প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যদি ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশের সরকারের কাছে তা জানাবে বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে, যাতে ওই নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের প্রেক্ষিতে তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি থাকার বিষয়টি সামনে আসায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিক ফৌজদারি অভিযোগের কারণে গ্রেপ্তার হন, তাহলে সৌদি কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অন্তত তাদের জানা উচিত যে তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।’
একইভাবে, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে, যাতে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়, উল্লেখ করেন তিনি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য আদান-প্রদানে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইছি।’ তথ্য আদান-প্রদানে কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি সে আইনের আওতাভুক্ত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের মূল বিষয় হচ্ছে তথ্য আদান-প্রদান, যোগাযোগ এবং এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রক্রিয়া।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধের বিষয়টিকে গভীর হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেন, সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদী।
ওআইসি বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আহ্বান
বিদেশ সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করে হুমায়ুন কবির জানান, তিনি আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা জোরদারবিষয়ক সম্মেলন (সিআইসিএ)'র শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
পরে তিনি ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে যান।
তিনি সফরটিকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন বৈঠকের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে।
ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণবিষয়ক একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহসভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না-- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরকালে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন