মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
০২:১২ পি.এম
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সংবাদ সম্মেলন করেছে। আন্তর্জাতিক এক দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে দলটির নেতারা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২ টায় গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, গত ৭ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত “গৌরীপুরে শ্রমিক নেতা হত্যাকাণ্ড: ৩ বিএনপি নেতা বহিষ্কার হলেও গ্রেপ্তার নেই, ক্ষুব্ধ পরিবার” শীর্ষক প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবাদটি সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তার বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে তাকে ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। শুক্রবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, মানিক হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহিদের নাম নেই এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্যেও তার সংশ্লিষ্টতায় কোনো অভিযোগ নেই।
বিএনপি নেতারা বলেন, হত্যা, নাশকতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে দলের অবস্থান স্পষ্ট। মানিক হত্যাকাণ্ড একটি নিন্দনীয় ঘটনা। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত বলেও তারা জানান। এছাড়া, উপজেলা ও পৌর বিএনপি, র কোন নেতা বহিষ্কার হয়নি বলে দাবি করা হয়; যারা বহিস্কার হয়েছে তারা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা।
তারা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। আগামীতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসকদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস ফিরে আনার জন্য তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।’
সেই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এছাড়া সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন রোগীরা আস্থা পান। হাসপাতালগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে শুধু হাসপাতালের ওপর দায় চাপালে হবে না, আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।’
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘সারা দেশে সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, নারীরা যাতে অগ্রাধিকার পায়।’
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ঢামেক ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ফলস্বরূপ কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জামিন্টন ক্যাম্পাজ ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে ক্যাম্পাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই পোস্টে তিনি সমর্থকসহ সবাইকে আরও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, জামিন্টন ক্যাম্পাজকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফুটবল ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, শ্রদ্ধা ও আশার জায়গা, আর ঘৃণা, ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতার ক্ষেত্র কখনোই নয়। ফেডারেশন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের কাছে এই হুমকির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কোয়র্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে কলম্বিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কলম্বিয়া ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। ঐ ম্যাচে ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার একটি ‘আত্মঘাতী গোল’ করেছিলেন। কলম্বিয়ার বিদায় ও দলের দেশে ফেরার কয়েক দিন পর্যন্ত মেডেলিন শহরে এসকোবারকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টির কারণ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মীর হাসান কামাল তাপস।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মুনসী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকার মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন "যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ" এর বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এর পদত্যাগ পত্র বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন হওয়ায় উক্ত শূন্য পদে মীর হাসান কামালকে ওই কমিটির অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সভাপতি পদে মনোনয়ন প্রদান করা হলো।
এক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য যে, মীর হাসান কামাল তাপস বর্তমানে কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর মতে, চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি মন্তব্য করেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই, ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা আবশ্যক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যোগ করেন, চিকিৎসকের পেশা শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি মহৎ দায়িত্ব। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তার পর সে চিকিৎসকের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে। তাই চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে মানবিকতা, পেশাগত নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরো সুদৃঢ় করতে হবে। রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান প্রদর্শন করে চিকিৎসা দিলে তা রোগীর মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেও সহায়তা করে। নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যাংকিং পেশায় কর্মজীবনের শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। চিকিৎসকদেরও একই মানসিকতা নিয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। করোনা মহামারি, হামের প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার বড় উদাহরণ। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকে এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই মানের সেবা পাওয়ার দাবিদার। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে জনগণের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের বিলম্ব করা যাবে না। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব গুণাবলি বজায় থাকলে চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আরো বেশি সম্মানিত ও আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ