প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারুককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর বাজার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে রাতভর তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার কারণে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আরও দাবি করেন যে, তাকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নির্যাতনের সময় নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে ফারুক বলেন, "আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ- এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।"
তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত দুই নেতা। আমিরুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি শামীম হাওলাদার। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন