ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার


ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারুককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর বাজার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে রাতভর তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার কারণে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আরও দাবি করেন যে, তাকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নির্যাতনের সময় নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে ফারুক বলেন, "আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ- এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।"

তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত দুই নেতা। আমিরুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি শামীম হাওলাদার। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজহারী তুলে ধরলেন ঐক্যের দৃষ্টান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


আজহারী তুলে ধরলেন ঐক্যের দৃষ্টান্ত

ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সমাজের বিভিন্ন সংঘাত নিরসন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বের উপর একটি সুন্দর বার্তা শেয়ার করেছেন। তার শিক্ষণীয় পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো—

সব বিরোধের সমাধান শক্তির মাধ্যমে হয় না। কখনো কখনো প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার মানসিকতা সংঘাতকে ঐক্যে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) এর একটি অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

বাইতুল্লাহ সংস্কারকাজের সময় হাজরে আসওয়াদকে যথাস্থানে স্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠল— কে এই পবিত্র পাথরটি যথাস্থানে স্থাপনের সম্মানের অধিকারী হবে?

সম্মান পাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা দ্রুতই গোত্রগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধে পরিণত হলো। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে, যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারত। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে নবীজি (সা.) একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধান দিলেন।

তিনি একটি চাদর আনিয়ে তার ওপর হাজরে আসওয়াদ রাখলেন। এরপর প্রতিটি গোত্রের নেতাকে চাদরের একেকটি প্রান্ত ধরতে বললেন। সবাই মিলে পাথরটি নির্ধারিত স্থানের কাছে তুলে আনল। পরে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তা যথাস্থানে স্থাপন করলেন।

এভাবে সম্মানের অধিকারী হলো সবাই এবং একটি সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেমে গেল। কত সহজেই একটি বিরোধ রক্তপাতের কারণ হতে পারত! অথচ প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত সবাইকে প্রতিপক্ষের বদলে অংশীদারে পরিণত করল।

সত্যিকারের বিজয় সব সময় অন্যকে পরাজিত করার মধ্যে নেই; কখনো বিজয় হলো এমন একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া, যেখানে কেউ পরাজিত হয় না। বরং সবাই শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সহাবস্থান করে।

হাজরে আসওয়াদের সেই ঘটনা আজও শেখায়— ভাঙনের মুহূর্তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বড় অর্জন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনের এই সুমহান ঘটনা আমাদের শেখায় যে, যেকোনো জটিলতা, বিভেদ কিংবা সংকটে শক্তি বা জেদ না দেখিয়ে প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া উচিত। যদি সবাইকে আস্থায় নিয়ে এবং অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে সংকট মোকাবিলা করা যায়, তবে কেবল রক্তক্ষয়ী সংঘাতই এড়ানো যায় না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি, ঐক্য এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এই পরিদর্শনের সময়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।

বৈঠকের সময়, হাইকমিশনার উপাচার্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‍্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিক সাফল্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের জন্য।

আলাপচারিতায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবীর তার পূর্ববর্তী পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং দেশটির উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, "দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।"

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে তার দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি 'পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর'-এর অধীনে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (IT), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স এবং সোলার টেকনোলজির মতো প্রতিশ্রুতিশীল খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আলোচনা শেষে, হাইকমিশনার ও উপাচার্য যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং একাডেমিক সুবিধাগুলো পরিদর্শন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা জেলা কমিটির সাথে উপজেলা কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা জেলা কমিটির সাথে উপজেলা কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দের সাথে উপজেলা কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা ইউনিটের অস্থায়ী কার্যালয়ে এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাসুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী,
মোহাম্মদ একদিল হোসেন,
সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মানিক, প্রচার সম্পাদক শাহ আলম সরকার,
মির্জাপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান,
কালিহাতী উপজেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ মহসিন হাবিব সবুজ, এখন বাড়ি উপজেলা কমিটির ধনবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি ইমাম হাসান সোহান, নাগরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঘাটাইল উপজেলা কমিটির সভাপতি
ইয়ামিন হাসান, ভুয়াপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার,
বাসাইল উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক জিয়ারত হক জুয়েল, দেলদুয়ার
উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান খান, নাগরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বাবু, মধুপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, কালিহাতী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার সরকার, এলেঙ্গা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল ইসলাম পাপন, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের সামরিক অভিযান, ইয়েমেনে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


হুথিদের সামরিক অভিযান, ইয়েমেনে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত গতির সামরিক অভিযান দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক তেল বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। উত্তর ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি তারা সরকারপন্থি বাহিনীর কাছ থেকে নতুন এলাকা দখল করেছে।

এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি সৃষ্টি করেছে তারা। এই প্রণালি এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো হুথিদের হামলার হুমকিতে রয়েছে।

সামরিক কাঠামোর দিক থেকে হুথিদের এক সময় অনানুষ্ঠানিক ও বিচ্ছিন্ন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাদের ‘র‍্যাগট্যাগ ফাইটিং ফোর্স’ বা অপরিকল্পিত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। তবে গত দুই দশকে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বর্তমানে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের ভেতরে হামলা চালানোর পাশাপাশি দখলদার ইসরাইল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধেও হামলা চালিয়েছে। হুথিদের হাতে ঠিক কত অস্ত্র রয়েছে, তা জানা যায় না। তবে তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

হুথি গোষ্ঠী কারা

হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ, যার অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’। ধর্মীয় নেতা হুসেইন আল-হুথি ১৯৯৪ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। জাইদি শিয়া মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠী উত্তর ইয়েমেনের জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়।

হুসেইনের ভাই আবদুল-মালিক আল-হুথির নেতৃত্বে ২০০০-এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে জড়ায় হুথিরা। তাদের স্লোগান হলো—‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আমেরিকার মৃত্যু, ইসরাইলের মৃত্যু, ইহুদিদের ওপর অভিশাপ, ইসলামের বিজয়।’

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের তীব্র পর্যায়ে রাজধানী সানা–সহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ দখল করে নেয় হুথিরা। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সরকারপন্থি বাহিনী, যাদের সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট সমর্থন করে।

২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। মূলত দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের ওপর চাপ তৈরির অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক

হুথিরা ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তবে অন্তত ২০০০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ইরান তাদের আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানি এই সহায়তার একটি বড় অংশ তদারক করতেন বলে ধারণা করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনি নিহত হন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সংগঠনেরও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহ অন্যতম। ইরাক ও সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর সদস্যদের সঙ্গে হুথি নেতাদের বৈঠকের তথ্যও পাওয়া গেছে।

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

হুথিদের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাইরে তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত বলে মনে করা হয়।

তবে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে তাদের সক্ষমতা রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরও রয়েছে, যা সানা থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা জটিল ও ব্যয়বহুল। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের নিজেদের পক্ষে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থাকার সম্ভাবনা কম। বরং এগুলো ইরান থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%