প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল এবং গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবুও বরিশালবাসী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বর্তমানে চাহিদার ৪০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে, ২৪ ঘণ্টা ধরে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। পিডিবির বিতরণ কোম্পানি ‘ওজোপাডিকো’ এবং ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় সাড়ে আটশ’ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত দুদিন ধরে ডে-পিক এবং নাইট-পিক আওয়ারে সাড়ে চারশ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি। তবে বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রমতে, তাপমাত্রার পারদ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে গত দুদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস উপরে উঠে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার সাথে সরবরাহের বিশাল ফাঁকির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ এ অঞ্চলের সব জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সকল চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হামের জন্য নির্দিষ্ট আইসিইউগুলোর বেডেও রোগীরা দুঃসহ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক শিফট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের শিকার হয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে। গরম এবং অন্ধকারে কোনো গ্রাহকই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে যেতে চাইছেন না। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই দিনের পর দিন লোকসান গুনছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, সে বিষয়ে ওজোপাডিকো এবং পিজিসিবিসহ আরইবি’র কোনো দায়িত্বশীল মহল কিছু বলতে পারছে না। তবে শীতকালে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আশা করছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন