বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৭ পি.এম
ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত গতির সামরিক অভিযান দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক তেল বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। উত্তর ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি তারা সরকারপন্থি বাহিনীর কাছ থেকে নতুন এলাকা দখল করেছে।
এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি সৃষ্টি করেছে তারা। এই প্রণালি এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো হুথিদের হামলার হুমকিতে রয়েছে।
সামরিক কাঠামোর দিক থেকে হুথিদের এক সময় অনানুষ্ঠানিক ও বিচ্ছিন্ন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হতো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাদের ‘র্যাগট্যাগ ফাইটিং ফোর্স’ বা অপরিকল্পিত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। তবে গত দুই দশকে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের ভেতরে হামলা চালানোর পাশাপাশি দখলদার ইসরাইল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধেও হামলা চালিয়েছে। হুথিদের হাতে ঠিক কত অস্ত্র রয়েছে, তা জানা যায় না। তবে তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
হুথি গোষ্ঠী কারা
হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ, যার অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’। ধর্মীয় নেতা হুসেইন আল-হুথি ১৯৯৪ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। জাইদি শিয়া মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠী উত্তর ইয়েমেনের জন্য আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়।
হুসেইনের ভাই আবদুল-মালিক আল-হুথির নেতৃত্বে ২০০০-এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে জড়ায় হুথিরা। তাদের স্লোগান হলো—‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আমেরিকার মৃত্যু, ইসরাইলের মৃত্যু, ইহুদিদের ওপর অভিশাপ, ইসলামের বিজয়।’
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের তীব্র পর্যায়ে রাজধানী সানা–সহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ দখল করে নেয় হুথিরা। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সরকারপন্থি বাহিনী, যাদের সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট সমর্থন করে।
২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। মূলত দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের ওপর চাপ তৈরির অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক
হুথিরা ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তবে অন্তত ২০০০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ইরান তাদের আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানি এই সহায়তার একটি বড় অংশ তদারক করতেন বলে ধারণা করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনি নিহত হন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সংগঠনেরও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহ অন্যতম। ইরাক ও সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর সদস্যদের সঙ্গে হুথি নেতাদের বৈঠকের তথ্যও পাওয়া গেছে।
মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
হুথিদের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাইরে তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত বলে মনে করা হয়।
তবে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে তাদের সক্ষমতা রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরও রয়েছে, যা সানা থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা জটিল ও ব্যয়বহুল। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের নিজেদের পক্ষে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থাকার সম্ভাবনা কম। বরং এগুলো ইরান থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে একসময় বিভিন্ন উদ্বেগের মধ্যে থাকা দেশটি এখন বিপরীত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। মুডিস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে পূর্বের তুলনায় অনেক কম শিশু জন্ম নিচ্ছে। এর ফলে দেশের জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাপান এবং ইউরোপের দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বয়স্ক হয়ে উঠেছিল, কিন্তু ভারত ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক দেশের তালিকায় প্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২০ সালের দিকে ‘বয়স বাড়ানোর’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৯ সালের মধ্যে দেশটি সম্পূর্ণরূপে ‘বয়স্ক’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং ২০৬৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আশঙ্কার বিষয় হলো, বয়স্ক থেকে অতি-বয়স্ক হতে ভারতের মাত্র ১৬ বছর লাগবে, যেখানে আমেরিকার জন্য এই সময়সীমা ১৯ বছর।
এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার হ্রাস। বিহার এবং উত্তর প্রদেশ বাদ দিলে, ভারতের জন্মহার এখন মাত্র ১.৬-এ নেমে এসেছে। যদিও মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন জন্মহার অনেক কম। এর ফলে ভবিষ্যতে কাজের জন্য মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা দিতে পারে। তাছাড়া, উন্নত দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বয়স্কদের পেছনে খরচ করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু ভারত তুলনামূলকভাবে কম আয় অবস্থাতেই বয়স্ক মানুষের চিকিৎসা এবং পেনশনের বিশাল খরচ বহন করতে বাধ্য হবে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চিত্র একরকম নয়। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। অন্ধ্র প্রদেশের মতো রাজ্যে জন্মহার এত কমে গেছে যে সরকার এখন তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য স্থানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরোনো নিয়ম এখনও কার্যকর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করেও জন্মহার বৃদ্ধি করতে পারেনি। তাই নতুন শিশু জন্ম নেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে বয়স্ক সমাজের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া ভারতে কাজের জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৩২ শতাংশ, যা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি বড় কর্মীবাহিনী তৈরি করা সম্ভব। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে, এই বার্ধক্য ভারতের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিএনপি গত ২০ বছর ধরে নানা নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে এবং জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে। তাই বিএনপি হুমকি-ধমকিতে ভীত হয় না। জনগণের সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মশাল মিছিল ও সমাবেশের শুরুতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম আরো বলেন, লংমার্চের জন্য আপনারা যে মহাসড়ক ব্যবহার করেছেন, সেই পথে সাধারণ মানুষও নজর দেয়নি। লংমার্চের নাম করে পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথা বললেও, আপনারা কয়েক'শ গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। তেল-গ্যাসের অভাবের কথা বলছেন, অথচ সেই কর্মসূচিতে লাখ লাখ লিটার তেল-গ্যাস অপচয় করেছেন। সংসদে এক কথা বলেন, আর সংসদের বাইরে বলেন আরেক কথা।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি গুপ্ত সংগঠন ১১ দলের ফুটবল টিম গঠন করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অহেতুক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের মানুষ সজাগ ও সচেতন। বিএনপির রয়েছে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা মোকাবেলা করার সক্ষমতা।
মশাল মিছিল ও সমাবেশে মোকামতলা উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চার স্তরে জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা অংশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ১,২৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ।
প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সেচ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের পর ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ১,৭৭৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে চার স্তরের বলয় তৈরি করা হয়েছে। এক হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে যাওয়ার পথে কুমিল্লার অংশে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, রাস্তার দুই পাশে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল এবং গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবুও বরিশালবাসী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বর্তমানে চাহিদার ৪০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে, ২৪ ঘণ্টা ধরে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। পিডিবির বিতরণ কোম্পানি ‘ওজোপাডিকো’ এবং ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় সাড়ে আটশ’ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত দুদিন ধরে ডে-পিক এবং নাইট-পিক আওয়ারে সাড়ে চারশ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি। তবে বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রমতে, তাপমাত্রার পারদ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে গত দুদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস উপরে উঠে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার সাথে সরবরাহের বিশাল ফাঁকির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ এ অঞ্চলের সব জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সকল চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হামের জন্য নির্দিষ্ট আইসিইউগুলোর বেডেও রোগীরা দুঃসহ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক শিফট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের শিকার হয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে। গরম এবং অন্ধকারে কোনো গ্রাহকই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে যেতে চাইছেন না। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই দিনের পর দিন লোকসান গুনছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, সে বিষয়ে ওজোপাডিকো এবং পিজিসিবিসহ আরইবি’র কোনো দায়িত্বশীল মহল কিছু বলতে পারছে না। তবে শীতকালে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আশা করছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ