচালনা করেন। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ইসরায়েলি ক্রেতারা গ্রিসে সম্পত্তি কিনতে শুরু করলে তাঁর বিদেশি গ্রাহকদের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিলেন ইসরায়েলি। তাঁদের অনেকেই অফিস ভবন কিনে হোটেলে রূপান্তর করতেন।

রোনদিয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর কাছে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির প্রায় ৭০ শতাংশ কিনেছিলেন বিদেশিরা। কিন্তু চলতি বছর এই হার কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে। তিনি বলেন, ‘স্পিতি মু’ বা ‘আমার বাড়ি’ নামের সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন প্রকল্পের কারণে তরুণ গ্রিকরা আবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁর মতে, নতুন সরকারি নিয়মও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

গ্রিসের সংবাদমাধ্যম ‘তো ভিমা’র তথ্য অনুযায়ী, এক্সারখিয়াসহ মধ্য এথেন্সে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ ছাড়া, গ্রিসের ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রকল্পের আওতায় কেনা সম্পত্তি এখন শুধু দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া দেওয়া যাবে। তবে খালি অফিস ভবনকে আবাসিক ফ্ল্যাটে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগের একটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।

রোনদিয়াক বলেন, ‘আগে গ্রিসে বসবাসকারী মানুষ শহরের কেন্দ্রে বাড়ি খুঁজে পেতেন না। সবকিছুই এয়ারবিএনবির জন্য ব্যবহার করা হতো। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমেছে।’ তার মতে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তিনি আরো জানান, এথেন্সের দক্ষিণাঞ্চলের শহরতলিতেও প্রতি বর্গমিটারে বাড়িভাড়া ১০ থেকে ১৫ ইউরো পর্যন্ত বেড়েছে। 

অন্যদিকে, কিছু ফ্ল্যাট খালি পড়ে রয়েছে। কারণ, বাড়ির মালিকদের অনেকে মনে করেন, ভাড়া থেকে পাওয়া আয়ের তুলনায় করের খরচ বেশি। সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাপ কিছুটা কমলেও গ্রিসের আবাসন সংকট এখনো রয়ে গেছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%