প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে একসময় বিভিন্ন উদ্বেগের মধ্যে থাকা দেশটি এখন বিপরীত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। মুডিস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে পূর্বের তুলনায় অনেক কম শিশু জন্ম নিচ্ছে। এর ফলে দেশের জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাপান এবং ইউরোপের দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বয়স্ক হয়ে উঠেছিল, কিন্তু ভারত ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক দেশের তালিকায় প্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২০ সালের দিকে ‘বয়স বাড়ানোর’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৯ সালের মধ্যে দেশটি সম্পূর্ণরূপে ‘বয়স্ক’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং ২০৬৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আশঙ্কার বিষয় হলো, বয়স্ক থেকে অতি-বয়স্ক হতে ভারতের মাত্র ১৬ বছর লাগবে, যেখানে আমেরিকার জন্য এই সময়সীমা ১৯ বছর।
এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার হ্রাস। বিহার এবং উত্তর প্রদেশ বাদ দিলে, ভারতের জন্মহার এখন মাত্র ১.৬-এ নেমে এসেছে। যদিও মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন জন্মহার অনেক কম। এর ফলে ভবিষ্যতে কাজের জন্য মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা দিতে পারে। তাছাড়া, উন্নত দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বয়স্কদের পেছনে খরচ করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু ভারত তুলনামূলকভাবে কম আয় অবস্থাতেই বয়স্ক মানুষের চিকিৎসা এবং পেনশনের বিশাল খরচ বহন করতে বাধ্য হবে।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চিত্র একরকম নয়। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। অন্ধ্র প্রদেশের মতো রাজ্যে জন্মহার এত কমে গেছে যে সরকার এখন তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য স্থানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরোনো নিয়ম এখনও কার্যকর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করেও জন্মহার বৃদ্ধি করতে পারেনি। তাই নতুন শিশু জন্ম নেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে বয়স্ক সমাজের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া ভারতে কাজের জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৩২ শতাংশ, যা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি বড় কর্মীবাহিনী তৈরি করা সম্ভব। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে, এই বার্ধক্য ভারতের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন